দেশে ইটভাটার সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারের বেশি। এর মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৭৫টির। বিপরীতে ৫ হাজার ৮৫৫টি ইটভাটারই পরিবেশগত ছাড়পত্র কিংবা নবায়ন নেই। সে হিসেবে দেশের মোট ইটভাটার প্রায় ৭৮ শতাংশই ছাড়পত্রবিহীন বা অবৈধ। এর মধ্যে দেশে থাকা ৬ হাজার ৪০৬টি জিগজ্যাগ ভাটার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬২৫টির। বাকি ৪ হাজার ৭৮১টিরই নেই ছাড়পত্র বা নবায়ন। সে হিসেবে জিগজ্যাগ ভাটারও প্রায় ৭৫ শতাংশই ছাড়পত্র বা নবায়ন ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য এসেছে কালবেলার হাতে।
তথ্য বলছে, পরিবেশগত মান উন্নয়নে পোড়ানো ইট ও ব্লকের ব্যবহার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের তৈরি ‘পরিবেশগত মান উন্নয়নে পোড়ানো ইট ও ব্লকের ব্যবহারবিষয়ক কর্মকৌশল’ শীর্ষক একটি নীতিপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ৯ পৃষ্ঠার ওই নথিতে একই সঙ্গে ইটভাটার কারণে কৃষিজমির টপসয়েল নষ্ট, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া, বায়ুদূষণ, কয়লায় সালফারের ব্যবহার এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাবের তথ্য তুলে ধরে আগামী কয়েক বছরের জন্য ইটভাটা বন্ধ ও রূপান্তরের একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তাব করা হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে সেই কর্মপরিকল্পনার একটি কপি কালবেলার হাতে এসেছে।
সরেজমিন নবাবগঞ্জের দোহারে গিয়ে দেখা যায়, কলাকোপা ইউনিয়নে বড় জাফরপুর গ্রামে মাদরাসায়ে জালালুদ্দীন রুমী নামে একটি মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে কয়েকশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু মাদ্রাসাটির মাত্র ৫০০ থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে অন্তত ছয়টি ইটভাটা। এগুলো হলো জনতা ব্রিকস, ন্যাশনাল ব্রিকস (এনবিআই), মেসার্স বাংলাদেশ ব্রিকস (বিবিস), দোহার নবাবগঞ্জ ব্রিকস (এনডিবি), গোল্ড ব্রিকস ও জয়পাড়া ব্রিকস (জেবিপি)। এ ভাটাগুলোর একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। জনবসতিপূর্ণ এলাকার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও এ ছয়টি ভাটাই জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে। ফলে এখানে বসবাসকারীদের নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া, ফসলি জমির ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখানকার সব ইটভাটাই ফসলি জমিতে।
এ চিত্র শুধু দোহার কিংবা নবাবগঞ্জের নয়, বরং সারা দেশের। এর মধ্যে বিবিসি ব্রিকসের ম্যানেজার মো. সাদেকুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় কালবেলার। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, তাদের কোনো অনুমোদন নেই, তবে অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জনতা ব্রিকসের (জেবিসি) ম্যানেজার মো. রফিকও পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকার কথা স্বীকার করেন। তারা পরিবেশের ছাড়পত্র জোগাড় করা চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ-সংক্রান্ত ডকুমেন্টস চাইলে দেখাতে পারেননি।
জিগজ্যাগেও ছাড়পত্রহীন ৪ হাজার ৭৮১: পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পাঁচ ধরনের প্রযুক্তিতে ইট উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে জিগজ্যাগ ভাটা ৬ হাজার ৪০৬টি, হাইব্রিড হফম্যান ৫৪টি, অটোমেটিক বা টানেল কিলন ৩২টি, ফিক্সড ৮০-১২০ ফুট চিমনির ভাটা ৭৮৮টি এবং ড্রাম চিমনির ভাটা ২৫০টি। সব মিলিয়ে ইটভাটার সংখ্যা ৭ হাজার ৫৩০টি। এসব ভাটার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন রয়েছে ১ হাজার ৬৭৫টির। অর্থাৎ ৫ হাজার ৮৫৫টির ক্ষেত্রে ছাড়পত্র বা নবায়ন নেই। প্রযুক্তিভেদে সবচেয়ে বেশি ছাড়পত্রহীন ভাটা জিগজ্যাগ। ৬ হাজার ৪০৬টির মধ্যে ৪ হাজার ৭৮১টি ছাড়পত্র বা নবায়নবিহীন। হাইব্রিড হফম্যানের ৫৪টির মধ্যে ২৪টি এবং অটোমেটিক/টানেল কিলনের ৩২টির মধ্যে ১২টিরও ছাড়পত্র বা নবায়ন নেই। আর ফিক্সড চিমনি ও ড্রাম চিমনির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ। ৭৮৮টি ফিক্সড চিমনি এবং ২৫০টি ড্রাম চিমনি—কোনোটিরই পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন নেই।
