Image description

খুলনায় দুই তরুণ-তরুণীকে আটকের ভিডিও প্রকাশের পর তাদের মুখ ও পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। কোথাও ‘আপত্তিকর অবস্থায়’, কোথাও ‘হাতেনাতে আটক’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘিরে ভিডিও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। সাংবাদিকতার শিক্ষকরা বলছেন, এমন কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, শব্দচয়ন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সংবাদমূল্য বিবেচনার ঘাটতি রয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে খুলনায় একটি ব্যাচেলর মেস থেকে এক তরুণ ও তরুণীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। আটক তরুণ সাতক্ষীরার জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ছেলে বলে পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে। নগরীর খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর রোডের ৩২৫ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের কাছে হস্তান্তরের আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে ওই তরুণ-তরুণীকে ক্যামেরার সামনে প্রশ্ন করতে দেখা যায়। তাদের ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটকের দাবি করা হলেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি, যা থেকে ওই দাবি নিশ্চিত করা যায়।

এরপর একই ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিওর সঙ্গে বিস্তারিত সংবাদ, ঘটনার প্রেক্ষাপট কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছিল না। শুধুমাত্র ক্যাপশন দিয়েই আটকের দাবি এবং তরুণের রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে আনা হয়।

বাংলানিউজ-২৪ ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিওটি প্রকাশ করে শিরোনাম দিয়েছে, “মেস থেকে তরুণীসহ জামায়াত নেতার ছেলে আটক”।

একাত্তর টিভি, সময় টিভি, মাছরাঙা টিভি, নিউজ টোয়েন্টিফোর, ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ, বৈশাখী টিভি, সময়ের আলো, খবরের কাগজ ও মোহনা টিভিসহ একাধিক গণমাধ্যমও প্রায় একই ধরনের শিরোনাম ব্যবহার করে। আরটিভির শিরোনামে ছিল, ‘খুলনায় জামায়াত নেতার ছেলে আপত্তিকর অবস্থায় আটক’। চ্যানেল ওয়ান কোনো বিস্তারিত সংবাদ ছাড়াই একই ঘটনা নিয়ে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। খুলনা প্রতিদিন নামে একটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারও করে।

ভিডিওগুলোতে তরুণ-তরুণীর মুখ দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়, কয়েকটি গণমাধ্যম তাঁদের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করে। বেঙ্গল লেন্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ টাইমস, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আজকের পত্রিকা, সময়ের আলো ও চ্যানেল-২৪ তরুণের নাম-পরিচয়সহ সংবাদ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, টাইমস টুডে, বাহান্ন নিউজ, এশিয়ান টিভি, দৈনিক যশোর, নিউজ বাংলাদেশ, সময়ের খবর ও ডেইলি বাংলা পোস্টসহ কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম আটক তরুণীর নাম প্রকাশ করেছে।

আপত্তিকর দৃশ্য নেই, তবু শিরোনামে ‘আপত্তিকর’ দাবি

ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’, ‘হাতেনাতে আটক’ ও ‘ধরা পড়েছেন’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

এশিয়ান টিভির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এক তরুণীসহ ওই তরুণ ‘আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন’। একই প্রতিবেদনে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘরের ভেতর থেকে তাঁদের ‘হাতেনাতে আটক’ করে বলে উল্লেখ করা হয়। সময়ের আলো, বাহান্ন নিউজ, নিউজ বাংলাদেশ, দৈনিক যশোর ও সময়ের খবরেও একই ধরনের শব্দচয়ন দেখা গেছে।

কিন্তু ভিডিওতে যা দেখা যায়, তা দিয়ে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ থাকার দাবি নিশ্চিত করা যায় না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ. আলী আর রাজী বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, ‘আপত্তিজনক’ বা ‘আপত্তিকর’ শব্দের ব্যবহার অনেক সময় ঘটনাকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করে। তাঁর ভাষ্য, ‘আপত্তি’ কার, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

তিনি বলেন, “আপত্তিটা কার আসলে? আমরা মাঝেমধ্যে বলতাম যে, আপত্তিজনক অবস্থায়... তারা তো সম্ভবত স্বাভাবিক অবস্থাতেই ছিল, আপত্তি হচ্ছে দর্শক বা প্রতিপক্ষের, তাই না? এসব আমরা ব্যবহার করি একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে বাঁধাই করার জন্য, ঘটনাকে একটা নির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার চেষ্টা করার জন্য। তাই এখানে 'আপত্তিজনক' বা 'আপত্তিকর' 'নির্জন স্থানে’ ‘গোপনে' ইত্যাদির ব্যবহার থাকবেই।”

একই প্রবণতা অন্য ঘটনাতেও

খুলনার ঘটনার আগে ও পরে আরও কয়েকটি ঘটনায় আটক নারী-পুরুষের ভিডিও একইভাবে প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম।

গত ২০ অক্টোবর পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের রাজধানীর খিলক্ষেতের বাড়িতে অভিযানের সময় নারীসহ ৮৪ জনকে আটকের ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে সমকাল, ইত্তেফাক, চ্যানেল২৪, আরটিভি, মাইটিভি, চ্যানেল ওয়ান, এসএ টিভি, বাংলাদেশ টাইমস, এশিয়া পোস্ট, সময়ের আলোসহ একাধিক গণমাধ্যম। ‘অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে অভিযানে মাদক উদ্ধার, নারীসহ আটক ৮৪’—এমন ক্যাপশনের সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতে নারী-পুরুষের মুখ দেখা যায়। তবে এশিয়া পোস্টের ভিডিওতে তাঁদের মুখ ঝাপসা করা হয়েছিল।

এর আগে ১২ অক্টোবর ‘গভীররাতে গুলশান ক্যানভাস বার থেকে শতাধিক তরুণ-তরুণী আটক’ শিরোনামে ভিডিও প্রকাশিত কালেরকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ১০ অক্টোবর চ্যানেল ওয়ান ‘পঙ্গু হাসপাতালের ওয়াশরুমে আপত্তিকর অবস্থায় তরুণ-তরুণী আটক!’ শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করে। ৯ সেপ্টেম্বর নয়া দিগন্ত প্রকাশ করে ‘রংপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৫ তরুণ-তরুণী আটক’ শিরোনামের ভিডিও।

এ ছাড়া এনপিবি নামের একটি গণমাধ্যমের কনটেন্টে ৬ এপ্রিল মিরপুরের একটি মদের বার থেকে নারী-পুরুষ আটকের, ১৭ এপ্রিল সিসা বারে মাদক অভিযানে একজনকে আটকের এবং ৩১ জুলাই ও ১৯ আগস্ট গুলশানের স্পা সেন্টারে অভিযানে তরুণীদের আটকের ভিডিও পাওয়া গেছে।

ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট এক নয়। কোথাও মাদক উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, কোথাও আটকের অভিযোগের সঙ্গে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ বা ‘আপত্তিকর অবস্থার’ মতো শব্দ যুক্ত হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় ব্যক্তিদের মুখ দেখিয়ে ভিডিও প্রকাশের প্রবণতা একটি সাধারণ প্রশ্ন তৈরি করে: আটকের দৃশ্য প্রচার করা এবং আটক ব্যক্তিদের শনাক্ত করা—দুটিই কি সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয়?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, “কোনো ঘটনার ভিডিও প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলোর উত্তর রয়েছে কি না এবং কী ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিবেচনা করা জরুরি।”

তার মতে, অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্রুততার প্রতিযোগিতা তথ্য যাচাইয়ের সুযোগকে সংকুচিত করছে। ক্লিক ও ভিউয়ের সঙ্গে আয়ের সম্পর্ক থাকায় যাচাইয়ের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ পরিবেশনে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পক্ষপাতের প্রবণতাও লক্ষ করা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভিডিও প্রকাশে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন

খুলনার ঘটনায় তরুণ-তরুণীকে ক্যামেরার সামনে প্রশ্ন করার দৃশ্য এবং পরে তাঁদের মুখ ও নাম-পরিচয় প্রকাশের বিষয়টি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোতে তাদের পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণের রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয়কে শিরোনামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই পরিচয় প্রকাশের সঙ্গে আটকের ঘটনার সংবাদমূল্যের সম্পর্ক কতটা, তা প্রতিবেদনের উপস্থাপনায় স্পষ্ট নয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, “এমন ঘটনায় বিশেষ করে তরুণীর নাম প্রকাশ করা অনুচিত।” তার মতে, সংশ্লিষ্ট তরুণের পরিচয়ও অপরাধ নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রকাশ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকাশনা ব্যক্তির ভবিষ্যৎ ও সামাজিক মর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশের পর তাকে নিয়ে সামাজিক ধারণা তৈরি হলে পরে সংবাদমাধ্যম দুঃখ প্রকাশ করলেও সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না।”

তবে গোপনীয়তার প্রশ্নটি শুধু নারীর পরিচয় প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খ. আলী আর রাজীর মতে, নারী-পুরুষ উভয়েরই ব্যক্তিগত মর্যাদা রয়েছে; তাই কোনো ঘটনায় একজনের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্যজনের তুলনায় আলাদা মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত নয়।

তার বক্তব্য, ‘এটা মেয়ের প্রশ্ন না—আপনি কি ছেলেটার ক্ষেত্রে এমনটা করতে পারেন? ছেলেটার ক্ষেত্রেও পারেন না।’

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “সংবাদ প্রকাশের আগে ঘটনাটির সংবাদমূল্য বিবেচনা করা জরুরি।”

তার প্রশ্ন, একটি ব্যক্তিগত ঘটনা প্রকাশ করে জনস্বার্থে কী তথ্য যোগ হচ্ছে এবং এটা দিয়ে কি যায় আসে? এটা দিয়ে মানুষের আর্থিক বা সামাজিক কি তুলে ধরতে চাচ্ছে? কিছুই উঠে আসে না। দুটো তরুণ-তরুণীর বিষয়, একেবারেই ব্যক্তিগত একটা বিষয়। তারা প্রকাশ্যেও কিছু করছে না, কোনো অবৈধ জায়গায়ও না। এমন না যে তাদেরকে পতিতালয়ে গিয়ে ধরছে! তাদের প্রাইভেট প্লেসে তাদের সম্পর্ক কি, সেটাও জানা নাই, তাদের কি ধরনের অ্যাগ্রিমেন্ট আছে সেটাও জানা নাই। একজন মানুষ তো প্রাইভেট প্লেসে যেতেই পারে, তাই না?”

ভিডিওতে মুখ ঝাপসা করা হলেও ব্যক্তিগত ঘটনার ভিডিও প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কারণ, পরিচয় আড়াল করা আর অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত দৃশ্য প্রকাশ না করা এক বিষয় নয়। কোনো তথ্য জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় না হলে শুধু মুখ ঝাপসা করাই প্রকাশের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করে না বলে মনে করেন এই শিক্ষক।

মোরাল পুলিশিংয়ে মিডিয়ার ভূমিকা

খুলনার ঘটনায় প্রথমে স্থানীয়রা তরুণ-তরুণীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি, ক্যামেরার সামনে প্রশ্ন এবং ভিডিওর ব্যাপক প্রচার—সব মিলিয়ে ঘটনাটি বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে।

এখানে দুটি পৃথক বিষয় রয়েছে। প্রথমটি হলো, স্থানীয়রা কোন অভিযোগে তাদের আটক করেছিলেন এবং সেই অভিযোগের আইনি ভিত্তি কী। দ্বিতীয়টি হলো, মিডিয়া কীভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করেছে। প্রথমটির নিষ্পত্তি না হলেও দ্বিতীয়টি প্রকাশিত সংবাদ, ভিডিও ও ক্যাপশন বিশ্লেষণ করে পর্যালোচনা করা যায়।

খ. আলী আর রাজী বলেন, “কারও ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ এবং তা প্রকাশের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, কোনো কাজ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার একটি পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া আছে; নিজেরাই বিচারকের ভূমিকা পালন করতে পারেন না।”

তিনি ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, “এটা একান্তই মানুষকে হেয় করার জন্য। মিডিয়ার যে সহিংসতা তৈরির প্রবণতা—সেটাই মূলত আমরা দেখলাম। সমবেতভাবে মিডিয়া মাফিয়ার মতো কাজ করে একটা ব্যক্তিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য। কোনোভাবেই এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এর পেছনে কোনো যুক্তি কাজ করে না, কোনো তত্ত্ব নাই, কোনো আলোচনা নাই। একই ভিডিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।”

অধ্যাপক শাহ মো. নিসতার জাহান কবীরও বলেন, “সংবাদমাধ্যমের কাজ সঠিক তথ্য তুলে ধরা, ব্যক্তিকে হেয় করা নয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করার বদলে ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।”

অধ্যাপক আ-আল মামুনের বক্তব্যেও তথ্য যাচাই ও শব্দচয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, “দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় একটি ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশন জুড়ে দিলেই তা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হয়ে যায় না। ঘটনার বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন তোলা, তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”