Image description
 

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা। ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হতে পারে সাড়ে ৫ শতাংশ। 

নতুন বাজেটে এবারও কৃষি, সার ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি থাকবে। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্ষিপ্ত আকারে ৫০-৬০ পৃষ্ঠার বক্তব্য হবে। নতুন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থাপনার চেষ্টা থাকবে বলেও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

জানা গেছে, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, রাজনৈতিক সরকারের অর্থমন্ত্রীরা সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় না থাকায় এ বছর সেটি হওয়ার সুযোগ নাই। জাতীয় সংসদ নাই। এ কারণে আগামী বাজেট উপস্থাপন করা হবে টেলিভিশনের পর্দায়। উপস্থাপন করবেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ বাজেট ঘোষণা করা হবে। জুনের শুরুতেই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা রয়েছে। সে কারণে প্রথম সপ্তাহে নতুন বাজেট ঘোষণা হতে পারে। 

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। সর্বশেষ ২০০৭-০৮ সালে টেলিভিশনে ভাষণের মাধ্যমে দুটি বাজেট ঘোষণা করেছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম।
 
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অর্থ উপদেষ্টার বাজেট বক্তব্য লেখার কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাজেট বক্তব্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের 'অংশ' সংযুক্ত করতে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য সব সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থ সচিব। অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর উল্লেখযোগ্য নীতি, আইন ও পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়িত সংস্কার কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো যাতে বাজেট বক্তব্যে তুলে ধরা যায়, সে ধরনের তথ্য অর্থ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনগুলোও থাকতে হবে। 

সূত্র জানিয়েছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সে কারণে আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশের মতো। আগামী অর্থবছরেও বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের নিচেই রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে সাড়ে ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, চলতি অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকবে। বরাদ্দের দিক থেকে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বেশি গুরুত্ব থাকবে বলে জানা গেছে। 

জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর গত ছয় মাসে এডিপি খাতে খরচ হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করতে পেরেছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা। অথচ এ বছর ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়াতেই গত ৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। 

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৫ অর্থবছরের ৭লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেট ঘোষণা করেছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পরে তা সংশোধন করে সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৭লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা করা হয়েছিল।

ইত্তেফাক