Image description

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের অন্যতম প্রধান ভরসা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতি ও ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার ফলে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৬০ লাখ প্রবাসী কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ওই অঞ্চলে সংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শ্রমবাজারসহ নানা খাতে পড়বে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা আগামী দিনে বাংলাদেশকে বড় সংকটে ফেলতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটকে শুধু বিপর্যয় হিসেবে না দেখে, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি, শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ এবং বিকল্প ও টেকসই কর্মসংস্থানের গন্তব্য খুঁজে বের করার ওপর এখনই জোর দিতে হবে। তবে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ঘোষণা বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী শ্রমিকদের সিংহভাগই বিভিন্ন ধরনের ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাড়ি জমান। তবে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, বাহরাইন, ওমানসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বাজার বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে কম কর্মী নেওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরি না হওয়ায় ছোট হয়ে আসছে শ্রমবাজার। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মী যাওয়া আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩-এ নেমে এসেছে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ৯ মাসে বিদেশে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন কর্মী কম গিয়েছেন।

বিএমইটি তথ্য মতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশ গেছেন, যার দুই-তৃতীয়াংশই অর্থাৎ ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন গেছেন সৌদি আরবে। পাশাপাশি কাতারে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন, কুয়েতে ৪২ হাজার ৭৪৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ১৩ হাজার ৭৫০ জন এবং অন্যান্য দেশে গেছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২২ জন। আর চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৮ জন।

সৌদি আরবকে বড় শ্রমবাজার ধরা হলেও দিন দিন কর্মী গমনের হার হ্রাস পাচ্ছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩ জন কর্মী গেলেও চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ জনে। দেশের প্রধান এ শ্রমবাজারে গত বছরের তুলনায় কর্মী গমন ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে।

এদিকে বন্ধ শ্রমবাজারগুলো চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা দেনদরবার করলেও মালয়েশিয়া ও জাপান ছাড়া আর কোনো দেশের শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে যেতে আগ্রহীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।

এ ছাড়া জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আরও সুগম করতে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর, যা পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে। তবে জাপান কত শ্রমিক নেবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আরব আমিরাতের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ওই বিক্ষোভের দায়ে ৫৭ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিল ইউএই সরকার। এর পরই বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা বন্ধ করে দেশটি, যা এখনো চলমান রয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য হাই-প্রফেশনাল ভিসা চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক হিসাব না থাকলেও দেশটিতে অন্তত ১০-১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

সূত্র আরও জানায়, ভিসা বন্ধ থাকার পাশাপাশি এ বছরের জুলাই থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী অনেক বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা যাচ্ছে। অনেকেই ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পেয়ে আমিরাতে ফিরতে পারছেন না। কেউ কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভিসা নবায়নের জন্য আবেদনও করছেন না। ফলে হাজারো শ্রমিক অবৈধ হয়ে পড়েছেন। এমন বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার সময় বালাদেশিদের অনেকে অতি উৎসাহী হয়ে যুদ্ধের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন কিংবা ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি দেশটি। এসব ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন এইআইয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করে তাদের ভিসা বেশি বাতিল হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন সাকিব আহমদ। গত আগস্টে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। গণহারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিলের খবর দেখে ভয়ে ভিসা নবায়নের আবেদনও করেননি তিনি। ফলে বর্তমানে দেশটিতে অবৈধ শ্রমিক হিসেবে বসবাস করছেন। শুধু সাকিব নন, তিনি যে ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করতেন, সেটিরও লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন ওই কোম্পানির ১৮ জন বাংলাদেশি শ্রমিক ভিসা নবায়ন করতে না পারায় অবৈধ হয়ে পড়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এসব শ্রমবাজার নিয়ে সংকটের মধ্যে হুতিদের একের পর এক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের শ্রমবাজার নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবে সংঘাতের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটিতে বসবাসরত মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। হামলার মাত্রা বাড়ায় দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরের সঙ্গে বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন অন্তত ২০ হাজার প্রবাসী। ছুটি শেষ হওয়ার পরও আটকে থাকার কারণে কর্মস্থলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত তারিকুল ইসলাম বলেন, রিয়াদে বোমা হামলার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখানকার প্রশাসনও অনেক কড়া হয়েছে। দোকানপাট, মার্কেট খোলা থাকলেও স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক কাজে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন সব সময় সতর্কতা নিয়ে কাজ করতে হয়। কাজের থেকে জীবন রক্ষা করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।

শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার প্রভাব রেমিট্যান্সে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার প্রভাব দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে ২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। গত আগস্টে দেশে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৮ হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭ হাজার ৫৮৬ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে ১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ মাসের শেষ ১০ দিনে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমেছে। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ব্যাংকাররা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

কেন রেমিট্যান্স কমেছে, তা নিয়েও তারা নিশ্চিত নন। তবে এর পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। ব্যাংকারদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। সেপ্টেম্বরের শেষ ১৫ দিনে (১৬-৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবে ঘন ঘন হুতিদের হামলা হয়েছে। এ পরিস্থিতির প্রভাব রেমিট্যান্স প্রবাহে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

নতুন বাজার তৈরির তাগিদ মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির তাগিদ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার খুবই জরুরি। বিদেশে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ হিসেবে না দেখে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে কর্মরত শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের মধ্যে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা চিহ্নিত করা এবং কী ধরনের দক্ষতার কর্মী প্রয়োজন, তা নিয়মিত সরকারকে জানানো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই চাহিদার ভিত্তিতে দেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।’

এই অভিবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, ‘নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ঘোষণা বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে সরকার নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য পায়।’

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির জন্য প্রথমেই সম্ভাবনাময় দেশগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এসব দেশের শ্রমবাজারে কোন পেশার, কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা প্রয়োজন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে হলে শুধু সাধারণ দক্ষতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন-কানুন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা।

তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজারের কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হলেও কোন দেশকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সেসব দেশের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরির পরিকল্পনা কী হবে এবং তা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে—এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান নয়। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বাংলাদেশকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। তাই সম্ভাবনাময় দেশ চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সবকিছুকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা জরুরি।

গত ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমবাজার, নতুন সুযোগের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠক শেষে মাহদী আমিনের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বিশেষ করে সে দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ তৈরি এবং দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বাজার খোঁজা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ভালো সাড়াও মিলছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে যেসব খাতে আগে কখনও জনশক্তি রপ্তানি হয়নি, সেসব খাতে রপ্তানির উদ্যোগ নেবে সরকার।