দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নীতিমালা তৈরি, মানবণ্টন প্রকাশ, নমুনা প্রশ্নসহ সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। ঠিক সেই সময়ে সামনে এসেছে আইনি জটিলতা। দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সেই ‘অনিশ্চয়তা এড়াতে’ বিকল্প পথে হাঁটছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ রেখে করা এবারের নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকরা। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন— বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এতে আটকে গেছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা।
আইনি জটিলতায় পড়ে অবশ্য বসে নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। পাশাপাশি কৌশলে পরীক্ষার নাম থেকে ‘বৃত্তি’ এড়িয়ে ‘মেধা যাচাই’ করছে। একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন হলেও নামের ভিন্নতায় মেধা যাচাই পরীক্ষা আয়োজনে থাকছে না কোনো আইনি বাধা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, আগামী ২১-২৪ ডিসেম্বর বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সব প্রস্তুতি শেষ করার পরও বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চ আদালতের রায় যদি স্থগিত না হয়, তাহলে ডিসেম্বরে ঘোষিত সময়সূচি মেনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। আর ডিসেম্বরে বৃত্তি পরীক্ষা না নিলে এ বছর তা আর আয়োজনের সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে ‘মেধা যাচাই পরীক্ষা’ নামে বিকল্প পথে হাঁটছে অধিদপ্তর।
যে কারণে ঝুলে গেছে বৃত্তি পরীক্ষা
বৃত্তি পরীক্ষার নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শুধু দেশের সরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের মধ্যে থেকে ৪০ শতাংশ পরীক্ষা দিতে পারবে। নীতিমালার এমন নিয়মে ক্ষুব্ধ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মো. ফারুক হোসেন, শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিসহ ৪২ জন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালার আলোকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করতে নির্দেশ দেন আদালত। এ লক্ষ্যে ১৫ দিনের মধ্যে চিঠি ইস্যু করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২৬ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লিভ টু আপিল করেছেন। অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘লিভ টু আপিলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে শুনানি হতে পারে।’
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার পথ খুলেছে। রায়ে ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরিচালনা নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী- সব বেসরকারি অর্থাৎ, বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, রেজিস্টার্ড কিন্ডারগার্টেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রেজিস্টার্ড বা অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত বা স্থাপনা ও প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত চালু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে ‘
আমরা যারা বেসরকারি বিদ্যালয় চালাচ্ছি, তারা কিন্তু সরকারের অনুমোদন নিয়েই চালাচ্ছি। সরকারের নির্ধারিত বই পড়াচ্ছি। একই সিলেবাস, একই প্রশ্নপত্র। অথচ বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি অসংখ্য শিশুশিক্ষার্থীর সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।-বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। অধিদপ্তর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। আপিলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
তবে অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘২১ ডিসেম্বর থেকে বৃত্তি পরীক্ষার সূচি রয়েছে। এখনো বিষয়টি আদালতে ঝুলে থাকায় বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে বিকল্প উপায়ে এগোচ্ছে অধিদপ্তর। যে উপায়েই হোক, বৃত্তির আদলে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। তারা আর্থিক সুবিধা পাবে।’

কৌশলী অধিদপ্তর, মেধা যাচাই নামে হবে ‘বৃত্তি পরীক্ষা’
বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে রিট ও পরবর্তী আইনি জটিলতা আঁচ করতে পেরে বিকল্প পথে হাঁটছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নাম পরিবর্তন করে বৃত্তির পরিবর্তে ‘মেধা যাচাই’ শব্দ ব্যবহার করছেন তারা। একই সঙ্গে এটিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার একজন গবেষণা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়টি বৃহৎ পরিসরে বোঝানো হয়। এটি আগে সরকারি-বেসরকারি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। ফলে সেখানে বেসরকারি বা রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণের দাবিকে যৌক্তিক ও ন্যায্য হিসেবে মনে করেছেন আদালত। কিন্তু বেসরকারি বিদ্যালয়কে যুক্ত করে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা এবার আর সম্ভব নয়। ফলে একই প্রক্রিয়ায় নাম পরিবর্তন করে মেধা যাচাই পরীক্ষা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। এটি ছাড়া এ বছর বৃত্তি আয়োজন সম্ভব নয়।’
মেধা যাচাই পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ, সময়সূচিও প্রকাশ
বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর একটি চিঠি ইস্যু করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সেই চিঠি পাঠানো হয়। তাতে দেখা যায়, আগে প্রকাশিত বৃত্তি পরীক্ষার দিনগুলোতেই পরীক্ষার সূচি দিয়ে বলা হয়েছে ‘মেধা যাচাই পরীক্ষা’র সূচি। এতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এবার বৃত্তি পরীক্ষা নয়, হবে মেধা যাচাই পরীক্ষা।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী— ২১ ডিসেম্বর বাংলা, ২২ ডিসেম্বর ইংরেজি, ২৩ ডিসেম্বর গণিত এবং ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টার পরীক্ষা হবে। এতে পূর্ণমান (নম্বর) থাকবে ১০০।
এদিকে, ১৯ নভেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো আরেক চিঠিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-শিক্ষার্থী মেধা যাচাই-২০২৫’ পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হলো। তবে অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ফি মওকুফ করা হবে। একই সঙ্গে মেধা যাচাই পরীক্ষার উত্তরপত্রের প্রথম পাতা বা ওএমআর শিটও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
মেধা যাচাই পরীক্ষা কোথায়, কীভাবে হবে
বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল মূলত থানাভিত্তিক। অর্থাৎ, কোনো থানা বা উপজেলার বিদ্যালয়গুলো থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক বা একাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। নাম পরিবর্তনের পর এ পরীক্ষা কোথায়, কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্পষ্টতা দেখা গেছে।
বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আমরা আপিল করেছি। শুনানি হলে তারপর জানা যাবে। যদি আদালত বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়, তাহলে বৃত্তি পরীক্ষা হবে। মেধা যাচাই পরীক্ষাটা এখন হচ্ছে।- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান
তবে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (এটিইও) কথা বলে জানা যায়, মেধা যাচাই পরীক্ষাও একইভাবে বৃত্তি পরীক্ষার মতো উপজেলা বা থানাভিত্তিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহীর একটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষা হবে মেধা যাচাই পরীক্ষা নামে। বাকি সব একই। প্রশ্নের ধরন, নম্বর, পরীক্ষার সময়সহ সব একই। বলতে গেলে নতুন মোড়কে পুরোনো জিনিস। নাম ছাড়া আর কোনো কিছুতে পরিবর্তন নয়।’
বৃত্তির নাম পাল্টে শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নাম বদলের যে কৌশল অবলম্বন করছে, সেটিকে শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা বলে অভিযোগ করেছেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
তাদের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর বেসরকারি বিদ্যালয়ের এক কোটির বেশি শিশুশিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করছে অধিদপ্তর। নাম পাল্টে এভাবে পরীক্ষা নেওয়ায় বৃত্তির প্রতি মানুষের যে, ইতিবাচক মনোভাব ছিল সেটিও নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুরাও প্রতারিত হচ্ছে।
রাজধানীর রামপুরার উলন রোডের সপ্তবর্ণ বিদ্যা নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজাতুস সাদিয়া। বেসরকারি বিদ্যালয় হলেও সে এবার বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা ছিল, শেষপর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ মিলবে। তবে বৃত্তি পরীক্ষার নাম পাল্টে মেধা যাচাই করার পর থেকে মন খারাপ তার।
আজিজাতুস সাদিয়ার মা আসমা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষা হবে শোনার পর থেকেই মেয়েকে পড়াচ্ছি। ও খুব আগ্রহী বৃত্তি পরীক্ষা দিতে। তারপর শুনলাম বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবে না। তারপর আন্দোলন চলছিল। ভাবছিলাম হয়তো নিয়ম পরিবর্তন হবে। কিছুদিন আগে হাইকোর্ট রায় দিলেন। এরপর পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিল মেয়েটা। এখন শুনছি, বৃত্তি পরীক্ষা হবে না। হবে মেধা যাচাই পরীক্ষা। তাতে বেসরকারির ছেলে-মেয়েরা অংশ নিতে পারবে না। এটা জানার পর থেকে মেয়েটা হতাশ। এটা সরকার ঠিক করছে না।’
বৃত্তির নাম পাল্টে শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করা হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই দেশের নাগরিক। তাদেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা যারা বেসরকারি বিদ্যালয় চালাচ্ছি, তারা কিন্তু সরকারের অনুমোদন নিয়েই চালাচ্ছি। সরকারের নির্ধারিত বই পড়াচ্ছি। একই সিলেবাস, একই প্রশ্নপত্র। অথচ বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি অসংখ্য শিশুশিক্ষার্থীর সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।’
অধিদপ্তরের কৌশলে তার দমে যাবেন নাকি আইনি লড়াই করবেন—এমন প্রশ্নে ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অনেক অভিভাবক এটি নিয়ে কাজ করছেন। তারা পরবর্তী শুনানি বা আপিল শুনানির দিনে বিষয়টি আদালতকে অবগত করবেন। পাশাপাশি আলাদা করে রিট আবেদন করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।’
যা বলছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
বৃত্তি পরীক্ষার পরিবর্তে মেধা যাচাই পরীক্ষা হচ্ছে— এমন বক্তব্য মানতে নারাজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আমরা আপিল করেছি। শুনানি হলে তারপর জানা যাবে। যদি আদালত বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়, তাহলে বৃত্তি পরীক্ষা হবে। মেধা যাচাই পরীক্ষাটা এখন হচ্ছে।’
বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি ও মেধা যাচাই পরীক্ষার সময়সূচি একই। তাহলে বৃত্তি পরীক্ষা যদি আগের নিয়মে (শুধু সরকারি বিদ্যালয়) নেওয়ার অনুমতি আদালত দেয়, তাহলে তখন কোন পরীক্ষা হবে—এমন প্রশ্নে ডিজি বলেন, ‘এটা আগে-পরে হতে পারে। সেটি সময় বলে দেবে। আপাতত ২১-২৪ ডিসেম্বর মেধা যাচাই পরীক্ষা হবে।’