খুলনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্রে কালো কালি লেপন ও রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টার সাঁটানোর ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বিকৃত করা প্রতিকৃতিটি পুনরায় আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
আজ শনিবার দুপুরে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে রেলওয়ে স্টেশনের বাউন্ডারি ওয়ালে আঁকা দেয়ালচিত্রটি পরিদর্শন করেন কেসিসি প্রশাসক। এ সময় তিনি ঘটনাটিকে ‘অসম্মানজনক ও বিদ্বেষমূলক’ আখ্যা দিয়ে সেখানে আবারও রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি আঁকার ঘোষণা দেন। পরে প্রতিকৃতিটি পুনরায় আঁকার কাজ শুরু হয়।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে মহানগর জুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেয়ালে খুলনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও স্থান পেয়েছে। কিন্তু কে বা কারা তার প্রতিকৃতিতে কালো কালি লেপন করেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসম্মানজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। তবে তা প্রকাশ করতে গিয়ে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা অমর্যাদাকর, জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে কিংবা বিদ্বেষ ছড়ায়। একটি ছবি মুছে দিয়ে একজন মানুষকে অস্বীকার করা যায় না।’ যারা এ কাজ করেছেন, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা সামনে রেখে সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান কেসিসি প্রশাসক। তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষমুক্ত এবং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হয়, এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
দেয়ালচিত্র বিকৃতির ঘটনায় পুলিশকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘যারা এ কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।’ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যেন আর কেউ অংশ না নেয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি আঁকে কেসিসি। তবে শিববাড়ী মোড়ে রেলওয়ে স্টেশনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেখানে রবীন্দ্রবিরোধী বক্তব্যসংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়। পোস্টারগুলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা ছিল। তবে কারা এবং কী উদ্দেশে প্রতিকৃতিটি বিকৃত করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি রয়েছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে কেসিসির এ উদ্যোগ নগরবাসীর প্রশংসা পেলেও রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বিকৃতির ঘটনায় ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানা পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।