
বাংলাদেশের বেশিরভাগ রোগী পাঁচ রোগের চিকিৎসা করাতে বিদেশে যান। রোগগুলো হলো—কিডনি, লিভার প্রতিস্থাপন, ক্যানসার, হৃদরোগ ও বন্ধ্যাত্ব। বছরে ১০ লাখেরও বেশি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই এই পাঁচ রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
দেশের চিকিৎসক, রোগী ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রতি বছর রোগীরা পাঁচ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি (৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা) খরচ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ রোগীই চিকিৎসা করাতে ভারতে যেতেন। বিপ্লব-উত্তর সময়ে মেডিকেল ভিসা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে বেশি যাচ্ছেন রোগীরা। সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসার নতুন গন্তব্য তৈরি হয়েছে চীন। গত এক বছরে দেশটির কুনমিংয়ে বেশ কিছু জটিল রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য গেছেন। এজন্য চীন সরকারসহ দেশটির চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টরাও বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীরা বিদেশমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। এই বিদেশমুখী প্রবণতা ঠেকাতে হলে সরকারের আন্তরিকতার পাশাপাশি বেসরকারি খাত-সংশ্লিষ্টদেরও এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, যারা চিকিৎসা নিতে বিদেশে যান, তাদের অধিকাংশই বেসরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নেন।
কয়েকজন রোগীর অভিজ্ঞতা
বেসরকারি একটি কোম্পানিতে কর্মরত মোক্তার হোসেন (৪৫)। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার দুটি কিডনি বিকল হওয়ায় পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। দ্রুত তার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে বলে জানান চিকিৎসক। তবে ডোনার (দাতা) পেলেও আইনি জটিলতায় দেশে অস্ত্রোপচার করা যায়নি। উপায় না পেয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে চলে যান তিনি।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ শেখ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রেকটাল ক্যানসার (মলদ্বারের ক্যানসার) ধরা পড়লে দেশের একাধিক হাসপাতালের শরণাপন্ন হলেও চিকিৎসকদের কথায় আস্থা রাখতে পারেননি। পাশাপাশি জাহিদের রোবটিক সার্জারির প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালে তা না থাকায় বাধ্য হয়ে ছুটতে হয় ভারতে। পাঁচ দফায় চিকিৎসা নিয়ে জাহিদ এখন সুস্থ। চিকিৎসা নিতে খরচ হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা।
জাহিদ শেখ আমার দেশকে বলেন, আমাদের এখানে চিকিৎসকদের কথায় আস্থা রাখতে পারছিলাম না। ল্যাপারোস্কপিক হলেও রোবটিক সার্জারি হয় না। ফলে ভারতে যেতে হয়েছে।
শুধু এ দুই রোগী নন, আইনি জটিলতা এবং দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থাহীনতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিদেশমুখী রোগী। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল জরুরি চিকিৎসাসেবায় অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও জটিল চিকিৎসায় এখনো পিছিয়ে।
৯০ ভাগই যান পাঁচ রোগের চিকিৎসায়
গত দুই যুগের বেশি সময়ে দেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৮০০ শতাংশ। কিন্তু বাড়েনি সক্ষমতা ও গুণগত চিকিৎসা। এ সময়ে স্কয়ার, ইউনাইটেড, ল্যাবএইড, এভারকেয়ারের মতো হাসপাতাল গড়ে উঠলেও এখনো পিছিয়ে জটিল সব রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে। ফলে জটিল রোগের চিকিৎসায় রোগীরা দেরি না করে বিদেশে চলে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশগামী রোগীদের ৯০ ভাগই যাচ্ছেন কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন এবং ক্যানসার, হৃদরোগ ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায়। বন্ধ্য রোগীদের চিকিৎসায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ২৫টি সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) সেন্টার গড়ে তোলা হয়। তবুও অধিকাংশ রোগী ভারতে যান। এ ছাড়া চক্ষু রোগের চিকিৎসা, ডায়াবেটিস ও সংক্রমণ রোগের চিকিৎসায়ও বিদেশে যান অনেকে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ্যত্ব ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টারিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম। আমার দেশকে তিনি বলেন, ইনফার্টিলিতে যাদের দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চা হচ্ছে না, তারাই মূলত দেশের বাইরে যান, বিশেষ করে ভারতে। ক্যানসারের রোগী এবং অন্যান্য জটিল রোগের রোগীরাও বেশি যান, তারা এখানে বিশ্বাস রাখতে চান না। ভারতে যেসব বন্ধ্যত্বের রোগী যান, তাদের ধরে রাখার জন্য তারা দীর্ঘ সময় কাউন্সেলিং করে, যেটি আমাদের দেশে হয় না। রোগী ভারতে যাওয়ার এটিও বড় একটি কারণ।
অপচিকিৎসা আর সময় কম দেওয়ায় অনাস্থা বাড়ছে
জ্বরে ভুগলে গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হয় ৮ বছরের শিশু তানভীরকে। ডেঙ্গু সন্দেহে দেওয়া হয় চারটি ইনজেকশন। অবস্থা গুরুতর হলে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তানভীরকে বাঁচাতে কেটে ফেলতে হয় হাত-পা। গত ২৩ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।
ডাক্তার-রোগীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের করা এক সমীক্ষা বলছে, দেশের ৮১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ঠিকমতো সেবা দেন না চিকিৎসকরা। পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ প্রায় ৮৯ শতাংশের, রোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন না বলে মত ৮১ শতাংশ রোগীর। আর সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট নন ৮৫ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে চিকিৎসকদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষের।
সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, অনেকেই বলেন, চিকিৎসকরা ভালোভাবে রোগের কথা না শুনেই ব্যবস্থাপত্র লেখেন এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। ফলে ভারতে বা ব্যাংককে যেসব রোগী চিকিৎসা নিতে যান, তারা অন্য কোনো উপায় না পেয়েই যান। দেশে সেবা পেলে কখনো রোগীরা বিদেশে যাবেন না।
এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএইচসিডিওএ) সাধারণ সম্পাদক এএম শামীমের সঙ্গে। আমার দেশকে তিনি বলেন, আমরা ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। সমস্যাটা হলো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, আস্থাহীনতা। আগে এমপি-মন্ত্রীরাও দেশের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন। এখন যারা যাচ্ছেন, বেশিরভাগই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে।
শামীম বলেন, ভারতের ভিসা বন্ধ হওয়ায় কত রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে, কেউ বলতে পারবেন? থাইল্যান্ড ও চীনে হাতেগোনা রোগী যাচ্ছেন। আমাদের এখানে ১০ হাজার রোগীর মধ্যে একজন রোগীর খারাপ কিছু হলে বছরের পর বছর তদন্ত হয়। এটিও একটি সংকট। তবে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনে আইনি জটিলতার কারণে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। যার সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ।
বিপিএইচসিডিওএ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পোশাক খাত সংকটে পড়লে সরকার নানাভাবে পাশে দাঁড়ায়, প্রণোদনা দেয়; কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে তেমনটা হওয়ার নজির নেই। উল্টো নিবন্ধন থেকে শুরু করে পরিচালনায় নানা বাধা মোকাবিলা করতে হয়। ফলে বড় কিছুতে কেউ বিনিয়োগ করতে চান না।
বন্ধ ভারতের ভিসা, বেড়েছে থাইল্যান্ড ও চীনমুখী রোগী
প্রতিবছর কী পরিমাণ রোগী বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নিতে যান, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে বিদেশমুখী বাংলাদেশিদের প্রধান গন্তব্য ছিল ভারত। এখন নির্ভরতা বেড়েছে থাইল্যান্ডে। সম্প্রতি এতে যুক্ত হয়েছে চীন। চলতি বছরের মার্চ থেকে বাংলাদেশি রোগীদের গন্তব্য হয়েছে দেশটি। গত ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, মার্চ থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে চীন যাচ্ছেন। আগে দেশটির পাঁচটি হাসপাতাল বাংলাদেশিদের নির্ধারিত হলেও বর্তমানে সব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়া যাচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চের শেষদিকে চীন সফরে যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকে চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কাজ শুরু হয়। দেশটি বাংলাদেশে তিনটি হাসপাতাল নির্মাণ করবে, এর মধ্যে এক হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল উপহার দেবে। দেশটির সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন করার কথা জানিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিদেশমুখী প্রবণতা কমানোর উদ্যোগ নেই
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশিরা পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ করেন। যদিও বেসরকারি হিসাবমতে এই খরচ আরো বেশি।
বিপুল পরিমাণ এই অর্থ দেশে রাখতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য খাতবিষয়ক সংস্কার কমিশন। প্রতিবেদন জমার সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি অন্তর্বর্তী সরকারকে।
সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন আমার দেশকে বলেন, বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক দিতে হবে। বিশেষ করে যেসব ক্রিটিক্যাল রোগের জন্য দেশের বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা, সেসব চিকিৎসায় কোনো বেসরকারি হাসপাতাল এগিয়ে এলে তাদের ট্যাক্স থেকে মুক্তি, এমনকি আর্থিকভাবে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে, ঠিক যেভাবে গার্মেন্ট খাতে হয়। কিন্তু এখনো সেরকম কিছু দেখা যায়নি, সুপারিশগুলো এখনো কাগজেই বন্দি রয়েছে।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়ে আমরা বলেছি কেবলমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়, সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় লাগবে। না হলে মধ্যপ্রাচ্যের কর্মীদের রেমিট্যান্স, পোশাক খাতের কর্মীদের আয়ের এবং ওষুধ খাতের অর্জিত অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই কমিশনের সদস্যদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা শিগগিরই সমাধানের পথ না খুঁজলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
বিদেশমুখী রোগীর ঢল ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে যে ধরনের পরিকল্পনা থাকা দরকার, তা দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, বিদেশমুখিতা একদিনে তৈরি হয়নি, দীর্ঘদিনের সংকট, আস্থার অভাবের কারণেই হয়েছে। ফলে রাতারাতি এটির পরিবর্তন হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের চিন্তা থাকা দরকার, তা দেখা যাচ্ছে না।
যা বলছে সরকার
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বিদেশমুখিতা কমাতে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সবকিছু রাতারাতি হবে না। যন্ত্রপাতি আনতে পারলেও সে ধরনের দক্ষ লোকবল লাগবে। সংকট থেকে বের হয়ে আসতে জরুরি জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। যে জায়গাগুলোতে সংকট, ঘাটতি ও সমস্যা রয়েছে, সেখানে আমরা হাত দিচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি সব নীতিনির্ধারকদের নিয়ে বসা হয়েছে। এক্ষেত্রে টেকনোলজি আনা যায়—এমন দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অগ্রসর—এমন দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।