Image description

‘সাত দফা দাবি মেনে নেন, না হলে একদফাতে ফিরে যাব’- জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? আমরা সবাই ‘রিপ ভ্যান উইঙ্কেল’-এর মতো ঘুমিয়ে ছিলাম, তারপর হঠাৎ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে! গত ১৭ বছর বিএনপি নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। বহু মানুষ নির্যাতন-নিপীড়ন শিকার হয়েছে, হাত-পা চলে গেছে, পুলিশের গুলিতে অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছে- এতো ত্যাগ নিয়েই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। রাস্তা কি আপনাদের মৌরসি পাট্টা করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে? আন্দোলনের মাঠ আপনাদের দখলে থাকবে আর বিএনপি ঘরের মধ্যে হাত-পা গুটিয়ে চুপচাপ বসে থাকবে?

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর পুরান ঢাকায় আইনজীবী সমিতি ভবনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিট আয়োজিত ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলের ভূমিকা বর্তমানে বিস্ময়কর। আজকে তারা নানাধরণের উসকানি দিয়ে কথা বলছে। তারা বলেছেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানতে হবে। কিন্তু বিএনপি তা অস্বীকার করেনি। সনদে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আলোচনার টেবিলে কিংবা পার্লামেন্টে এগুলো আগে সমাধান করার প্রয়োজন। লংমার্চ কিংবা সড়ক অবরোধ করে কোনো কিছুর সমাধান হয় না। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে না।’

 
 

জামায়াত আমিরের আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে- এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, বার বার স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস। অন্যের কাছে নাকে ক্ষত দেওয়ার ইতিহাস। আপনারা কি কোনোদিন বিপ্লব করেছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯৫ সালের ইতিহাস ভুলে যায়নি জনগণ।’

 
 

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, সংবিধান সংস্কার করতে হবে। আমরা বলেছি সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্রায়ণের জন্য জুলাই সনদের যেসব কথা বলা হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু আপনারা মানতে চান না। একটি জাতির আত্মজীবনী হল তার সংবিধান। যত দিন যাবে সংবিধানের বয়স বাড়বে, তত দিন সংবিধান সংশোধন করে তা লিপিবদ্ধ থাকবে। কিন্তু সংবিধান সংস্কার করে কি বোঝাতে চাচ্ছেন তার হদিস পাচ্ছি না।’

আইনজীবীসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন দেশ সফর করে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আজকে হঠাৎ করে গার্মেন্টস শ্রমিক রাস্তায় নামছে, অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। এরা যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসব ষড়যন্ত্র বুঝতে সময় লাগে না। এসব চক্রান্ত ষড়যন্ত্র ছিন্ন করেই সরকার এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’

বক্তব্যের শুরুতে আইনজীবী ফোরামের ৩৫ বছরের ঐতিহ্য স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আদালত প্রাঙ্গণই ছিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল। নিজের টানা ৩৫ দিনের রিমান্ডের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই না থাকলে আমাদের ওপর জুলুমের মাত্রা আরও বাড়ত। শেথ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ ছিল তার আদালত, বিচারপতি ও আইনজীবীরা।’

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিহার হোসেন ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট বোরহানউদ্দিন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহসিন মিয়া, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।