Image description
 
তরুণ রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা ভুল করবেই ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে, আওয়ামী এবং জামাত এর বাইরে একটা বিরোধী দলের জন্যে রিয়্যাল এস্টেট খালি পরে আছে। মার্কেট ডিমান্ড আছে। একারণে শুরুতেই বলে নিচ্ছি আমি এনসিপির মতো একটা দলের ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে করি।
 
এবার আসি সমালোচনায়।
 
এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্ট্রং এবং কোন কোন ক্ষেত্রে শকিং কথাবার্তা নির্ভর হয়ে যাচ্ছে।
যেমন, মির্জা আব্বাস সারা দেশে চাঁদা তুলে -- এইটা এনসিপির একটা শকিং এবং পপুলার মেসেজ ছিল ইলেকশনের সময়। গতকাল দেখলাম এনি চৌধুরীর বাসায় নাকি এখন দেশের সব চাঁদার টাকা চলে যাচ্ছে এমন একটা কথা তুলেছে এনসিপি ।
 
এই অতি সরলীকৃত অভিযোগগুলো দ্রুত ছড়ায় , কারণ এগুলো শকিং , শুধু ব্যক্তি এনি কিংবা আব্বাসের জন্যে না। পুরো দেশের রাজনীতির জন্যে।
এধরণের কথা বলার কারণে এনসিপির কিছু তরুণ নেতার ভিডিও ভাইরাল হয় মাঝে মধ্যেই।
এমন শকিং কথা বলার যে রাজনীতি সেটার সমস্যা দুইটা।
 
প্রথমত , শকিং কথা বার বার বললে এক সময় মানুষ শকিং কথা ডিসকাউন্ট দিয়ে বিশ্বাস করে। মানে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না।
দ্বিতীয়ত , শকিং কথার ধার যখন এক সময় নষ্ট হয়ে যায় , তখন দর্শকের এটেনশন ধরে রাখার জন্যে শকের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে হয়।
উপরের দুইটা সিচুয়েশনই যারা শকিং কথা বলছে তাদের দীর্ঘ দিনের রাজনীতি করার সুযোগকে সংকীর্ণ করে ফেলে, কথার দাম কমিয়ে ফেলে , সিরিয়াসনেস নষ্ঠ করে। প্রচুর শত্রু তো বানায় অবশ্যই।
একারণে , রাজনীতিতে শকিং অভিযোগ , শকিং স্টেটমেন্ট , খুবই কালেভদ্রে দিতে হয়। পারলে এভোয়েড করতে হয়।
পরের যে ইস্যুটা সেটা হলো এস্কালেশন বা আক্রমণ।
 
যেদিন হাসিনা ভারতে প্রেস কনফারেন্স করেছিল, তার পরের দিন এনসিপি সচিবালয় ঘেরাও দেয় তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে। টাইমিংটা ছিল খুবই ওড।
কোন কিছু ঘেরাও দিতেই হলে , সেদিন এনসিপির উচিত ছিল ইন্ডিয়ান হাইকমিশন ঘেরাও দেওয়া হাসিনাকে কথা বলতে দেবার বিরুদ্ধে।
তার ওপর সচিবালয় ঘেরাও দেওয়া অনেক বড় এস্কালেশন বা আক্রমণ। এটা করতে হয় দীর্ঘ আন্দোলনের শেষের দিকে , শুরুতে না।
একই ঘটনা ঘটেছে আজকে ।
 
সালাউদ্দিন সাহেব এবং টুকু সাহেবের পদত্যাগ চেয়েছে এনসিপি । বিরোধী দলের জন্যে দুইজন মন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া রাজনৈতিক একটা পদক্ষেপ , যেটা তারা নিতেই পারে ।
এখানে থামলেই চলতো ।
 
কিন্তু তারা বলে বসেছে দাবি না মানলে প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও দেওয়া হবে।
এগেইন , প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও দেওয়া একটা মারাত্মক লেইট স্টেজের খেলা।
 
দীর্ঘ আন্দোলনের শেষের দিকে এটা দেওয়া যেতে পারে, যদি কোন প্রধানমন্ত্রী আসলেই সেই পরিমান অজনপ্রিয় হয়ে যায়। সেই সময় এখনও আসে নাই , তারেক রহমান ব্যক্তিগত ভাবে যথেষ্ঠ জনপ্রিয়।
তাছাড়া , তারেক রহমানকে এখনই ঘেরাও দেওয়ার হুমকি দিলে , আরো ১ - ২ বছর পরে কিসের হুমকি দেবে এনসিপি ?
ওষুধের মাত্রা একারণে শুরুর দিকে কম রাখে পরিণত ডাক্তাররা ।
 
এনসিপির জন্যে রাজনীতির সাজেশন থাকবে বোরিং রাজনীতি করার প্রাকটিস করা। সময় তাদের সাথে আছে।
দল গঠন , পলিসি ডিবেট, গণ সংযোগ , প্রচার --- এগুলো করতে হবে এনসিপিকে আরো দীর্ঘ দিন।
শকিং কথা বার্তা এবং মাত্রাতিরিক্ত ময়দানি রাজনীতি কিংবা হুমকির রাজনীতি করা এনসিপির জন্যে ক্ষতিকর হবে।