বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ওপর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার জন্য চাপ আরও বেড়েছে। দলটির দাবি, হেফাজতে ইসলামসহ তাদের ঘরানার রাজনৈতিক দল ও নেতারা এই তৎপরতায় ‘না বুঝে’ ক্ষমতাসীনদের ‘ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। তবে যত চাপ আসুক, ১১–দলীয় ঐক্যে থাকতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
জামায়াত-সঙ্গ ছাড়ার জন্য চাপের পেছনে সরকারের ‘সরাসরি হাত’ রয়েছে অভিযোগ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদের। বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘প্রতিটা সরকারই বিরোধীদল দমন করতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকেও বর্তমানে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম দুর্বল করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা জামায়াত, এনসিপি এবং খেলাফত মজলিসের ১১-দলীয় ঐক্য ভেঙে দিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’
হেফাজত ও অন্যান্য আলেমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এসব করা হচ্ছে দুটি কারণে। এক, তারা নিজেরা অন্য দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় আমাদের অগ্রগতি ঠেকাতে চাইছেন এবং দুই, সরকারের ফাঁদে পড়ে কেউ কেউ এই কাজ করে থাকতে পারেন।’
জামায়াতের জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থাকায় সম্প্রতি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, দেওবন্দিধারার বক্তা নুরুল ইসলাম ওলিপুরীর মতো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন– এমন আলেমরা তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন। অবশ্য, হেফাজত আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায় থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতের সঙ্গে না থাকার চাপ ছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ওপর।
যদিও হেফাজত ক্ষমতাসীন কারও আগ্রহে বা বিরোধীদলীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে কোনো ভূমিকা রাখছে না বলে দাবি সংগঠনের নায়েবে আমির মুফতি জসিমুদ্দীনের। জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘হেফাজত চেষ্টা করছে কওমিধারার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে। এই বিষয়ে ক্ষমতাসীন কারও সঙ্গে হেফাজতের কোনো আলাপ হয়নি। আমার জানা মতে, সরকারের কোনো পক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠকও হয়নি। কেউ যদি দাবি করেন– বিরোধীদলীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি, তাহলে তিনি অবান্তর ও মিথ্যা কথা বলেছেন।’ জসিমুদ্দীন হেফাজত-সংশ্লিষ্ট সাত দলীয় ঐক্য গঠন-সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।
পুরোনো বিরোধ ও সাম্প্রতিক বিতর্ক
দেওবন্দিধারার আলেমদের সর্ববৃহৎ সংগঠন হেফাজতের সঙ্গে জামায়াতের আদর্শিক বিরোধ বেশ পুরোনো। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর ইসলাম সম্পর্কে ব্যাখ্যাকে বিতর্কিত মনে করেন এই ধারার আলেমরা। এই কারণে স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দেওবন্দিধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের স্বতন্ত্র কোনো জোট হয়নি। যদিও বিভিন্ন সময় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসলামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী জোট হয়েছে, যেখানে জামায়াতও ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনার। এরপর হেফাজত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলকে প্রায় অভিন্ন দাবির যুগপৎ আন্দোলনে টানতে সক্ষম হয় জামায়াত। তারই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে হেফাজত-সংশ্লিষ্ট চারটি রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনের পরেও মামুনুল হকেরসহ তিনটি দল জামায়াতের সঙ্গে রয়েছে।
বিপরীতে ভোটে বিজয়ী ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে হেফাজত-সংশ্লিষ্টদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্প্রতি এক মাহফিলে জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জামায়াতের সঙ্গে মাওলানা মামুনুল হকের জোটের সমালোচনা করেন। এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয় এবং গত ৯ অক্টোবর জুমার নামাজের পরে বায়তুল মোকাররম এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
মাহফিলে খতিব আবদুল মালেক বলেছেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় শাইখুল হাদিস সাহেবের ছেলে (মামুনুল হক) এখন সে যদি সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনাকারীদের সঙ্গে (জামায়াত) জোট করে, তাহলে এটা কি ঠিক? না, ঠিক না। বলেন নাউজুবিল্লাহ।’ এ সময় তিনি নিজের শায়খের (শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের) ছেলে মামুনুল হকের জামায়াত জোটে থাকাকে ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মাসলাকপরিপন্থী কাজ’ আখ্যা দেন এবং এটি ‘অন্যায়’ মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের পরে মামুনুল হক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, প্রাজ্ঞ আলেম খতিব আবদুল মালেক তাঁর উস্তাদ। শিক্ষক হিসেবে খতিব আবদুল মালেক তাঁর সমালোচনা করতে পারেন। তবে রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেননি বলে অবস্থান স্পষ্ট করেন মামুনুল হক।
এরই মধ্যে গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওলামা সামিটে’ পরিষদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা ইউনুস ঢালী সরাসরি মামুনুল হকের জামায়াত ঘনিষ্ঠতার সমালোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ছিলেন চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম।
সেখানে কওমিধারার প্রভাবশালী আলেম ও বক্তা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী বলেন, অতীতে এই ধারার আলেমদের যারা ‘বাতিলদের নিয়ে ঐক্য করেছেন, তারা হয়তো নিছক নির্বাচনী ঐক্য করেছেন, নিছক রাজনৈতিক ঐক্য করেছেন, কিন্তু আকিদার বেলায় তাদের স্বাতন্ত্র্যবোধ তারা ভুলে যাননি।’ উদাহরণে মামুনুল হকের বাবা প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের কথা বলেন নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, শায়খুল হাদিস বিভিন্ন সময়ে ‘বাতিলদের’ সঙ্গে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য করলেও, নিজের অনূদিত বুখারি শরিফের শেষখণ্ডের শেষাংশে শত পৃষ্ঠার বেশিজুড়ে ‘মওদুদী বাতিল, মওদুদী গোমরাহ, মওদুদী পথভ্রষ্ট, মওদুদীর সঙ্গে কোনো দিন মুসলমানদের ঐক্য হতে পারে না’– এমন লিখে গেছেন। আলেমরা বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী বা রাজনৈতিক ঐক্য করলেও আকিদা বিশুদ্ধ রাখার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন।
