
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্যের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, তবে ক্রেতারা উচ্চমূল্যের কারণে কিছুটা সংকটে রয়েছেন। এদিকে, বাজারে ভেজাল ও নকল পণ্যের ছড়াছড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে।ডিমলার ঈদ বাজারে বেচাকেনা জমজমাট হলেও দামের ঊর্ধ্বগতি ও নকল পণ্যের ছড়াছড়িতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা বিপাকে রয়েছেন। প্রশাসন যথাযথ নজরদারি করলে ক্রেতাদের ঈদ কেনাকাটা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
ঈদ উপলক্ষে ডিমলার বাজারে জুতার দোকানগুলোতেও ভিড় বেড়েছে। ভারত ও চীনের পাশাপাশি দেশীয় ব্র্যান্ডের জুতার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।বাবুরহাটের জুতা ব্যবসায়ী রায়হান পারভেজ নয়ন (২৮) জানান, "ক্রেতারা আগের মতো চায়নিজ জুতার দিকে তেমন ঝুঁকছেন না। দেশি ব্র্যান্ডের জুতার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, তবে দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় বিক্রি কিছুটা কম।"জুতা কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী মো. নয়ন ইসলাম (২৩) বলেন, "ভালো মানের দেশি জুতা কিনতে গেলে ২০০-৩০০ টাকা বেশি লাগছে, তবে টেকসই বলে তাতেও রাজি আছি।"সেমাই, চিনি, দুধ, মসলা, গুড়ো দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অসন্তুষ্ট।শুটিবাড়ী বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা দিনমজুর মতিয়ার রহমান (৫০) বলেন, "সেমাই-চিনির দাম গত সপ্তাহেও কম ছিল, এখন প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি নিচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই দাম মেটানো কঠিন।"
ঈদ বাজারে নকল ও নিম্নমানের প্রসাধনী, সুগন্ধি, শিশুদের খেলনা ও খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।গয়াবাড়ী বাসিন্দা আবু তারেক (৩৫) বলেন, "গত বছর বাজার থেকে কম দামের আতর কিনে ত্বকে অ্যালার্জি হয়েছিল। এবার কেনার আগে ভালো করে যাচাই করছি।"এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেন, "বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্য ঠেকাতে ইতোমধ্যেই অভিযান চালানো হয়েছে। ক্রেতাদের সঠিক পণ্য নিশ্চিত করতে আমরা মনিটরিং জোরদার করব।"