Image description
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর থেকে বগুড়ার সাহেদ আহমেদ আশিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না তাঁর পরিবার। প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবে ফেরার পর রিয়াদে পৌঁছে স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না স্বজনরা।
 
সাহেদ আহমেদ (আশিক) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাহেদ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তাঁর বাবাও সেখানে থাকেন। তাঁর মা শাহেরা আক্তার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। তবে সাহেদের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে পরিবার।
 
সাহেদের স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিমানবন্দরে হামলার খবরের পর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বাড়িতে চলছে কান্না ও আহাজারি।
 
সাহেদের ভাই মাসুম রানা বলেন, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তাঁর ভাই। রাত ২টার দিকে তাঁর উড়োজাহাজের ফ্লাইট ছিল। রিয়াদ হয়ে তাঁর কর্মস্থল জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল।
 
মাসুম রানা আরও বলেন, ‘ভাবির সঙ্গে ভাইয়ের সর্বশেষ কথা হয়েছিল রিয়াদে পৌঁছানোর পর। তিনি জানিয়েছিলেন, রিয়াদে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এরপর ফোন দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’
 
তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আমার ভাইয়ের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার ব্যবস্থা করা হোক। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে তাঁকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, বিষয়টি মানুষের মুখে শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি। সরকারি পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে কোনো বার্তা তাঁরা পাননি। সঠিক তথ্য জানার জন্য খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
 
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে নিখোঁজ সাহেদ আহমেদ আশিক ওই ঘটনায় হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
সাহেদের বর্তমান অবস্থান ও তাঁর সন্ধান জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।