Image description

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এতে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, আইন মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব বিলোপ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রবর্তন, কলেজিয়াম পদ্ধতিতে বিচারপতি নিয়োগসহ একাধিক সংস্কারের সুপারিশ করা হয়। 

 

ঘোষণার ছয় মাস পরও বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। তবে বিচারক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল চালু ও বিচারকদের বদলি-পদোন্নতির খসড়া নীতিমালা তৈরি হয়েছে।

এদিকে স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য দ্রুত পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধান বিচারপতি বারবার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় পৃথক সচিবালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। 

 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব অনেকাংশেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নির্ভরশীল।

প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপের অগ্রগতি 

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যাস্ত করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংসদে পাস করেছিল। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করলেও সরকারের অসযোগিতার কারণে এই মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। ফলে বিচারপতি অপসারণের কোনও ফোরাম ছিল না। 

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ, এবং এর মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবিত হয়। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কাউন্সিল গঠিত হয়। 

নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তবে সেই অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ওই বিচারপতিকে অপসারণ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠায়। রাষ্ট্রপতি পরবর্তীতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে, এই কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে একাধিক বিচারপতি অপসারিত হয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে অধ্যাদেশ জারি 

প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপ অনুযায়ী সরকার সুপ্রিম কোর্টের ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। গত ২১ জানুয়ারি জারিকৃত এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে স্বতন্ত্র কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে।
অধ্যাদেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এ কাউন্সিলে থাকবেন—আপিল বিভাগের দুজন বিচারক (একজন অবসরপ্রাপ্ত ও একজন কর্মরত), হাইকোর্টের দুজন বিচারক, অ্যাটর্নি জেনারেল, কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (প্রধান বিচারপতি) মনোনীত একজন আইন বিশেষজ্ঞ বা আইনের অধ্যাপক। 

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, এই কাউন্সিল নিজ উদ্যোগে প্রার্থী তালিকা তৈরি করবে। পাশাপাশি আইনজীবীসহ যে কেউ নিজের নাম প্রস্তাব করতে বা আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে কাউন্সিল সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেবে। এই কাউন্সিলের নাম হবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল।

এরই মধ্যে প্রধান বিচারপতি বিচারক নিয়োগ কাউন্সিল গঠন করেছেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি আপিল বিভাগে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব-কে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়ের খসড়া চূড়ান্ত 

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ খসড়া চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করবেন।

বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়ের খসড়ায় যা রয়েছে 
  
‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ খসড়ায় বলা হয়েছে, বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা প্রদান করতে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল এর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সব সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সচিব নিযুক্ত হবেন, যিনি অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের বিচারক বা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এর কোনো সদস্য হতে পারেন। তিনি সরকারের সিনিয়র সচিব সমমর্যাদা ও সুবিধাদি ভোগ করবেন।

খসড়ায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়, হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি নির্ধারণের বিষয়েও বলা হয়েছে।

এছাড়া, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন সাপেক্ষে, রাজস্ব আদালতসমূহ ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সব অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, এখতিয়ার, ক্ষমতা ও গঠন নির্ধারণ করবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং বিচারকদের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান করা হবে। সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে থাকবে।

প্রস্তুত বিচারকদের বদলি-পদায়নের খসড়া নীতিমালা

গত বছরের ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে। সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকদের বদলি ও পদায়নে অভিন্নতা বজায় রাখা এবং দক্ষ বিচার প্রশাসন গঠন করার উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দিকনির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগ এই খসড়া প্রণয়ন করেছে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নলিখিত শর্তঅনুসরণ করা হবে- 

» বিচারককে কোনো কর্মস্থলে (আদালত/ট্রাইব্যুনাল) বদলি করা যাবে না যেখানে তার স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন, পিতামহ বা মাতামহ আইন পেশায় নিযুক্ত রয়েছেন।

» সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করার পূর্বে কোনো আইনজীবী সমিতিতে দুই বছর আইন পেশা পরিচালনা করলে চাকরিতে যোগদানের তারিখ হতে পরবর্তী দশ বছর তাকে উক্ত জেলায় পদায়ন করা যাবে না।

» কোনো বিচারকের যদি কৃষি বা অকৃষি ভূমির মালিকানা থাকে, তবে তাকে সেই জেলায় পদায়ন করা যাবে না।

এছাড়া, বিচারকদের কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে, যদি প্রধান বিচারপতির কাছে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো বিচারক বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন অথবা বদলির কারণে বিচার প্রশাসনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে, তবে সেই বিচারককে আরও এক বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে। এছাড়া চৌকি আদালতে কর্মরত বিচারকের পদায়নের মেয়াদকাল হবে সর্বোচ্চ এক বছর। 

সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইন নম্বরে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২৩টি কল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে- ৪২৬টি কলে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। ২৪৩টি কল-এ মামলা সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। ৪২টি কল-এ অনিয়ম, কাজে অবহেলা, সেবা প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে এবং এসব অভিযোগ সম্পর্কে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে

খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে- 

» ফিট লিস্ট ছয় মাস অন্তর পরিমার্জন করতে হবে।

» বিচারকদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে পালাক্রমে বদলি করা হবে।

» একাদিক্রমে দুবার একই কর্মস্থলে বদলি করা যাবে না।

» স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বদলি প্রস্তাবের সময় বিচারকের সততা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রধান বিচারপতি উপযুক্ত মনে করলে, এই নীতিমালায় বর্ণিত শর্তসমূহ শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।

এ নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত সকল জেলা ও দায়রা জজ/সমপর্যায়ের বিচারকদের তাদের মতামত লিখিতভাবে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচার সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে একটি দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সেবা সহজিকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন।

এই নির্দেশনার ভিত্তিতে, প্রত্যেক কর্মকর্তাকে তাদের নিজ নিজ দপ্তর মনিটরিং করতে হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করতে হয়। প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করেন।

সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইন সার্ভিস

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আসা বিচারপ্রার্থী বা সেবাগ্রহীতা যারা সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কোনো শাখায় সেবা গ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন বা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বার (01316154216) চালু করেছেন।

এই হেল্পলাইন পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা সেবাগ্রহীতাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদান করছেন।

হেল্পলাইন সার্ভিস প্রতি রোববার হতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু থাকে (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)।

এ পর্যন্ত হেল্পলাইন নম্বরে মোট ৭২৩টি কল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে- ৪২৬টি কল-এ আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। ২৪৩টি কল-এ মামলা সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। ৪২টি কল-এ অনিয়ম, কাজে অবহেলা, সেবা প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে এবং এসব অভিযোগ সম্পর্কে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জম হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে ধারণাপত্র পাঠানোর পর মন্ত্রণালয় থেকে আইনের খসড়া পাঠানো হয়েছিল এবং সুপ্রিম কোর্ট ওই খসড়ার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। 

তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় পৃথক সচিবালয়ের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আশা করছি, সরকার শিগগিরই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করবে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল সুপ্রিম কোর্ট ও বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার অংশ হিসেবে তিনি রোডম্যাপ ও কিছু গাইডেন্স দিয়েছেন। 

জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটা হলো শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা তৈরি। যেখানে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা থাকবে না। আইন বিভাগের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। আশা করি সরকার দ্রুত প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমেই শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা থাকবে না এবং আইন বিভাগের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার শিগগির প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করবে।