Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ‘আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে’ ধানের শীষকে বেছে নিয়েছিল বলে বিশ্বাস করে বিএনপি। সাংগঠনিক একাধিক বৈঠক এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সেটা স্বীকারও করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

আগামীতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের এই ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে ধরে রাখতে চায় বিএনপি। তাই শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সামগ্রিকভাবে সব সময় ‘বন্ধুর মতো’ তাদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একটা সময় মনে করা হতো, হিন্দু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থক। তাদেরকে দলটির ভোটব্যাংকও ভাবা হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির অধিকাংশ নেতা মনে করছেন, এই নির্বাচনে তাদের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

সরকার গঠনের পর বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভা এবং মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকেও এ বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দলটির সংসদীয় দলের সভায়ও বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরাপদ মনে করায় এবার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। অতীতে হয়তো তারা অন্য একটি দলকে ভোট দিতেন। সুতরাং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দেখভালের দায়িত্ব আপনাদের। এ সময় দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দেন তারেক রহমান।

শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তারা যাতে নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এর অংশ হিসেবে দুর্গাপূজায় এমপিদের এলাকায় থেকে সম্প্রীতি রক্ষা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দেওয়া দলের চেয়ারম্যানের এই নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে এবারের নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। আমাদেরকে তাদের সেই আস্থা ও বিশ্বাসকে ধরে রাখতে হবে। সব সময় তাদের পাশে থাকতে হবে।’

‘আমরা সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছি। তারা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি’—যোগ করলেন তিনি।

দীর্ঘ দুই দশক পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর দেশে প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারা দেশে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে করতে পারে, সেজন্য অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক রয়েছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলটি। বিএনপির শঙ্কা, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বা অন্য কোনো মহল দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করতে পারে। তাই দল ও সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকমান্ডের নির্দেশে দলীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকরা এরইমধ্যে এলাকায় অবস্থান করছেন। আজ-কালের মধ্যে মন্ত্রীরাও নিজ এলাকায় যাবেন। তারা সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর করবেন।

নেত্রকোণা-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও দলের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা—উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। এ জন্য কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। আমি নিজেও এলাকায় আছি।’

দুর্গাপূজা ঘিরে বিএনপি গঠিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আগামীর সময়কে বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে তাদের শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারে, সেজন্য সরকার ও বিএনপি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ আগ থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকে সর্বতোভাবে কাজ করতে এমপি, মন্ত্রী, প্রশাসক, দলের নেতা এবং সমস্ত ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইউনিট কমিটির সঙ্গে আলাদা করে জুম মিটিংও করেছেন।’