Image description

সিলেটের দু’টি আসনে এখনো বিএনপি’র তরফ থেকে প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। কেউ কেউ বলছে; জোটবদ্ধ ভোট হলে বিএনপি দু’টি আসন ছেড়ে দিতে পারে। এ দু’টি আসন হচ্ছে সিলেট-৪ ও সিলেট-৫। জমিয়তে উলামা ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো জোটে যায়নি। সে কথা জানিয়েছেন দলের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক নিজেই। এরপরও ভেতরে ভেতরে জোট নিয়ে চিন্তার ডালপালা মেলছে। দেশের প্রধান দল বিএনপি’র সঙ্গে বোঝাপড়া চলছে জমিয়তের।

সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের প্রার্থী দলের সভাপতি মাওলানা ফারুক। জমিয়ত নেতারা বলছেন; এ আসনটি এবার তারা পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপি’র সঙ্গে তারা কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। তবে বিএনপি’র তরফ থেকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিএনপি কী এ আসন ছেড়ে দেবে সেটি নিয়ে চলছে নানা প্রেডিকশন। ২০১৮ সালে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে এ আসনটি জমিয়তকে ছাড় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জমিয়ত ফলাফল পায়নি। বরং ভোটের হিসেবে ছিল অনেক পার্থক্য। এবার জমিয়তের উলামায়ে ইসলাম সিলেটে আরও দুটি আসন চায়। এগুলো হচ্ছে সিলেট-৪ ও সিলেট-৬। সিলেট-৪ আসনে তাদের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ আলী। আর সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী ফখরুল ইসলাম। সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার পর নির্বাচনে মাঠে প্রচারণা শুরু করেন তিনি। আসনের গোয়াইনঘাটে তার নিজের বাড়ি। ভোট ব্যাংক রয়েছে তার উপজেলায়। জৈন্তাপুরে হরিপুরসহ কয়েকটি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ভোটও রয়েছে। লড়াই করার মতো ভোট আছে তার ঝুড়িতে। এই অবস্থায় প্রার্থী মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে নতুন ফর্মুলাসহ মাঠে নেমেছেন জমিয়ত নেতারা। জেলা কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা না করে এ আসনের জমিয়ত নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন এবারের নির্বাচনে এককভাবে নামছেন এডভোকেট মোহাম্মদ আলী। স্থানীয়ভাবে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জমিয়ত নেতারা জানিয়েছেন- শনিবার বিকালে জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজার মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জমিয়ত নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের (সিলেট-৪) বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আসনের জমিয়ত প্রার্থী এককভাবে নির্বাচন করবেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা হিলাল আহমদ। এতে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা জানান- জমিয়তের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে নির্বাচনে দলীয়ভাবে সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র সঙ্গে জোটগত সমঝোতা হলে সিলেট-৪ আসনটি তাদের দাবির তালিকায় থাকবে। তারা বলেন- মোহাম্মদ আলী এই আসনের শক্তিশালী প্রার্থী। জোট গঠিত হলে আমরা তার পক্ষে মনোনয়ন চাইবো। তবে জোট সমঝোতা না হলে বা জোট হলেও তাকে সমর্থন না দিলে কী হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে নেতারা বলেন- ‘মোহাম্মদ আলী সিলেট-৪ এর মাটি ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত নাম। এই আসনের মানুষজন তাকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। জমিয়ত যদি জোটে না যায়, তাহলে তো স্বাভাবিকভাবেই মোহাম্মদ আলী দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে নির্বাচন করবেন। আর যদি দল জোটে যায় এবং এই আসনে জোট থেকে তাকে সমর্থন না দেয়া হয়, তবে এই অঞ্চলের জমিয়ত স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন- ‘সিলেট-৪ আসনের মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি। জোটগত সমন্বয় হলে আমরা তা স্বাগত জানাই, তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হবে না। জোটের সমর্থন না পেলেও পিছিয়ে যাবো না। জনগণের খাদেম হতে স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচন করবো ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে এডভোকেট মোহাম্মদ আলীর এই সিদ্ধান্ত সিলেটে বিএনপি’র সঙ্গে জোটগত নির্বাচনের গতিপথ বদলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন নেতারা। কারণ; মোহাম্মদ আলী নির্বাচন করলে বড় একটি ভোট ব্যাংকের ভোট তার ঝুড়িতেই পড়বে। এতে করে তিনিও নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জমিয়তের কেন্দ্রীয় তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- জমিয়ত এখনো জোটের চিন্তা করছে না। এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। যদি জোট হয় সিলেট-৫ আসনের পাশাপাশি সিলেট-৪ ও সিলেট-৬ আসনও চাইবে। যেহেতু জোটের বিষয়টি পরিষ্কার না এজন্য একক প্রার্থী হিসেবে আমরা মাঠে আছি। মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন জমিয়ত নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- জমিয়ত জোটগত নির্বাচনে প্রথমে ৩১ আসন, পরে ২১ আসন ও সর্বশেষ ১৩ আসনে এসে প্রার্থী ঠেকিয়েছে। এর নিচে নামা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যদি তারা ১৩টি আসন পায় তাহলে সিলেট-৪ ও সিলেট-৬ আসন এ তালিকায় থাকবে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের দুটি আসনও তারা চাইবেন। জোটগত ভোটের আলোচনা হলে সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।