
উচ্চমূল্যের নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ ক্রেতার শেষ ভরসার জায়গা সবজির দামেও যেন আগুন লেগেছে। রাজধানীর বাজারে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সবজির দাম। প্রায় সব ধরনের সবজি সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। পেঁপে ছাড়া ৮০ টাকার নিচে সবজি নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, মিরপুর কাজীপাড়া, জোয়ারসাহারা ও বাড্ডা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ বেশ কম। এ কারণে আগের তুলনায় দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মাছ, মুরগি ও মুরগির ডিমের দামও বাড়তি।
রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গোল বেগুন মানভেদে ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, আকাশছোঁয়া দামের কারণে এখন সবজির দাম জিজ্ঞেস করতেও ভয় লাগে। এক কেজি গোল বেগুনের দাম ২০০ টাকা হলে সাধারণ মানুষ কিনবে কিভাবে? ১০০ টাকার নিচে ভালো কোনো সবজি নেই।
মহাখালী কাঁচাবাজারে ক্রেতা আক্তার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ ডিম ও সবজির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বাজারে মাছ-মাংস, ডিম ও সবজি সবই তো নাগালের বাইরে, আমরা এখন যাব কোথায়? বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে আছে। দ্রুত বাজার তদারকিতে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।’
বাড্ডা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হারুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকের শাক-সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়তি। এতে বাজারে সরবরাহ সংকট চলছে। ফলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে সবজি কিনে আনতে হচ্ছে।’ দাম বাড়ার কারণে ক্রেতারা সবজি কেনা কমিয়ে দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। মুরগি ও ডিম এখনো চড়া : এখনো আগের বাড়তি দামে মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি মানভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে খোলা আটার দাম বেড়ে খুচরায় প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে প্যাকেট আটা এখনো আগের দরই রয়েছে। দাম বেড়ে দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে, যা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ১৪০ টাকায় স্থির ছিল। বাজারে রসুনের দাম এখন কিছুটা কম। আমদানীকৃত রসুন প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দেশি রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।