
পবিত্র রমজান মাস পার করে কয়দিন পরই ঈদ। ফলে আনন্দঘন ঈদ উদযাপনে কেনাকাটা করছেন বাংলাদেশের মুসলিমরা। ছোট-বড় সবার নতুন জামা চাই। তাই পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৯ দিনে ২২৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাব (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) ধরে এই অঙ্ক ২৭ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার বেশি। এই ১৯ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১২ কোটি ডলার বা এক হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের ১৯ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৮ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছে। গত বছরের মার্চ মাসের প্রথম ১৯ দিনে ১২৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বৈধ পথে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কোটি ডলার বা এক হাজার ১১০ কোটি টাকা।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে এবং আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
মূলত গত বছরের আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে প্রবাসআয়ের গতি। চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থপাচার কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে হুন্ডি কারবারিদের দৌরাত্ম্যও। অন্যদিকে খোলাবাজারের মতোই ব্যাংকে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ ছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে আরো বেড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহ।