দেশের রফতানি পণ্যের প্রধান খাত গার্মেন্টস সেক্টর। তৈরী পোশাক বিদেশে রফতানি করে প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আসে। দেশের ত্রিশ লাখ নারীসহ প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই গার্মেন্টস সেক্টরে। গার্মেন্টস সেক্টরকে কেন্দ্র করে আরো কিছু পেশায় লাখো মানুষ জড়িত। দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল এবং ৪০ থেকে ৫০ লাখ লোককে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষায় এ সেক্টরকে সচল রাখতে হবে। গার্মেন্টস খাতের চলমান সংকট ও অসন্তোষের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, লাখ লাখ মানুষের কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে হলেও তৈরী পোশাক শিল্পকে রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি।
দীর্ঘমেয়াদে গার্মেন্টস শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক দল, শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে সমন্বিত রাজনৈতিক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত অপরিহার্য। মালিক-শ্রমিক দুই পক্ষকেই রক্ষা করতে হবে। গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতার মধ্যেই তৈরী পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বলেছেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাল্লাহ আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।’
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েক দিন রাজপথে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। রাজধানী ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীগুলো করে তোলা হয়েছিল বিস্ফোরণোন্মুুখ। পরিকল্পিতভাবে গার্মেন্টস সেক্টরকে ধ্বংস করা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করতেই যে পরিকল্পিতভাবে এই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল তা ওপেন সিক্রেট।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ‘শর্সের ভেতর ভূতের’ মতোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ চেতনার কিছু গার্মেন্টস মালিক, জুলাই অভ্যুত্থানের আগের সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী-এমপি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা গার্মেন্টস সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্টির নেপথ্যে ছিল। তারা পর্দার আড়াল থেকে অর্থের যোগান দেয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগের কর্মীদের ঢাকায় এনে রাস্তায় নামিয়েছেন। ঢাকা শহরে যে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালায় এদের বড় অংশ গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মী। তাদেরও গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যানারে রাস্তায় নামানো হয়েছিল।
কোনো কোনো গার্মেন্টস মালিক দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবে এমন প্রেক্ষাপট তৈরির লক্ষ্যে নিজ নিজ গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকদের সকালে হাজিরা নিয়ে রাস্তায় নামার ইন্ধন দিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, সাবেক এমপি এ কে আজাদের হামিম গ্রুপ, সালাম মুর্শিদীর এনভয় গ্রুপ, ফয়জুল রহমানের তুসুকা গ্রুপ, ইলিয়াস মোল্লার গার্মেন্টস, সাবেক মন্ত্রী টিপু মুনশির সিপাল গ্রুপ, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর রেনেসা গ্রুপ, নসরুল হামিদ বিপুর হামিদ গ্রুপ, তাজুল ইসলামের ফেরিয়ান গ্রুপ, খসরু চৌধুরীর নিপা গ্রুপ, জাহিদ আহমেদ টুলুর এক্সসিসি নিটওয়্যার, এ কে এম মোশাররফ হোসেনের স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ, মাসুমা খাতুন লিপার গিভেনসি গ্রুপের শ্রমিকদের হাজিরা নিয়ে রাস্তায় নামানো হয়।
এমনকি পুলিশ যাতে মারমুখী হয়ে রাস্তায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের লাশ ফেলে অঘটন ঘটিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ করে তোলেন সে লক্ষ্যে অর্থ ছড়ানো হয়েছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার চেতনাধারী তাদের টাকা দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ গার্মেন্টস শ্রমিক নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেলেও এখনো আশঙ্কা রয়েছে তারা যেকোনো উসকানিতে আন্দোলনে ফিরতে পারে। কারণ যেসব গার্মেন্টসে বিদেশি মালিক এবং দেশি-বিদেশি মালিকের যৌথ মালিকানা এবং বিদেশি শ্রমিকরা যেসব গার্মেন্টসে কাজ করেন সেসব গার্মেন্টসের সামনে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়।
গার্মেন্টস সেক্টরে কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতা রাজপথে সংঘাত ঠেকাতে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল নানাবিধ চেষ্টা করছেন। অথচ গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন ইস্যুতে রহস্যজনক বক্তব্য দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত। জামায়াত জোটের শরিক দল এনসিপির নেতারা ‘রাজপথে আন্দোলনরত তথাকথিত শ্রমিকদের’ সমর্থন করেছেন। আর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রথম দিকে শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিলেও পরিস্থিতি বুঝে সংযমী হয়েছেন। তিনি পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা অত্যন্ত কঠিন জীবনযাপন করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।’
গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিকদের জন্য ১৫ দফা দাবিনামা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একজন শ্রমিকের মাসিক আয়ে নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছেন।’
বাস্তবতা হচ্ছে দেশের অর্থনীতি এখনো খাদের কিনারে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে ফোকলা করে পালিয়েছেন। ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংস করেছেন, প্রতিটি নাগরিকের ঘাড়ে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার করে বিদেশি ঋণের বোঝা। নির্বাচিত নতুন সরকারকে এই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না দেশে। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন’ করেছিল। ওই সম্মেলনে অর্থশতাধিক দেশের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেই বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতির এক টাকাও বিনিয়োগ হয়নি। উল্টো নতুন কর্মসংস্থানের বদলে উল্টো ব্যাপক হারে বেকারত্ব বেড়েছে। বর্তমানে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের প্রধান উৎস প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আর তৈরী পোশাক রফতানির বিদেশি মুদ্রা। কিন্তু গার্মেন্টস সেক্টরে বিদেশি অর্ডার কমে গেছে।
