
সারাদেশের কারাগারগুলোতে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছেন প্রায় ৭০ হাজার বন্দি। সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ আদায়, বিশেষ খাবারের আয়োজন এবং বন্দিদের জন্য বিভিন্ন আনন্দঘন মুহূর্তের ব্যবস্থা করা হয়। বন্দিরা এই দিনটি তাদের স্বজনদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগও পাচ্ছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে দুবছরের সন্তান কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আসমা বেগম। তিনি সকাল ৮টায় এসে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে অপেক্ষার পর দেখা হওয়া হয়।
আমিনা বেগম নামে এক নারী ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলে বন্দি। গত বছরও ঈদের দিন বাড়িতে ছিল। এবার ছেলের ঈদ জেলে, আমার মন তো বাড়িতেই থাকে না। তাই তার জন্য এসেছি।”
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের গল্প প্রায় একরকম। কারাবন্দিরা তাদের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা বা অন্য স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন ঈদের দিনে।
বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে আধা ঘণ্টা, কিন্তু এই সময়টুকু যেন দ্রুত শেষ হয়ে যায়। বন্দিরা এবং তাদের স্বজনরা একে অপরের সঙ্গে চোখের জল এবং অশ্রুসিক্ত চোখে কথা বলছেন।
নিরাপত্তা সদস্যরা জানায়, ঈদের দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে, এবং ঈদের পরদিন ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
এছাড়া কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৬০ হাজার ৯১৪, যা কারাগারের ধারণক্ষমতার থেকে অনেক বেশি। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ৮৯০ পুরুষ এবং ২ হাজার ২৪ নারী বন্দি রয়েছে।
ঈদের দিন সকালে সব কারাগারে বন্দিদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে।
এদিন বিকেলে, কারারক্ষী ব্যারাকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় স্টাফদের সন্তানদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি ও গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বন্দিদের জন্য খাবারের মেন্যুও ছিল বৈচিত্র্যময়। সকালবেলা পায়েস ও মুড়ি, দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসি, রোস্ট, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও সালাদ, এবং রাতে সাদা ভাত, মাছ, বুটের ডাল ও ডিম পরিবেশন করা হয়।
ঈদের পরদিন, কারাগারের ভিতরে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে বন্দিরা তাদের পরিবার থেকে পাঠানো খাবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে পারেন।