জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মামুন মজুমদার নামে এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মাজারুল ইসলাম সোহেল ও সদস্য সচিব সৈয়দ আহসান টিটুর অনুমোদনে এনসিপির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মামুন মজুমদার। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে ৫ নম্বর সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছিল।
কমিটি ঘোষণার পর বিকেলে ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন মামুন মজুমদার। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি সবসময় রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলাম। তবে প্রকাশ্য রাজনীতিতে বিমুখতা ছিল। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে দেশের ক্রান্তিকালে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন পর্যন্ত দায়বদ্ধতা থেকেই এনসিপির সব কর্মসূচিতে সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করেছি। তবে ব্যক্তিগত কারণে অনেক আগে থেকেই আমি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আমার নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধব ও উপজেলা এনসিপিতে কাজ করা ব্যক্তিদের জানিয়েছি। জেলা এনসিপি থেকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন হলে সেখানে আমার নামও দেখতে পাই। এটি আমার নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে হয়নি। তাই ব্যক্তিগত কারণে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি। নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানাই।’
পদত্যাগের বিষয়ে মামুন মজুমদার বলেন, কমিটি ঘোষণার আগে তিনি জানিয়েছিলেন, কমিটিতে থাকবেন না। তারপরও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে ভুলবশত তাকে রাখা হয়েছে। তাই ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তবে তিনি জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সৈয়দ আহসান টিটু বলেন, মামুন মজুমদার লিখিত কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তবে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পদত্যাগের পোস্ট দেখেছেন তারা। ইতিমধ্যে সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ার কারণে তিনি ফেসবুকে পদত্যাগের পোস্ট দিয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।