
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতঘেঁষা মার্কেটটি একসময় টাইলস মার্কেট নামে পরিচিত ছিল । নিচতলায় রয়েছে ৪০-৫০টি দোকান । অনেক আগেই এই মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ । কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলছে কার্যক্রম । শুধু তা - ই নয় , সৈকত দখল করে মার্কেটটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়ই । টিন আর কাঠের মাচার ওপর ইট - সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে দ্বিতীয় তলায় করা হচ্ছে আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট । অভিযোগ উঠেছে , মার্কেটটির মালিক দাবি করা মো . সাজিদুল ইসলাম হিরু মিয়া নামের এক ব্যক্তি সৈকত দখল করছেন । তবে প্রশাসন ও এলাকাবাসী বলছেন , হিরু মিয়া নিজেকে জমির মালিক দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে মার্কেটের জমি খাস খতিয়ানের । পাশে তাঁদের একটি বন্দোবস্তের জমি ছিল , যা সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে । স্থানীয় সূত্র বলেছে , ২০১১ সালে নির্মিত মার্কেটের ফ্লোর টাইলস দিয়ে তৈরি করায় এটি টাইলস মার্কেট নামে পরিচিতি পায় । মার্কেটের মালিক দাবিদার মো . সাজিদুল ইসলাম হিরু মিয়া সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট না হলেও যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে , তাদের ‘ ম্যানেজ ' করে নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখেন । সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায় , কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা টাইলস মার্কেটের পশ্চিম পাশটা গিয়ে ঠেকেছে সৈকতের ভেতরে । জোয়ারের পানি মার্কেটে এসে আছড়ে পড়ছে । সেটিকে আরও ২০-৩০ ফুট বর্ধিত করা হচ্ছে । সাগর থেকে বালু তুলে লোহার পাত আর কাঠ দিয়ে তৈরি মার্কেটটি দোতলা করা হচ্ছে । দোতলায় হচ্ছে আবাসিক হোটেল ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেটের এক দোকানি বলেন , ‘ বর্ষা সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে মার্কেটের পাশে । এভাবে মার্কেট সম্প্রসারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিতে পড়েছেন । তা - ও এত দিন যেভাবে ছিল , ভয় কম ছিল । কিন্তু এখন মার্কেটটি আরও বড় করা হচ্ছে । ওপরে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে । এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে । আমরা গবির মানুষ । এটা নিয়ে কথা বললে আমাদের মার্কেট থেকে নামিয়ে দেবে । ব্যবসা না করলে খাব কী ? ” কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন , কুয়াকাটায় স্থায়ী কোনো মার্কেট না থাকায় এই মার্কেট কিছুটা
হলেও পর্যটকদের কেনাকাটার চাহিদা পূরণ করছে । তবে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ । তাই পৌরসভা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে । তবে পুরোপুরি সৈকতের মধ্যে তিনি ( সাজিদুল ইসলাম হিরু মিয়া ) মার্কেটটিকে কীভাবে বর্ধিত করছেন , জানা নেই । এতে সৈকতের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে । তবে অভিযোগের বিষয়ে সাজিদুল ইসলাম হিরু মিয়া বলেন , ' এই জমির মালিক আমি , আমার জমির অনেকাংশ সমুদ্রের মধ্যে রয়েছে । এটা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বারবার বৈঠক হয়েছে , আবারও হবে । আর এই স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ নয় , প্রকৌশলীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করা হয়েছে । ' কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) ইয়াসিন সাদেক আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ এই জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি । তাই কাগজ হাতে না পেয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না । আগামী রোববারের মধ্যে পেপারস হাতে পেয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছি । ' তিনি আরও বলেন , ‘ এ ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । সমুদ্রসৈকতের মালিক একমাত্র সরকার । এখানে ব্যক্তিমালিকানার কোনো সুযোগ নেই । পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি । ' পরিবেশ কলাপাড়ার কার্যকরী সদস্য মেজবাহ উদ্দিন মাননু আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ যতদূর জানি , ২০১১ সালের উচ্চ আদালতের রায়ে উল্লেখ রয়েছে — বেড়িবাঁধের বাইরে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই । মূলত প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই তারা এই সাহস পাচ্ছে । এটি সৈকতের জন্য মারাত্মক হুমকি । ' বাঁচাও আন্দোলন