Image description

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগ এবং একটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ হাজার ৭৩৩ জন। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক মাত্র দুজন। ২৬১ শিক্ষকের ৪৩ জন সহযোগী অধ্যাপক, ১৬৫ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৫১ জন প্রভাষক। একই অবস্থা ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি অনুষদের অধীনে ৪৩টি বিভাগে ৬৭২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য নেই অধ্যাপক কিংবা জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কর্মরত ৯৩ শিক্ষকের মধ্যে ৬২ জনই প্রভাষক। আর বাকি ৩১ জন সহকারী অধ্যাপক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো অধ্যাপক। আর ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে অধ্যাপকের সংখ্যা ১০ জনের কম। বাকিগুলোর মধ্যে নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অর্থাৎ অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের চেয়ে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকের সংখ্যা বেশি।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে ১৬ হাজার ৮৮৫ শিক্ষকের মধ্যে প্রভাষক ৮ হাজার ৮৫৫ জন, যা মোট শিক্ষকের অর্ধেকেরও বেশি। আর সহকারী অধ্যাপক ৩ হাজার ৯৬০ জন। তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো অধ্যাপক। আর চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেখানে ১০ জনের কম অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষক স্বল্পতার পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবও উচ্চশিক্ষা খাতের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। ৫৪টি বেসরকারি ও ২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ভাড়া ভবনে চলছে এগুলোর কার্যক্রম। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের এমন ঘাটতি এবং প্রভাষকনির্ভরতা শিক্ষার মান উন্নয়নের পথে বড় বাধা।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫-এ উঠে এসেছে এসব চিত্র। সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। দেশে ওই সময় পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৭টিতে পাঠদান চালু ছিল। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৬, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪১.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে অনুমোদন পাওয়া ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাঠদান চালু থাকা ১০৫টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৩ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ জন ছাত্রী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৪.৯৬ শতাংশ।

কোনো অধ্যাপক নেই চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১০ জনের কম আরও ১১টিতে বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫-এর তথ্যমতে, ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯০ শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৭২ জন। তাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৬০৩ জন শিক্ষক। বাকি ৯৬৯ জন শিক্ষা সহযোগী। শিক্ষকদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৫৬ জন অধ্যাপক, ২ হাজার ৯৮৯ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৫ হাজার ৬ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ২ হাজার ২৫২ জন প্রভাষক। এ ছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের তুলনায় প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকের সংখ্যা বেশি বলেও উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের স্বল্পতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই তথ্য বলছে, দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অধ্যাপকই নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে আরও ১১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের সংখ্যা ১০ জনেরও কম। এর মধ্যে বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন একজন করে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন দুজন করে। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতজন করে অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশে অধ্যাপক পাঁচজন এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটজন অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন। ৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো অধ্যাপক, স্থায়ী ১০ জনের কম ৭২টিতে ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৩ শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে ১৬ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষক, বাকি ৯০৮ জন শিক্ষা সহযোগী। শিক্ষকদের মধ্যে ১২ হাজার ৬৫৮ জন স্থায়ী, আর খণ্ডকালীন শিক্ষক ৪ হাজার ২২৭। স্থায়ী শিক্ষকদের মধ্যে ১ হাজার ৪৬ জন অধ্যাপক, ১ হাজার ১৯১ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩ হাজার ২৪৯ জন সহকারী অধ্যাপক আর ৭ হাজার ১৭২ জন প্রভাষক। এ ছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মধ্যে ১ হাজার ১৪৯ জন অধ্যাপক, ৬৮৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৭১১ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ১ হাজার ৬৮৩ জন প্রভাষক।

এর মধ্যে দেশের তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী বা খণ্ডকালীন অধ্যাপক নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো—জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

এ ছাড়া ব্যানবেইসের এই তথ্য অনুযায়ী ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী অধ্যাপকের সংখ্যা ১০ জনের কম। তবে এর মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন অধ্যাপক ১০ জনের বেশি আছে। এই তালিকায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী অধ্যাপক ৫ জন, খণ্ডকালীন ১১ জন, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ১ জন, খণ্ডকালীন ২ জন, পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ৫ জন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ১৫ জন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ৫ জন, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ৬ জন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন কোনো অধ্যাপক নেই। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে স্থায়ী ৫ জন, খণ্ডকালীন ৯ জন এবং সিটি ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৫ জন, খণ্ডকালীন ২৩ জন, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে স্থায়ী ৭ জন, খণ্ডকালীন ১৫ জন, পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্থায়ী ৫ জন, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ২ জন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ায় স্থায়ী ৯ জন, খণ্ডকালীন ৬ জন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্থায়ী ৭ জন, খণ্ডকালীন ৭ জন অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন।

