Image description

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুসহ তার কয়েকজন স্বজনের নামে দেওয়া সার ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলার সার ব্যবসায়ী, স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

 

সোমবার (২ নভেম্বর) জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক বরাবর এ আবেদন করা হয়।

 

আবেদনকারীদের অভিযোগ, গুরুদাসপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কয়েকজনকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ডিও লেটার এবং তার ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, ধারাবারিষা ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্যের ভাগনের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের মালিকানাধীন রাজ বিজনেস সেন্টার এবং তার ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের ভায়রাসহ ঘনিষ্ঠজনদেরও সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

নতুন নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, চাহিদা অনুযায়ী গুদামঘর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ওমর আলী শেখের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নাটোরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান জানান, তিনি আবেদনের অনুলিপি পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার তার নেই। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিটির সভায় বিষয়টি উঠলে তিনি তার মতামত দেবেন।

 

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সার ব্যবসায়ীদের একটি আবেদন তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক দেখবেন।