Image description

গত বছরের ৫ই আগস্ট আমাদের ধারণা ছিল, সেদিনই চূড়ান্ত লড়াই হবে। যদি সেনাবাহিনী গুলি চালায়, তাহলে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হবে। আমরা মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে রাস্তায় নামি। শেখ হাসিনার পতন না হলে প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামের পথে যাবো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

আগস্টের কর্মসূচি এগিয়ে এনে ৫ই আগস্ট ঘোষণা করা হয় ‘লং মার্চ টু ঢাকা’।” আসিফ (বর্তমান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) রাতের দিকে একটা ভিডিও বার্তা দেয়। ৪ঠা আগস্ট রাতে আমরা পরিকল্পনা করি। সারা দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কোন কোন পয়েন্ট থেকে লোক ঢুকবে তা ঠিক করি। আগস্টও বহু মানুষ নিহত হন, ঢাকাতেও অনেক লোক মারা যায়। আমি শাহবাগে ছিলাম। ৫ই আগস্ট সকাল থেকে আমরা জানতে পারি যে, সেনাবাহিনী গুলি চালাবে না বলে জানিয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, তাদের এক সভার পর তারা ঘোষণা করে যে, জনগণের পক্ষেই থাকবে। তবুও আমরা নিশ্চিত ছিলাম না, সেনাবাহিনী আসলে কী করবে।’’

তিনি বলেন, ‘৫ই আগস্ট আমাদের ধারণা ছিল, আজ চূড়ান্ত লড়াই হবে। যদি সেনাবাহিনী গুলি চালায়, তাহলে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হবে। আমরা মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে রাস্তায় নামি। ৪ঠা আগস্ট রাতে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসায় ছিলাম। ৫ই আগস্ট যদি সেনাবাহিনী গুলি চালায়, তাহলে সশস্ত্র সংগ্রামের পথে যাবো এবং শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। ৫ই আগস্ট প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহবাগ এলাকায় সেনাবাহিনী ঢুকতে দেয় না। স্নাইপার ও পুলিশের গুলিতে মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাহিদ।
শেখ হাসিনার মামলায় নাহিদ ইসলামকে প্রসিকিউশন সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করলে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া এই জবানবন্দি আদালতেও সাক্ষ্য হিসেবে দিতে পারেন তিনি।