স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করেছিলেন ফাতেমা বেগম হেনা (৪৬)। সফলভাবে প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। কিন্তু স্বামী বাঁচলেন না। এত ত্যাগের পরও স্বামীকে বাঁচাতে না পেরে শোকে ভেঙে পড়েছেন দুই সন্তানের জননী ফামেতা।
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. বেলাল মোড়ল (৪৮) দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। আজ রোববার সকাল ৯টায় তিনি মারা গেছেন।
স্বামীকে কিডনি দান করে ফাতেমা বেগম নিজে এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। স্বামীর মুখের একটু কথা শোনার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু আগেই সবাইকে ছেড়ে গেলেন স্বামী বেলাল মোড়াল।
ফাতেমা বেগম হেনার বড় ভাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বেলাল মোড়ালের মৃত্যুর বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করে বলেন, আজ সকাল ৯টার পরপর বেলাল মোড়াল মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকাস্থ সিকেডি ইউরোলজি হসপিটালে ডা. মো. কামরুল হাসানের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছোট বোন ফাতেমা বেগম হেনা তাঁর স্বামীকে কিডনি দান করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অবশেষে সে (বেলাল মোড়াল) আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আল্লাহ তাকে পরপারে ভালো রাখুক।’
বাবাকে হারিয়ে পুত্র মো. ওমর ফারুক রাজু এবং কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস তানিয়ার কান্নায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসক মো. কামরুল হাসানের অধীনে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল সিকেডি ইউরোলজি হসপিটালে গত বৃহস্পতিবার রাতে সফলভাবে বেলাল মোড়লের দেহে স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কিডনি প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট) করা হয়।