Image description

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা খাতা দেখায় বড় কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নন তিনি।মন্ত্রী জানিয়েছেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা বোঝা যাবে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।বিগত বছরগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার তা ৪০ হাজারে নেমে আসার কারণ এবং আগের ফলাফল তদন্ত করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘খাতা দেখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলাফলে কোনো অসংগতি থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। এরপর বোঝা যাবে, এবার ফলাফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে।

’তিনি বলেন, ‘গতবার পুনর্নিরীক্ষণে অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এবার কী হয়, সেটি আমরা দেখতে চাই। শিক্ষকদের বা পরীক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত বলতে পারি, ফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে ফলাফলে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিষয়টি বোঝা যাবে।’এ সময় পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।

এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করবো।’ উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাদের মূল্যায়নে বেশি গরমিল পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। আগামী দিনে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যেমন লিখেছে, ঠিক সেভাবেই তাদের মূল্যায়ন করা হোক। কোনো শিক্ষার্থী যেন ভুল মূল্যায়নের কারণে অনুৎসাহিত না হয়। সবার জন্য স্বচ্ছ ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।এর আগে বেলা ১১টার দিকে একযোগে সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ৯টি সাধারণ এবং মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। বিগত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।