Image description

রাজধানীর রমনা এলাকায় অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মোশারফ হোসেনের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর শাহবাগের বারডেম হাসপাতাল, এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের হিমাগারে আছে। নিহত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার দুই মেয়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি ফিরলে দাফন করা হবে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই সচিব ভবনের বেজমেন্ট-১ এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে পড়ে তিনি বারবার ওপরে উঠছিলেন আর নিচে নামছিলেন। একপর্যায়ে বেজমেন্ট-১ এর ফাঁকা জায়গা থেকে তিনি নিচে পড়ে যান।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ ও অফিসার্স ক্লাবসূত্র জানিয়েছে, মেয়েকে সুইমিং করাতে এসেছিলেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব। মেয়েকে রেখে তিনি অফিসার্স ক্লাবের অফিসের দিকে আসেন। কিন্তু ভুল করে লিফটে না উঠে সিঁড়িতে চলে যান। সিঁড়ি ধরে ভবনের বেজমেন্টে চলে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা (এক্সিট) খুঁজে পাননি। এভাবে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে নিচে (সেখানকার একটি গর্তের মতো জায়গা) পড়ে যান।

অফিসার্স ক্লাবের কর্মকর্তারা জানান, ওই অতিরিক্ত সচিবের মেয়ে তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়। প্রাথমিকভাবে মোশাররফ হোসেন ক্লাবের বাইরে বের হননি বলে নিশ্চিত হন ফুটেজ দেখে। তখন খুঁজতে খুঁজতে বেজমেন্টে তাকে ওই অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের ধারণা ভবনটির বেজমেন্ট-১ এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে বেজমেন্ট-৩ এর মেঝেতে পড়ে তিনি আহত হতে পারেন। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

নিহতের মামাতো ভাই নাজমুল হাসান মিলন জানান, সম্প্রতি নিহতের ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। শুক্রবার ক্লাবে যাওয়ার পর মেয়েকে সুইমিংয়ের জন্য পাঠিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দিতে ভবনের নির্মাণাধীন অংশে যান বাবা। তিনি চোখে অনেক কম দেখতেন। তিনি আসলে লিফট খুঁজে পাচ্ছিলেন না; একবার সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন, একবার উঠছিলেন। এর মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গা দিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলে মারা যান বলেও জানান ওই আত্মীয়। মিলন বলেন, এই মৃত্যুতে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কারণ আমরা পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। এবং প্রশাসন থেকেও এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই দেখছে।

মোশাররফ হোসেন বিসিএস ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। থাকতেন রাজধানীর বনানীতে।