
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ
শুরু হচ্ছে শেষবারের মতো শুনানি, সংকট কাটবে নাকি বাড়বে
গোলাম মওলা
২৮ আগস্ট ২০২৫, ২৩:৫৯
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত গত কয়েক বছর ধরেই নানামুখী সংকটে জর্জরিত। আমানত কমছে, ঋণখেলাপি বাড়ছে, তারল্য সংকট তীব্র হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে নতুন একটি ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রায় সব প্রক্রিয়াই শেষ করা হয়েছে। এখন শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেষবারের মতো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা শোনার পালা। আগামী রবিবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটি কি সত্যিই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, নাকি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া একীভূত প্রক্রিয়া নতুন করে ব্যাংকিং খাতকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলোর মূলধন (ক্যাপিটাল), তারল্য সহায়তা, খেলাপি ঋণ, নগদ সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) এবং প্রভিশন ঘাটতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। একসঙ্গে কেন তাদের একীভূত করা হবে না, সে ব্যাখ্যা লিখিতভাবে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোন ব্যাংকগুলো একীভূত হচ্ছে?
যে পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
তবে শুরু থেকেই একীভূত প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। বিশেষ করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক রেজাউল হকসহ ৯ জন শেয়ারহোল্ডার বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে প্রক্রিয়া থেকে ব্যাংকটিকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
বিশাল অঙ্কের মূলধন ঘাটতি
একীভূত প্রক্রিয়ার খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে। তবে এ জন্য বিদ্যমান আমানত বিমা আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। কারণ বর্তমানে ওই তহবিল শুধু ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের অনুমতি রাখে। অর্থাৎ, এই একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত জনগণের টাকাতেই করা হবে।
সংকট কতটা ভয়াবহ?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, পাঁচ ব্যাংকের মোট আমানত কমতে কমতে মে মাসে নেমে এসেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকায়। মাত্র এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ অবস্থান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো খেলাপি ঋণ। বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটির ৯৬ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৬২ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ শতাংশ।
অর্থাৎ গ্রাহকরা যে টাকা জমা দিয়েছেন, তার সিংহভাগই খেলাপিতে আটকে আছে। ফলে আমানত ফেরত দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা নিতে হয়েছে। নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। আমানত ফেরত দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও বিশেষ ঋণ নিতে হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা
একীভূত হলে নতুন ব্যাংকের অনেক শাখা একই এলাকায় পড়ে যাবে। এতে কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গণহারে ছাঁটাই এড়াতে গ্রামীণ এলাকায় নতুন শাখা খোলা হবে এবং স্থানীয় আমানত স্থানীয় এলাকাতেই বিনিয়োগ করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অতীত অভিজ্ঞতা
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ ব্যাংকগুলোর ওপরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স অ্যাক্ট-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যাংক টেকওভার ও একীভূতকরণের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে।
বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, অন্তত ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে চলে গেছে। এ বক্তব্য বাজারে আতঙ্ক ছড়ালেও বাস্তবে অনেক ব্যাংকেই আমানতকারীরা টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জোর করে একীভূতকরণ টেকসই সমাধান নয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহিমদা খাতুন বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক একীভূত করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। দুর্বল ব্যাংক নিজেরাই শক্তিশালী ব্যাংককে প্রস্তাব দেয়। এরপর অডিট করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই হয়। বাংলাদেশে জোর করে ব্যাংক একীভূত করলে সংকট সমাধান না হয়ে আরও জটিল হতে পারে। তবে ব্যাংক বন্ধ হলে গ্রাহকের বড় ক্ষতি হবে, একীভূত হলে অন্তত গ্রাহকের টাকা সুরক্ষিত থাকবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলোর মূলধন (ক্যাপিটাল), তারল্য সহায়তা, খেলাপি ঋণ, নগদ সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) এবং প্রভিশন ঘাটতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। একসঙ্গে কেন তাদের একীভূত করা হবে না, সে ব্যাখ্যা লিখিতভাবে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোন ব্যাংকগুলো একীভূত হচ্ছে?
