Image description

মানিক পশারীর মৃত্যুর আট দিন পরও তাকে নিয়ে বিতর্ক থামেনি। পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন—এমন অভিযোগ ওঠার পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে আনা হলে রাষ্ট্রীয় সম্মান তথা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এবার শুধু মানিক পশারী নন, পিরোজপুরে আরও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকার কথা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল।

গত শনিবার পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সালাম ও দাফন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, ‘এই সভায় উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে দু-একজনকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি, যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা নন। পশারীর ঘটনায় বিতর্ক তৈরির জন্য জামায়াত দায়ী নয়; বরং এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু গুপ্ত ব্যক্তি এর জন্য দায়ী।’

সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কবির বাদল বলেন, ‘সাঈদী রাজাকার ছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্কের প্রয়োজন নেই। মানিক পশারীর নাম সরকারি গেজেটে রয়েছে। গেজেট বাতিল না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই বিবেচিত হবেন তিনি।’

মানিক পশারীর মৃত্যুর আট দিন পরও তাঁর কবরের কাছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোনো সদস্য বা প্রতিনিধিদল গিয়েছিলেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, কেউ গিয়েছেন কি না, তা তাঁদের জানা নেই। তবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কবির দাবি করেন, পিরোজপুরের ঘটনায় বিতর্ক তৈরির জন্য জামায়াত দায়ী নয়। বরং এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু গুপ্ত ব্যক্তি এর জন্য দায়ী।

এর আগে ফেসবুক লাইভে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তৎকালীন সরকারের কিছু প্রতিনিধি মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে গেজেটভুক্ত করেন।

একই ধরনের দাবি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হকও। তাঁর দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আর যাচাই-বাছাই না হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি গেজেটভুক্ত হন।

এদিকে এসব বক্তব্যের পর পিরোজপুরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর মানিক পশারী কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেটভুক্ত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, আর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকলে তাঁর গার্ড অব অনার ও জানাজায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেননি কেন—সে প্রশ্নও রয়ে গেছে।

এর আগে এক সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র মানিক পশারীর মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের বলেন, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে এবং সাক্ষ্য দেওয়ার অনেক পরে তিনি গেজেটভুক্ত হয়েছেন।