
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যুবদল নেতা সম্রাট আকবর। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে তাকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। স্বজনদের ফোন করা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর কলেই শেষপর্যন্ত তার প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বিরবিরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্রাট আকবরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে লাঠি ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পেটানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ৯৯৯-এ ফোন করলে দ্রুত জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা গুরুতর আহত অবস্থায় সম্রাটকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
সম্রাট আকবর জাহাজমারা ইউনিয়নের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ করে সম্রাট আকবর বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জসিম মেম্বার পরিকল্পিতভাবে আমাকে নির্যাতন করেছে। এতে আমার হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
তার মা মরিয়ম নেছা জানান, আমার ছেলেকে চোখের সামনে গাছে বেঁধে পেটানো হচ্ছিল। আমরা বাধা দিতে গেলে জসিমের লোকজন আমাদের ঘরে ঢুকতে দেয়নি।
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির জন্য এলাকায় কুখ্যাত। তবে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর বিরবিরি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যদি প্রভাবশালী সাবেক মেম্বারের দাপটে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়, তবে তাদের নিরাপত্তা কোথায়?