যে পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
তবে শুরু থেকেই একীভূত প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। বিশেষ করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক রেজাউল হকসহ ৯ জন শেয়ারহোল্ডার বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে প্রক্রিয়া থেকে ব্যাংকটিকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
বিশাল অঙ্কের মূলধন ঘাটতি
একীভূত প্রক্রিয়ার খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে। তবে এ জন্য বিদ্যমান আমানত বিমা আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। কারণ বর্তমানে ওই তহবিল শুধু ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের অনুমতি রাখে। অর্থাৎ, এই একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত জনগণের টাকাতেই করা হবে।
সংকট কতটা ভয়াবহ?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, পাঁচ ব্যাংকের মোট আমানত কমতে কমতে মে মাসে নেমে এসেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকায়। মাত্র এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ অবস্থান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো খেলাপি ঋণ। বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটির ৯৬ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৬২ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ শতাংশ।
অর্থাৎ গ্রাহকরা যে টাকা জমা দিয়েছেন, তার সিংহভাগই খেলাপিতে আটকে আছে। ফলে আমানত ফেরত দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা নিতে হয়েছে। নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। আমানত ফেরত দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও বিশেষ ঋণ নিতে হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা
একীভূত হলে নতুন ব্যাংকের অনেক শাখা একই এলাকায় পড়ে যাবে। এতে কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গণহারে ছাঁটাই এড়াতে গ্রামীণ এলাকায় নতুন শাখা খোলা হবে এবং স্থানীয় আমানত স্থানীয় এলাকাতেই বিনিয়োগ করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অতীত অভিজ্ঞতা
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ ব্যাংকগুলোর ওপরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স অ্যাক্ট-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যাংক টেকওভার ও একীভূতকরণের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে।
বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, অন্তত ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে চলে গেছে। এ বক্তব্য বাজারে আতঙ্ক ছড়ালেও বাস্তবে অনেক ব্যাংকেই আমানতকারীরা টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জোর করে একীভূতকরণ টেকসই সমাধান নয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহিমদা খাতুন বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক একীভূত করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। দুর্বল ব্যাংক নিজেরাই শক্তিশালী ব্যাংককে প্রস্তাব দেয়। এরপর অডিট করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই হয়। বাংলাদেশে জোর করে ব্যাংক একীভূত করলে সংকট সমাধান না হয়ে আরও জটিল হতে পারে। তবে ব্যাংক বন্ধ হলে গ্রাহকের বড় ক্ষতি হবে, একীভূত হলে অন্তত গ্রাহকের টাকা সুরক্ষিত থাকবে।’
ব্যাংক একীভূতকরণ ঠেকাতে নতুন তদবিরের আশঙ্কা
বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ ঠেকাতে নতুন করে তদবির অর্থনীতি শুরু হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তার মতে, ব্যাংক একীভূতকরণ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল ও কঠিন একটি প্রক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন।
আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে অর্থ পাচারের অন্যতম বড় মাধ্যম ছিল মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি। বর্তমানে পাচার কিছুটা কমে আসায় এই খাতে আমদানি প্রবাহও হ্রাস পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার গড়ের তুলনায় বাংলাদেশে সুদের হার বেশি নয়। তবে নীতি সুদ হারের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে সুদের হার বেড়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তা আরও বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।’
অপরদিকে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আখতার হোসেন জানান, ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ বন্ড ইস্যু এবং বিদেশি সহযোগিতার মাধ্যমে জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আপত্তি
এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন মনে করেন, তাদের ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তাই একীভূতকরণের কোনও দরকার নেই। তার দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামের কারণে এক্সিমকে এ প্রক্রিয়ায় টেনে আনা হচ্ছে।
অপরদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা অভিযোগ করেছেন, এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিকে দখল করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। এখন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে একীভূত প্রক্রিয়ায় জড়ানো হচ্ছে, যা তারা অন্যায্য ও বেআইনি বলে মনে করছেন।
সমাধান হবে নাকি বাড়বে অনিশ্চয়তা?
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন এক সন্ধিক্ষণে। দুর্বল পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে বড় পদক্ষেপ। তবে এটি টেকসই সমাধান হবে কিনা, তা নির্ভর করছে প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
গ্রাহকরা এখনও সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন—তাদের টাকার নিরাপত্তা কোথায়? আর ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে সরকারের যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে, তা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে কতটা চাপের মুখে ফেলবে— এই প্রশ্নও উঠছে জোরালোভাবে।
বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ ঠেকাতে নতুন করে তদবির অর্থনীতি শুরু হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তার মতে, ব্যাংক একীভূতকরণ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল ও কঠিন একটি প্রক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন।
আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে অর্থ পাচারের অন্যতম বড় মাধ্যম ছিল মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি। বর্তমানে পাচার কিছুটা কমে আসায় এই খাতে আমদানি প্রবাহও হ্রাস পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার গড়ের তুলনায় বাংলাদেশে সুদের হার বেশি নয়। তবে নীতি সুদ হারের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে সুদের হার বেড়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তা আরও বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।’
অপরদিকে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আখতার হোসেন জানান, ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ বন্ড ইস্যু এবং বিদেশি সহযোগিতার মাধ্যমে জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আপত্তি
এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন মনে করেন, তাদের ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তাই একীভূতকরণের কোনও দরকার নেই। তার দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামের কারণে এক্সিমকে এ প্রক্রিয়ায় টেনে আনা হচ্ছে।
অপরদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা অভিযোগ করেছেন, এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটিকে দখল করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। এখন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে একীভূত প্রক্রিয়ায় জড়ানো হচ্ছে, যা তারা অন্যায্য ও বেআইনি বলে মনে করছেন।
সমাধান হবে নাকি বাড়বে অনিশ্চয়তা?
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন এক সন্ধিক্ষণে। দুর্বল পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে বড় পদক্ষেপ। তবে এটি টেকসই সমাধান হবে কিনা, তা নির্ভর করছে প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
গ্রাহকরা এখনও সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন—তাদের টাকার নিরাপত্তা কোথায়? আর ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে সরকারের যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে, তা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে কতটা চাপের মুখে ফেলবে— এই প্রশ্নও উঠছে জোরালোভাবে।