Image description
 

পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলী খান বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিষদের চারটি স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের নির্দেশে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ।

গহর আইন ও বিচার, মানবাধিকার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হাউস বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন পিটিআই এমপি জাতীয় পরিষদের বিভিন্ন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এ পদক্ষেপকে পিটিআইয়ের চলমান রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি আসন্ন উপনির্বাচন বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৯ মে দাঙ্গার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত জুলাই-আগস্টে পিটিআইয়ের বহু নেতা অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই দলটির এমপিরা কমিটি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

গহরের পাশাপাশি পিটিআই সাংসদ ফয়সাল আমিন গান্ডাপুর (খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্ডাপুরের ভাই), শাহরেয়ার আফ্রিদি, জুনায়েদ আখতার খান, শেখ ওয়াকাস আকরাম, আমির দোগারসহ আরও অনেকে বিভিন্ন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এর আগে সাংসদ আলী আসগর, সাজিদ খান, শহিদ খাট্টাক, ফয়সাল এবং আসিফ খানও একযোগে পদত্যাগ জমা দেন। আসগর মন্ত্রিসভা, বেসরকারিকরণ ও পরিকল্পনা কমিটি থেকে, সাজিদ প্রবাসী, জাতীয় ঐতিহ্য ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত কমিটি থেকে এবং ফয়সাল অর্থনৈতিক বিষয়ক, খাদ্য নিরাপত্তা ও সংসদীয় টাস্কফোর্স কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। শহিদ খাট্টাক সব কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। অন্যদিকে আসিফ শিক্ষা, জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও তথ্য সম্প্রচার কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

জুনায়েদ আখতার খান জন-হিসাব কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। তিনি দলের চিফ হুইপ আমির দোগারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক ইতোমধ্যে ফয়সাল ও আলীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন।

এছাড়া পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাসও সব কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বুধবার স্পিকার সাদিকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

 

এদিকে, ইমরান খান পিটিআই নেতাদের বিচার কমিশন থেকেও সরে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, কমিশনে দলের উপস্থিতি কার্যকর হচ্ছে না। বর্তমানে ব্যারিস্টার গহর ও সিনেটর আলী জাফর কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

পিটিআই জানিয়েছে, মে ৯-সংক্রান্ত মামলায় অযোগ্য ঘোষিত তাদের সাংসদদেরই ‘সত্যিকারের প্রতিনিধি’ হিসেবে দাবি করবে দলটি। সেই আসনগুলোতে আসন্ন উপনির্বাচনও বর্জন করা হবে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোট পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ঘোষণা করেছে, তারা যৌথভাবে সারা দেশে উপনির্বাচনে অংশ নেবে।