Image description

অস্ট্রেলিয়ান ট্রাভেল ভ্লগার, ইউটিউবার লিউক ড্যাম্যান্টকে পডকাস্টে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা তিনটি শহর কোনগুলো? তাঁর তালিকার দুই নম্বরে ছিল ঢাকা। আরেকটি পডকাস্টে তাঁকে বলতে শোনা যায়, পৃথিবীর যে পাঁচটি শহরে তিনি আর কখনো ফিরতে চান না, ঢাকা তার একটি। এর কারণ হিসেবে তিনি মূলত শহরটির অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কথা বলেছেন। যদিও এর আগেও পাঁচবার বাংলাদেশে এসেছিলেন লিউক।

 

লিউক ড্যাম্যান্টের এমন নেতিবাচক অভিজ্ঞতা অবশ্য শুধু মন্তব্যেই আটকে নেই। ২০২৩ সালের মার্চে শেষবার বাংলাদেশে আসেন তিনি। সে সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ঘুরছেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, বাংলাদেশের খাবার চেখে দেখছেন।

 

তবে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত ভিডিওগুলোর একটি ‘অ্যাভয়েড দিস ম্যান ইন বাংলাদেশ!’। ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় এক বয়স্ক ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে টাকা চাইলে ঘটনাটি ভিডিও করেন লিউক। পরে পর্যটন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। তবে আরেকটি ভিডিওতে লিউক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে তিনি ভালোবাসা ও সহানুভূতিতে ভরা অনেক বার্তা পেয়েছেন। কয়েকজনের আচরণ দিয়ে লাখ লাখ বাংলাদেশিকে বিচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

বিশেষ পরিস্থিতি বা চরম বিপদে না পড়লে কেউ হয়তো ট্রেনের ছাদে চড়বেন না। সংগৃহীত ছবি
বিশেষ পরিস্থিতি বা চরম বিপদে না পড়লে কেউ হয়তো ট্রেনের ছাদে চড়বেন না। সংগৃহীত ছবি

 

বর্তমানে ট্রাভেল ভ্লগিং বেশ জনপ্রিয়। বিদেশি ভ্রমণকারীরাও প্রায়ই বাংলাদেশে আসেন। ঘুরে দেখেন শহরের অলিগলি, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, চেখে দেখেন ‘লোকাল ফুড’। কিন্তু ভ্রমণের ভিডিও প্রকাশের পর তাঁদের অনেকের চোখে বাংলাদেশের ছবিটা বদলে যায়।

 

কোনো ভ্লগারের ভিডিওর শিরোনামে বাংলাদেশ ‘ডিজগাস্টিং’, কারও কাছে ‘শকিং’, কারও কাছে ‘ক্রেজিয়েস্ট সিটি’। আবার কারও চোখে বাংলাদেশ ‘মোস্ট আন্ডাররেটেড কান্ট্রি ইন এশিয়া’।

 

‘বাংলাদেশ ইজ ডিজগাস্টিং’

 

বাংলাদেশ নিয়ে সরাসরি নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা পাওয়া যায় মার্কিন ভ্রমণকারী স্মল ব্রেইনড আমেরিকান-এর কনটেন্টে। তাঁর পডকাস্টের একটি পর্বের নামই ‘বাংলাদেশ ইজ ডিজগাস্টিং (বাট আই লাভ ইট)’। শিরোনামেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর মিশ্র অনুভূতির ইঙ্গিত রয়েছে। এই পর্বে তিনি বাংলাদেশে প্রথম আসার অভিজ্ঞতা, ঢাকার শিল্পাঞ্চল এবং একটি কারখানা ঘুরে দেখার কথা বলেছেন।

 

এর কয়েক দিন পর প্রকাশিত ‘ফ্লাইং ফ্রম বাংলাদেশ টু জাপান’ ভিডিওর শুরুতে আবার দেখা যায় ‘গেটিং স্ক্যামড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামটি। অর্থাৎ বাংলাদেশে তিনি যেমন আনন্দ পেয়েছেন, তেমনি ভ্রমণের ঝামেলা, প্রতারণা ও অস্বস্তিও সেই অভিজ্ঞতার অংশ।

বিদেশি ভ্লগারদের কারও চোখে বাংলাদেশ ‘জঘন্য’। সংগৃহীত ছবি
বিদেশি ভ্লগারদের কারও চোখে বাংলাদেশ ‘জঘন্য’। সংগৃহীত ছবি

 

ঢাকার শহুরে জীবন নিয়ে একই ধরনের অস্বস্তির কথা বলেছেন ব্রিটিশ ভ্রমণকারী ইয়ান প্যাকহ্যাম। তিনি ‘দ্য বেয়ারফুট ব্যাকপ্যাকার’ নামেই বেশি পরিচিত। অন্য অনেক ভ্রমণকারীর তুলনায় বাংলাদেশে তাঁর অবস্থান ছিল দীর্ঘ। প্রায় তিন মাস ধরে দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে হেঁটে তিনি প্রায় ৭০০ মাইল বা ১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। তাই তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু ঢাকা দেখে তৈরি হয়নি।

