
৮ আগস্ট সেনাপ্রধান কি প্রধান উপদেষ্টাকে দেশের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিলো? এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র নয়, সবকিছুরই নাভিশ্বাস হয়ে গেছিল। কথাটা হলো আওয়ামী লীগ থাকবে কিনা। আমি বলি, সময়ই সেটা বলে দিবে। রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে যাবে, তবে বর্তমান অবস্থায় আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র কেন কেউই ধ্বংস করতে পারবে না। কারণ দেখলেন না! বিএনপিকে এত অত্যাচার করেছে যে আওয়ামী লীগ, সেই বিএনপিও চায় না আওয়ামী লীগকে আইনি ভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। এই রকম একটা আন্দোলন না হলে শেখ হাসিনা যেভাবে সব গুছিয়ে বসেছিল তাকে হটানো যেত না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা হলো তখন বঙ্গবন্ধুর এত বড় একটা সংগঠন, সকল মুক্তিযোদ্ধা তার সাথে আছে; গ্রামের প্রতিটা ঘরে একজন করে হলেও আওয়ামী লীগার আছে, তখনও অস্থিরতা ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আসলেন, তার পিছনে পুরো আর্মি ও স্বাধীনতা বিরোধীরা ছিল, তখনও অস্থিরতা ছিল। প্রতিটা সরকারের সময়ই অস্থিরতা ছিল। প্রধান উপদেষ্টার কোন রাজনৈতিক সংগঠন নেই, তাই এখনকার অস্থিরতাটা বিবেচনায় নিতে হবে।
লতিফ সিদ্দিকী আরো বলেন, ৫ আগস্ট বিকেল বেলায় সেনাপ্রধান দেশবাসীকে বললেন আপনারা শান্ত হন, নিশ্চিন্ত থাকেন। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। সেনাবাহিনী আপনাদের জানমালের নিরাপত্তা দিবে। ৮ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা শপথ নেয়ার পরে কি তাকে সেই দায়িত্বটা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে?
বুঝিয়ে যে দেয়নি বা তিনিও যে বুঝে নেননি সেটার সাক্ষ্য দিলেন সেনাপ্রধান ২৫ ফেব্রুয়ারি রাওয়াতে এক বক্তৃতায়। তিনি দুইবার প্রধান উপদেষ্টার নাম নিয়েছেন, কিন্ত প্রধান উপদেষ্টা বলেননি। তিনি যখন শুধু ড. ইউনূস বলেন তখন তিনি প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন না, আর প্রধান উপদেষ্টা মনে না করলে তো মাননীয় বলবেই না।