নুরুল ইসলামের এই বক্তব্যের জবাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সদস্য মাওলানা এহসানুল হক গত ১১ অক্টোবর সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে দলের সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের আকিদা আগে যা ছিল, এখনো তা-ই আছে। আকিদার ধোঁয়া তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া যাবে না।’
এ ব্যাপারে জালালুদ্দীন আহমদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘জামায়াত বা মওদুদীর আকিদার ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত। এই বিরোধ সত্ত্বেও জামায়াতের সঙ্গে অতীতে এসব দলের জোট হয়েছে। এমনকি বর্তমান ১১–দলীয় ঐক্যে শুরুতে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ছিল। নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে বনিবনা না হওয়ায় তারা বেরিয়ে যায়।’
জোট ছাড়ার চাপ হেফাজতের
সংসদ নির্বাচনের আগে হেফাজত আমির জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন। জামায়াত ‘ভণ্ড ইসলামি দল; প্রকৃত ইসলামকে ধারণ করে না’— এমনও বলেছিলেন তিনি। উর্দু ভাষায় মুবিবুল্লাহ বাবুনগরী যা বলেছিলেন, তার বাংলা– জামায়াতে ইসলামীকে নিকৃষ্ট দল মনে করি, এমনকি কাদিয়ানির চেয়েও নিকৃষ্ট।
সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীতে জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে হেফাজত সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে পৃথক জোট করতে বলেছিলেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে এমন কারও সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া যাবে না, যাদের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে পূর্বপুরুষরা সতর্ক করে গেছেন। তবে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি দলগুলো। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন এককভাবে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে, মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বাকি চারটি দল জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয়।
নির্বাচনের পরেও মামুনুল হকরা জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য অটুট রাখায় বিভিন্ন সময় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হেফাজত আমির। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় তাঁর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হাটহাজারি মাদ্রাসার মুফতি জসিমুদ্দীনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি হয়।
এরপর গত ১৬ জুলাই বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজত সংশ্লিষ্ট সাতটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। সভার পরে জানানো হয়, ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই সভার পর কওমি অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের গুঞ্জন চাউর হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে ঐক্যের রূপরেখা জমা দেবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো। পরে জমা পড়া রূপরেখা নিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় আরেকটি বৈঠক হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় আবার শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হয়। মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ছাড়াও সাতটি দলের প্রতিটির পাঁচজন করে ৩৫ প্রতিনিধি অংশ নেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও ঐক্যের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে একমত হতে পারেনি দলগুলো।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্র স্ট্রিমকে জানিয়েছে, ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ মামুনুল হকের দল রাজি নয় জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে। এ ব্যাপারে হেফাজতের নায়েবে আমির মধুপুরের পীর আব্দুল হামিদের ছেলে আবু আম্মার আব্দুল্লাহ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমিরে হেফাজতসহ অন্যান্য মুরুব্বিরা ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু একমাত্র আল্লামা মামুন সাহেবের কারণেই তা সফল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় আগামী ২২ অক্টোবর রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় আরেকটি বৈঠকের কথা রয়েছে।
সিদ্ধান্তে আসতে না পারার বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ স্ট্রিমকে বলেন, সর্বশেষ বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়– ‘ঐক্যবদ্ধ সাত দল যেকোনো জোটে শরিক হতে চাইলে অথবা বড় কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হেফাজত গঠিত ১৪ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে’। এই ১৪ জনের কেউ আমাদের দলের নন।
তিনি বলেন, ‘এই শর্ত মানতে হলে তো আমাদের দলের গঠনতন্ত্র বদলাতে হবে। বড় বিষয়, শর্তটা প্রথমবার জানানো হলো। এরপর আমরাসহ পাঁচটি দল সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চেয়েছি। বাস্তবতা হলো, হেফাজতের এই শর্ত মানলে কার্যত সব দল বিলুপ্ত করে একটি দল করতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা যুগপৎ আন্দোলন করছি জুলাই সনদ, নির্বাচনের আগে গণভোটসহ অভিন্ন কয়েকটি দাবিতে। দাবিগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। জনগণ গণভোটে হ্যাঁ– এর পক্ষে রায় দিলেও সরকার বাস্তবায়ন করছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। এসব কারণে আমাদের জোট এখনো টিকে আছে।’
জামায়াত জোটে থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের পক্ষে রাজপথে যারা কথা বলে, মানুষ তাদের পছন্দ করে। এখন কথা বলছে জামায়াত, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কওমি ঘরানার অন্যান্য দল তো মাঠে অতটা সরব না। আবার জামায়াত জোটে তো নেজামে ইসলাম পার্টিও আছে। দেখবেন, নিবন্ধিত ও ঐতিহ্যবাহী দলটির ওপর কিন্তু কারও কোনো চাপ নেই।’
