Image description

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলাতে আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিলিয়ন ডলারের একটি অবকাঠামো প্রকল্পে কেলেঙ্কারির বিষয়ে জবাবদিহিতা দাবি করেছে। প্রকল্পের এই কাজে বহু সরকারি কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা এবং নির্মাণ সংস্থার মালিকদের ইতোমধ্যে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। খবর এএফপির।

১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপপুঞ্জের এই দেশটিতে তথাকথিত 'ভূতুড়ে বন্যা-নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প' নিয়ে ক্ষোভ গত কয়েক মাস ধরে বাড়ছে। এরমধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শক্তিশালী টাইফুনের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির অধিকাংশ শহর ডুবে যায়।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুলাই মাসে তার জাতীয় ভাষণে প্রথম এই বিষয়টি কেন্দ্রবিন্দুতে আনেন। এই ক্রমবর্ধমান কেলেঙ্কারিতে একজন কংগ্রেস সদস্য তার আত্মীয়সহ অনেক বন্ধু এবং শত্রু নির্বিশেষে জড়িয়ে পড়েছেন, এমন তথ্য বের হয়ে আসছে।

১৯৮৬ সালে মার্কোসের বাবাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সহায়তাকারী গণআন্দোলনের স্থান হিসেবে পরিচিত ম্যানিলার এডসা সড়ক ধরে আজ রোববার মিছিল করার সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘তাদের এখনই জেলে দাও!’

প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত রাজধানীর লুনেটা পার্কে বিক্ষোভকারীরা কুমির আকৃতির প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে পদ্ধতিগত দুর্নীতি অবসানের দাবি জানায়।

সমাবেশে যোগ দেওয়া ২০ বছর বয়সী ড্র্যাগ পারফর্মার জেসী ওয়ানালুভমি জে তার নির্ধারিত পারফরম্যান্সের আগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এই দুর্নীতির কারণে মানুষ মারা গেছে।’

এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের জনপূর্ত ও মহাসড়ক বিভাগের আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মাত্র কয়েক দিন আগে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ‘শিগগিরই আরও বড় রুই-কাতলার গ্রেপ্তারের খবর আসছে।’

তবে ফিলিপাইনের প্রভাবশালী জাতীয় গির্জা পরিষদের মেরভিন টোকুয়েরো এএফপিকে জানান, তিনি অসন্তুষ্ট। ৫৪ বছর বয়সী টোকুয়েরো বলেন, ‘উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্মতি ছাড়া এই দুর্নীতি হওয়া অসম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘(তাদেরও) জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

নাতনির সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ৬৮ বছর বয়সী আজোন তোবিয়ানো জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের আহ্বানের পর তিনি পার্কে এসেছেন।

তোবিয়ানো বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি আশা করি প্রেসিডেন্ট তার আত্মীয় বা সিনেটর যেই হোক না কেন, দায়ীদের জেলে দিতে প্রতিশ্রুতি দেবেন।’

ফিলিপাইনে সরকারি তহবিল নিয়ে কেলেঙ্কারির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশটিতে দুর্নীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদরা সাধারণত গুরুতর কারাদণ্ড এড়িয়ে যান।

এদিকে, রোববারের সমাবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৭ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে ২০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।