দেশে গার্মেন্টস শিল্পের পত্তন হয়েছিল বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। মূলত জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশের তৈরী পোশাক শিল্পের প্রাথমিক ভিত্তি ও বিদেশি রফতানির সূচনা হয়। ১৯৭৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি ‘ডেউ করপোরেশন’-এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম রফতানিমুখী পোশাক কারখানা ‹দেশ গার্মেন্টস’ ব্যবসা শুরু করে। নুরুল কাদের খান নামের এক ব্যবসায়ী ওই গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের সরকার পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা এবং রফতানি আয়ের ওপর আয়কর প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বিগত শতকের আশির দশকে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে তৈরী পোশাক রফতানিতে প্রথম অবস্থান চীনের। এরপরই দ্বিতীয় অবস্থান ভিয়েতনামের। বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। অথচ কয়েক বছর আগেও চীনের পরই ছিল বাংলাদেশের অবস্থান।
অনেকেই বলছেন, গার্মেন্টস শিল্পের ওপর শকুনি দৃষ্টি পড়েছে। দেশি-বিদেশি চক্র তিন দশক আগে বাংলাদেশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করেছে। আদমজী পাটকল যখন বন্ধ ঘোষণা করা হয় ওই সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন নতুন পাটকল নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন ওই চক্রই গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে। গ্রাম-গঞ্জের লাখ লাখ নারী শ্রমিক গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কয়েক বছর আগেও গ্রামে যে মেয়ের বিয়ে হতো না যৌতুকের অভাবে, বাবা-মায়ের বোঝা হিসেবে চোখের পানি ঝরাতেন; সেই মেয়েরা ঘরে বসে না থেকে গ্রার্মেন্টসে কাজ করছেন; নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন বাবা-মায়ের সংসার চালাচ্ছেন।
কেউ কেউ স্বামী-স্ত্রী মিলে গার্মেন্টসে কাজ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এখন গার্মেন্টস শিল্পে সংকট সৃষ্টি হলে তৈরী পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ওই পরিবারগুলোর পথে বসার উপক্রম হবে। নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলোর ভোটে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা সংসদে গেছেন, মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন। ফলে এদের খেয়েপরে বেঁচে থাকার পথ যাতে ধ্বংস না হয় সে জন্য রাজনীতিকদের দায়িত্ব কম নয়। হিন্দুত্ববাদী ভারতের দিকে তাকালে কি দেখি? দেশটির বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরোধ। নরেন্দ্র মোদির বিজেপির সঙ্গে রাহুল গান্ধির কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। রাজনৈতিক দর্শন এবং চেতনায় তাদের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তারপরও জাতীয় সংকটে সরকার-বিরোধী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
১৯৮২ সালে কাশ্মীরে মুসলিম হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘ ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তুলেছিল। সে সময় কংগ্রেস নেত্রী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির অটল বিহারী বাজপেয়ীকে জাতিসংঘের ট্র্যাইব্যুনাল হেগে পাঠিয়েছিলেন দেশের পক্ষে লড়াই করতে। নিকট অতীত জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি দোটানায় পড়ে যায়। সেটা জাতীয় সংকট হিসাবে ধরে ভারতের সব রাজনৈতিক দল বৈঠক করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, বিরোধী দল জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত গার্মেন্টস সেক্টরের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে সেক্টরটিকে গতিশীল করতে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। রাজনৈতিক বিরোধিতা আর রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা বা জাতীয় স্বার্থ এক নয়।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেশের গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ইতোমধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। সে ঢেউ লেগেছে দ্রব্যমূল্যের বাজারে। এ অবস্থায় একজন গার্মেন্টস কর্মী যে পরিমাণ বেতন পান তা জীবনযাপনের খুবই অপ্রতুল। ফলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক। সরকার ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাবেক জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন— গার্মেন্টস মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে। ফলে মজুরি বোর্ড গঠন করে ‘গার্মেন্টস সংকট কার্পেটের নিচে সাময়িক চাপা দিয়ে রাখা নয়’ প্রয়োজন সবাই মিলে গার্মেন্টস সংকটের স্থায়ী সমাধানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন— এমন ঘোষণার পর দেশে নানাভাবে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সেই অরাজকতার সর্বশেষ চেষ্টা গ্রার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতা সৃষ্টি। প্রশাসনে কর্মরত হাসিনার অলিগার্ক আমলারা নানাভাবে চেষ্টা করছেন হাসিনাকে ফেরাতে। তারা সরকারের ভেতরে থেকেই কিছু দায়িত্বশীল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর অযোগ্যতার সুযোগ নিয়ে পর্দার আড়ালে থেকে বিশৃঙ্খলায় মদদ দিচ্ছেন। এখন প্রয়োজন জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য। কিছু দলীয় সুযোগ-সুবিধার লোভ এবং বিদেশি চক্রের ফাঁদে পড়ে গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে বিরোধ-বিভেদ নয়; বরং গার্মেন্টস মালিক-শ্রমিক সবার স্বার্থ রক্ষা করে বিশেষ করে জাতীয় স্বার্থেই গার্মেন্টস সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর এক প্লাটফর্মে আসা উচিত। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া যতই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হোক সংকটের স্থায়ী সুরাহা হবে না।