ব্যানবেইসের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৩ জন, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসে স্থায়ী ৭ জন, খণ্ডকালীন ১ জন, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৫ জন, খণ্ডকালীন ৩ জন, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় স্থায়ী ১ জন, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৬ জন, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে স্থায়ী ২ জন এবং ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ২৯ জন। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে স্থায়ী ৮ জন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৯ জন, খণ্ডকালীন ৪৯ জন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ৩ জন এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্থায়ী ৯ জন, খণ্ডকালীন ১ জন অধ্যাপক রয়েছেন।

এ ছাড়া নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ৮ জন, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে স্থায়ী ১ জন, ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৪ জন এবং এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে স্থায়ী ২ জন, নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ১৬ জন, খাজা ইউনূস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৮ জন, খণ্ডকালীন ৫ জন অধ্যাপক। ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৫ জন, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ২৩ জন, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৭ জন, খণ্ডকালীন ১৯ জন, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে স্থায়ী ৮ জন, খণ্ডকালীন ৮ জন, টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ৪ জন, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৪ জন, খণ্ডকালীন ৭ জন অধ্যাপক। রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৪ জন, খণ্ডকালীন ৪ জন, ব্রহ্মপুত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ৩ জন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ২ জন, আর পি সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৫ জন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে ৪ জন, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৯ জন, খণ্ডকালীন ১১ জন, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সে স্থায়ী ৮ জন, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে স্থায়ী ৬ জন, খণ্ডকালীন ২ জন অধ্যাপক। এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে স্থায়ী ২ জন, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনায় স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ৫ জন, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ জন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রামে স্থায়ী ৫ জন, খণ্ডকালীন ৭ জন অধ্যাপক শিক্ষকতা করছেন।

এর বাইরেও ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় অব ক্রিয়েটিভ আর্টসে স্থায়ী ২ জন, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজে স্থায়ী ৬ জন, আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৬ জন, খণ্ডকালীন ৫ জন, আহ্ছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৩ জন, খণ্ডকালীন ৬ জন, খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৮ জন, খণ্ডকালীন ১০ জন, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ১ জন, খণ্ডকালীন ২ জন, ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বরিশালে স্থায়ী ১ জন, খণ্ডকালীন ২ জন, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ৮ জন, খণ্ডকালীন ৬ জন অধ্যাপক। ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থায়ী ৯ জন, ইউনিভার্সিটি অব ইনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্থায়ী ৫ জন, আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী ২ জন, ডা. মমতাজ বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ২ জন, চট্টগ্রাম বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ৪ জন, খণ্ডকালীন ২ জন, তিস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ২ জন, খণ্ডকালীন ২ জন এবং লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ১ জন, খণ্ডকালীন ৬ জনসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের সংখ্যা হাতেগোনা।

শিক্ষা বিশ্লেষকরা যা বলছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক নিয়োগে অনীহা দেখা যায়। অন্যদিকে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে একক কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভেদে এ ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোগে শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষকেরা তাদের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিক্ষকদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদমর্যাদার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা উচিত। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সাধারণত প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে তাদের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার কাঠামো থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষকরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ পান এবং পেশাগত উন্নয়নে উৎসাহিত হন।

ইউজিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য ড. আলমগীর হোসেন কালবেলাকে বলেন, উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে মানসম্মত শিক্ষক, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এসব সক্ষমতা নিশ্চিত না করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন কোনো প্রোগ্রাম চালুর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে দেশেই মানসম্মত পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু, যোগ্য গবেষক তৈরি, পর্যাপ্ত ফেলোশিপ প্রদান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গবেষণা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি গবেষণার ধারাবাহিকতা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতের শিক্ষক-গবেষক গড়ে উঠবেন। এ সংকট সমাধানে কোনো শর্টকাট উপায় নেই; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন।

সার্বিক বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, দেশে এখন ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষকের সংকট রয়েছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন বা দুজন প্রভাষক দিয়ে বিভাগ পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষকও নেই। এ সংকট মোকাবিলায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষক ও মানবসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।