তথ্য বলছে, এসব অনুমোদনহীন অবৈধ ইটের ভাটায় বিপুল পরিমাণ ইট উৎপাদন হচ্ছে। নথিপত্র অনুযায়ী, বছরে দেশে প্রায় ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি পোড়ানো ইট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে জিগজ্যাগ ভাটাগুলোতেই উৎপাদন হয় প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি ইট। হাইব্রিড হফম্যান ভাটায় ১৪০ কোটি, অটোমেটিক/টানেল কিলনে ১০০ কোটি, ফিক্সড চিমনিতে ৩৯৪ কোটি এবং ড্রাম চিমনিতে প্রায় ১০০ কোটি ইট উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থাৎ পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন বিপুলসংখ্যক ভাটার পাশাপাশি এসব ভাটার উৎপাদনও দেশের নির্মাণ খাতে সরাসরি প্রবেশ করছে।
নিষিদ্ধ এলাকার ভেতরেই জিগজ্যাগ ভাটা: ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে দূরত্বের বিধানও রয়েছে আইনে। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, সংশোধিত ২০১৯-এর ধারা ৮(৩) অনুযায়ী নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপনের বিধান রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের সংগৃহীত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জিগজ্যাগ ভাটার উল্লেখযোগ্য অংশ নিষিদ্ধ স্থানের এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। নথিতে ০-৫০০, ৫০১-৬০০, ৬০১-৭০০, ৭০১-৮০০ ও ৮০১-১০০০ মিটার দূরত্বে থাকা ভাটার বিভাগভিত্তিক হিসাব দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী—৫০০ মিটারের মধ্যে ১৪২৮টি ইটের ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২৭টি, চট্রগ্রামে ৪৯০টি, রাজশাহীতে ২৪৬টি, রেংপুরে ১৯৩টি, খুলনায় ১৬৬টি, ময়মনসিংহে ৫৩টি, সিলেটে ২৭টি ও বরিশালে ২৬ ইটভাটা রয়েছে। এভাবে৫০১ থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যে ৪৬০টি, ৭০০ মিটারের মধ্যে ৫০৮টি, ৮০০ মিটারের মধ্যে ৩৬৮টি, ১০০ মিটারের মধ্যে ৫৬০টি ইটের ভাটা রয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১৪৫৮টি ইটের ভাটার তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এক কিলোমিটারের মধ্যে ফসলের উৎপাদন কমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত: ইটভাটার প্রভাব শুধু বায়ুদূষণে সীমাবদ্ধ নয়। নীতিপত্রে কৃষিজমির ওপরও এর ব্যাপক ক্ষতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য বলছে, দেশে ইট তৈরিতে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টন মাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। কাঁচা ইট তৈরির জন্য জমির উপরিভাগের প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার টপসয়েল অপসারণ করা হয়। এতে জমির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে ফসলের ফলন ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ইটভাটার ধোঁয়া, ছাই ও ধূলিকণা থেকে লেড, ক্যাডমিয়াম ও আর্সেনিক মাটিতে জমা হতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে নথিতে বলা হয়েছে, ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে ধানের ফলন ২০-২৫ শতাংশ, গমের ৩০-৪০ শতাংশ, সরিষার ২৫-৩৫ শতাংশ এবং সবজির ফলন ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
বছরে ৬০-৭০ লাখ টন কয়লা: ইট পোড়াতে বছরে ৬০ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহারের তথ্যও নীতিপত্রে রয়েছে। আমদানি নীতিতে কয়লায় সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সালফারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার পাঁচটি ইটভাটা— শাপলা ব্রিকস, এমআইএন, কেবিসি, এমবিবি ও এআইএম—থেকে কয়লার নমুনা নিয়ে বিসিএসআইআরে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় এসব নমুনায় সালফারের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৯৩ থেকে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। তবে সাত সহস্রাধিক ভাটায় ব্যবহৃত কয়লার সালফারের মাত্রা জানতে আরও ব্যাপক নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিপত্রে বলা হয়েছে, ইটভাটাগুলোতে ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন (এফজিডি) ব্যবহার করা হয় না। তাই কয়লায় সর্বোচ্চ সালফারের মাত্রা ১ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ বছরে ভাঙা হয়েছে ১,৬৭৮ ইটভাটা: অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানও হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ২ হাজার ২০৮টি মোবাইল কোর্ট/অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৪ হাজার ৯৮১টি মামলায় ১১৬ কোটি ৮ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। এর মধ্যে আদায় হয়েছে ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে ১ হাজার ৬৭৮টি ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার এবং ১৫ লাখ ইট ও ২৪০ টন কয়লা জব্দ করার তথ্য দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ১৭৩টি মোবাইল কোর্ট/অভিযান চালানো হয়েছে। ৩৮৪টি মামলায় ৯ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়েছে। এ সময় ১২৩টি ভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া এবং ৫৬টি অবৈধ ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
