Image description

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরও একটি পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর পদ্মার বুকে আরও একটি সেতু নির্মাণের কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের স্থান নির্ধারণে তিন জেলার তিনটি পয়েন্টকে বিবেচনায় নিয়ে চলছে সমীক্ষা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি বাস্তবায়নে রাজবাড়ী, পাবনা ও মানিকগঞ্জ—এই তিন জেলার সীমান্ত এবং নদী অববাহিকাকে ঘিরে তিনটি সম্ভাব্য পয়েন্ট ও পুরো জোনজুড়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সেতুটি বিদ্যমান প্রথম পদ্মা সেতু থেকে আপস্ট্রিমে (উজানের দিকে) প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-পাবনা পয়েন্ট, মানিকগঞ্জ-রাজবাড়ী এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সমীক্ষা শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতেই উপযুক্ত স্থান চূড়ান্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণে বর্তমানে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলা সংলগ্ন তিনটি নির্দিষ্ট রুট বা পয়েন্টকে প্রাথমিক বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরামর্শক দল এই পুরো জোনজুড়ে ভূ-প্রাকৃতিক ও হাইড্রোগ্রাফিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে।

সেতু কর্তুপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মনিটরিং) মো. আহসানুল কবীর পাভেল কালবেলাকে বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমীক্ষা দল বর্তমানে জিওটেকনিক্যাল সয়েল ক্যারেক্টারিস্টিকস রিভার ক্যারেক্টারিস্টিকস, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা বিশ্লেষণ করে স্থান নির্বাচনে কাজ শুরু করেছে। সমীক্ষা কার্যক্রম আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের নাগাদ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর পরই সেতুর স্থানসহ অন্যান্য কিছু চূড়ান্ত হবে।

২০২২ সালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। এরপর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের সঙ্গে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের সংযোগ স্থাপনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোচনা সামনে আসে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পকে শীর্ষ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কেবল দ্বিতীয় পদ্মা সেতুই নয়, একই সঙ্গে বৃহত্তর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্প তিনটির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় সেতুর মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া যমুনা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি হবে ওয়াই টাইপের। দ্বিতীয় পদ্মা এবং যমুনা সেতু প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন) তৈরি এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে। এরপর শুরু হবে ভৌত কাজ।

এর আগে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য ২০০৫ সালের একটি সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ২০২৪ সালের জুনে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সেতু কর্তৃপক্ষ। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ জন্য একটি প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনাও তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুনে প্রস্তুতকৃত বিবি মাস্টারপ্ল্যানে কনসালট্যান্টদের দেওয়া কেবল-স্টেড ডিজাইনের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ব্যয় ও সেতুর দৈর্ঘ্যও উল্লেখ করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনা সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। গত ২৫ অক্টোবর জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক সমন্বিত লজিস্টিকস প্রকল্পের পাইপলাইন তালিকায় ৫৯টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে জাতীয় লজিস্টিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির তৃতীয় সভা এবং মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লজিস্টিকস উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক পাইপলাইন তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৫৬টি লজিস্টিকস উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আটটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাতটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং বিবিএ মাস্টারপ্ল্যান-২০৫০-এর আওতায় বাকি ৩৮টি প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার। আর এই সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তবনায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮৫৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান-২০৫০ এবং জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক সমন্বিত লজিস্টিকস প্রকল্পের পাইপলাইন তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে মূল প্রকল্পের ব্যয় অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত হবে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সেতুটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। নথি অনুযায়ি, কেবল-স্টেড ধাঁচের এই সেতুর মূল স্প্যান হবে ৪০০+৭০০+৪০০ মিটার। এ ছাড়া সেতুটির সঙ্গে ১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোড বা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত আটটি প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হলো ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প’।

প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ এবং জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এন৫-এন৭ রুটটি এন১-এর পর দেশের দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডোর। রুটটি ঢাকা-কলকাতা অর্থনৈতিক করিডোরের একমাত্র অসম্পূর্ণ সংযোগ। এটি ভারত থেকে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি বাণিজ্য সম্পাদনকারী বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করবে। সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছাড়াও মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং ভোমরা স্থলবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ এবং জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর মধ্যে সরাসরি নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি নির্মাণাধীন চার লেনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই রুটে সাধারণ কর্মদিবসে ৫ হাজারের বেশি এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ১০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া, সেতুটি চালুর মাধ্যমে সুন্দরবন, খুলনা ও বাগেরহাটের পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং ধর্মীয় পর্যটনের নতুন রুট উন্মুক্ত হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কেবল-স্টেড ডিজাইনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্দেশনায় ‘ওয়াই-টাইপ’ সেতু নির্মাণের সম্ভাবনাকেও ফিজিবিলিটি স্টাডিতে বিবেচনায় আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ ওয়াই-টাইপ সেতুটি বিদ্যমান প্রথম পদ্মা সেতু থেকে আপস্ট্রিমে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে মানিকগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিজাইন-২) মো. আরিফ উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ২০২৪ সালের জুনে প্রস্তুতকৃত সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে কনসালট্যান্টদের দেওয়া কেবল-স্টেড ডিজাইনের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ব্যয় ও অ্যালাইনমেন্ট উল্লেখ করা হয়েছিল। বর্তমানে কেবল-স্টেড ডিজাইনের পরিবর্তে ‘ওয়াই-টাইপ’ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ও সমীক্ষা চলছে, যা আগের আরিচা-পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অ্যালাইনমেন্ট বা নকশা থেকে ভিন্ন। চলমান সমীক্ষা শেষে সেতুর চূড়ান্ত অবস্থান, নকশা ও মূল প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মনিটরিং) মো. আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের যে প্রাথমিক প্রস্তাবনা ছিল, তাসহ সম্ভাব্য সব স্থান এখন নতুন করে রি-অ্যানালাইসিস ও অ্যাসেসমেন্ট করা হচ্ছে। কনসালট্যান্টরা সবেমাত্র ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করছেন এবং এর চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই সঠিক অবস্থান ও খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পুরো এলাকায় সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত ফলের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত হয় প্রথম পদ্মা সেতু। পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেলসেতু। দেশের দীর্ঘতম এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং অ্যাপ্রোচ রোড বা সংযোগ সড়ক ১২ দশমিক ১১৭ কিলোমিটার। সেতুটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে ১ হাজার ৪৭১ হেক্টর। এর পাশাপাশি মাওয়া প্রান্তে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার ও জাজিরা প্রান্তে ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদী শাসন করতে হয়েছে।

২০০৭ সালে একনেকে পাস হওয়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি। এরপর ২০১৮ সালের জুনে আবারও ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেতু থেকে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। পদ্মা সেতুর ওপরের অংশ দিয়ে যানবাহন ও নিচের অংশ দিয়ে রেল চলাচল করছে। এ সেতুর ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার বা দেশের মোট এলাকার ২৯ শতাংশ অঞ্চলজুড়ে ৩ কোটিরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে।