Image description

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের কাছ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) রাতে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামে একটি ফুটবল খেলার মাঠের কাছে এমন ঘটনাটি ঘটে। ওই নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০) সে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাবার নাম মৃত মজিবুর রহমান। তিনি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে ফুটবল খেলা শুরু হয়। খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন রিয়াজুল আলম। পরে তার অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

রিয়াজুলকে আটক করতে গেলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে রিয়াজুলকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হলেও পরে পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুর এবং হাতকড়াসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে রিয়াজুলকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয় সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মামলাগুলো ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট দায়ের করা হয়।

ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। দূর থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখেছেন। রিয়াজুল আওয়ামী লীগ করেন বলেই পুলিশ তাকে ধরেছিল বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্য মূলকভাবে এ ঘটনায় তার নাম জড়াচ্ছেন।

সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।

আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি একটি বিশেষ অভিযানে আছেন। বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে, পরে কথা বলবেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির এক  পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পালাতে সহযোগিতা করেন। তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া বা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।