সমাধান হিসেবে ব্লকের দিকে নজর: নীতিপত্রে পোড়ানো ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৬০টি ব্লক কারখানা রয়েছে এবং সেগুলোতে প্রায় ২১ কোটি ব্লক উৎপাদিত হচ্ছে। নথিতে বলা হয়েছে, ব্লক ব্যবহারে কৃষিজমির মাটি, কয়লা ও জ্বালানির ব্যবহার কমবে। নদীর ড্রেজিং করা মাটি-বালু, পরিত্যক্ত ভবনের কংক্রিট ও ইট এবং বিভিন্ন বর্জ্যও ব্লক তৈরিতে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এতে কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা এবং নদীর নাব্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে নীতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি নির্মাণকাজে পোড়ানো ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যও আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ৩০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ১০০ শতাংশ ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি রিটের কথাও নীতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতিতে এখনও ঘাটতি রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ ইঞ্চি দেয়ালে ব্লকের ব্যবহার ৮১ শতাংশ, ৫ ইঞ্চি দেয়ালে ৬৭ শতাংশ এবং রাস্তার কাজে ৬০ শতাংশ। সব মিলিয়ে গড় অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ। অন্য সরকারি দপ্তরগুলোর অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য তথ্য নথিতে পাওয়া যায়নি।
চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি হাইকোর্টের নির্দেশ: এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশের সব জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় চার বছর পার হলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই রিট দায়ের করেছিলেন। জানতে চাইলে মনজিল মোরসেদ কালবেলাকে বলেন, ২০২২ সালে দেশের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে আমরা জনস্বার্থে রিট দায়ের করার পর থেকেই আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রতি বছর ইটভাটার সিজন শুরু হলে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আমরা জেলা ধরে ধরে আদালতে গিয়েছি, নতুন নির্দেশ এনেছি এবং নির্দেশ পালন না করলে আদালত অবমাননার অভিযোগও এনেছি। এর ভিত্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কতগুলো অবৈধ ইটভাটা ভাঙা হচ্ছে তার নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশে প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় এবং প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়ায় ওই সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আর আদালতে যাইনি। কারণ প্রশাসন অকার্যকর থাকলে তারা প্রতিবেদন কোথা থেকে দেবে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমরা ফের আদালতে আমাদের কার্যক্রম ও শুনানি শুরু করেছি। এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিষয়ে আদালতের নতুন আদেশ এসেছে। পাশাপাশি সারা দেশের যেসব অবৈধ ইটভাটার লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই, সেগুলো বন্ধ ও ভাঙার বিষয়ে আমরা আদালতে আবেদন দাখিল করেছি। আদালত খোলার পর সেগুলোর ওপর শুনানি শেষে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং আগে কতগুলো ভাটা ভাঙা হয়েছে সেই পেন্ডিং প্রতিবেদনগুলো দাখিল করতে বলা হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মো. মাহবুব জামিল কালবেলাকে বলেন, সামনে যেহেতু শুষ্ক মৌসুম আসছে এবং ইটভাটাগুলো মূলত এই সময়েই চালিত হয়, তাই অবৈধ ইটভাটাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের জেলা কার্যালয়গুলোতে এরই মধ্যে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে যে, সব ধরনের অবৈধ ইটভাটা, বিশেষ করে কাঠ পোড়ানো (উড বার্ন), ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোকে এবার কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে জোরদার অভিযান শুরু হবে।