ইউরোপজুড়ে চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকির আশঙ্কায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে গিয়েছিল।
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ওয়ারশ-শপিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে মঙ্গলবার ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচির বাইরে পোল্যান্ডের রাজধানীর অন্য বিমানবন্দর মডলিনে অবতরণ করে। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়।
কোপেনহেগেন থেকে ওয়ারশ-শপিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আরেকটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়েই অবতরণ করে। পরে উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
স্পেনের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন, ম্যানচেস্টার থেকে দক্ষিণ স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজেও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এদিকে বুলগেরিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েল থেকে ছেড়ে আসা একটি ফ্লাইট ই-মেইলে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর রাজধানী সোফিয়ায় অবতরণ করে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওয়ারশ-মডলিন বিমানবন্দর মঙ্গলবার সকালে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সেখানে আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তবে যে অংশে উড়োজাহাজটি রাখা হয়েছে, বিমানবন্দরের সেই অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পোল্যান্ডের বিমান সংস্থা লট পরিচালিত ফ্লাইটটিতে ১১৮ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।
কোপেনহেগেন থেকে আসা ফ্লাইটটি পরিচালনাকারী এসএএস জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী নেমে গেছেন। শপিন বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানান, বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকার একটি রানওয়ে বন্ধ রাখা হলেও সামগ্রিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
স্পেনের মুরসিয়া অঞ্চলে সরকারের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো লুকাসের তথ্য অনুযায়ী, রায়ানএয়ারের ফ্লাইটটিতে ক্রুসহ ১২১ জন ছিলেন।
তিনি বলেন, উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মুরসিয়া-কোরভেরা বিমানবন্দরেও তাদের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বুলগেরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার দুপুরের দিকে জানায়, ইসরায়েল থেকে আসা একটি ফ্লাইট সোফিয়ায় অবতরণের আগে ই-মেইলে বোমা হামলার হুমকি পেয়েছিল।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান সচিব লিউবোমির নিকোলভের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী দল উড়োজাহাজটিতে বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করছে।
এই চারটি ঘটনার এক দিন আগে লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর হাঙ্গেরির একটি যুদ্ধবিমানের পাহারায় বুদাপেস্টে জরুরি অবতরণ করে।
পরে উইজ এয়ার জানায়, নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বিবিসি