 

বাংলাদেশ নিয়ে পডকাস্টে ঢাকায় প্রথম আসার অভিজ্ঞতাকে মিশ্র হিসেবেই তুলে ধরেছেন ইয়ান। সেখানে ঢাকাকে তিনি ‘ক্রাউডেড অ্যান্ড নয়জি’ শহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এসেছে বায়ুর মান, বিকট শব্দে হর্ন, ভিড় আর রাস্তায় মানুষের কৌতূহলের কথা।

 

বিদেশি পর্যটকদের কাছে স্থানীয় মানুষের এই কৌতূহল কখনো কখনো অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ছবি তুলতে চান, কেউ কথা বলতে চান, কেউ আবার কাছে এসে দাঁড়ান। একজন বিদেশির কাছে এটি একদিকে যেমন আন্তরিকতা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সময়ে হস্তক্ষেপ। নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে। ইয়ান প্যাকহ্যামের অভিজ্ঞতায় এই দুই অনুভূতিই পাশাপাশি রয়েছে। তবে ঢাকার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। দেশের তুলনামূলক শান্ত ও প্রাকৃতিক জায়গাগুলো তাঁর ভালো লেগেছে। অর্থাৎ তাঁর চোখে বাংলাদেশ মানেই শুধু ঢাকা নয়।

 

একই ধরনের দ্বৈত অভিজ্ঞতা রয়েছে মার্কিন ভ্রমণকারী ড্রু বিনস্কির ক্ষেত্রেও। ঢাকার যানজট নিয়ে তাঁর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলেও বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর পডকাস্টের নাম ‘মোস্ট আন্ডাররেটেড কান্ট্রি ইন এশিয়া: বাংলাদেশ’। সেখানে ঢাকার যানজটের পাশাপাশি বাংলাদেশের সুন্দর প্রকৃতি, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রশংসাও করেছেন তিনি।

ঢাকার বাইরে বদলে যায় গল্প, সামনে আসে মানুষ। সংগৃহীত ছবি
ঢাকার বাইরে বদলে যায় গল্প, সামনে আসে মানুষ। সংগৃহীত ছবি

 

এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ‘ব্যাল্ড অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্ট’ নামে পরিচিত ব্রিটিশ ভ্রমণকারী বেঞ্জামিন রিচের ভিডিওতে। বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর ভিডিওর শিরোনাম ‘নোবডি ভিজিটস দিস কান্ট্রি...ফাইন্ড আউট হোয়াই ইউ শুড!’। শুরুতে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়েই তিনি দেশটিতে আসেন। তাঁর ধারণা ছিল, বাংলাদেশের একটি বড় ধরনের ভাবমূর্তির সংকট রয়েছে। তাই প্রশ্ন তোলেন, বাইরে থেকে বাংলাদেশকে যেমন মনে হয়, বাস্তবেও কি দেশটি তেমন?

 

কিন্তু ভিডিওর শেষে তাঁর অবস্থান অনেকটাই বদলে যায়। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মেশার অভিজ্ঞতা তাঁকে চমকে দেয়। ভিডিওর বর্ণনাতেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সংকটের বিপরীতে উঠে এসেছে এ দেশের মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কথা।

 

অর্থাৎ ভ্লগারদের ভিডিওর শিরোনামগুলোই যেন বাংলাদেশের দুটি আলাদা মুখ দেখায়। ‘বাংলাদেশ ইজ ডিজগাস্টিং’, ‘মাই ফার্স্ট টাইম ইন বাংলাদেশ...আই ওয়াজ শকড’, ‘সারভাইভিং বাংলাদেশের ক্রেজিয়েস্ট সিটি’, ‘অ্যাভয়েড দিস ম্যান ইন বাংলাদেশ!’ এসব শিরোনামে আছে ধাক্কা, বিপদ, অস্বস্তি। আবার ‘মোস্ট আন্ডাররেটেড কান্ট্রি ইন এশিয়া: বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশি হসপিটালিটি ওয়াজ আনরিয়েল’, ‘নোবডি ভিজিটস দিস কান্ট্রি...ফাইন্ড আউট হোয়াই ইউ শুড!’ আবার এসব শিরোনামে আছে বাংলাদেশের অন্য চেহারা।

 

ঢাকার বাইরে বদলে যায় গল্প, সামনে আসে মানুষ

 

বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, ঢাকায় তাঁদের অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রেই অস্বস্তিকর কিংবা মিশ্র। কিন্তু পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখার সময় অনেকের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।

 

এই পরিবর্তন সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় ‘সান কিসড বাকেট লিস্ট’-এর ভিডিওগুলোতে। ব্রিটিশ ভ্রমণকারী জুটি ট্যাজ ও লিবি বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক ভিডিও তৈরি করেছেন। তাঁদের প্রথম দিকের একটি ভিডিওর নাম ‘ক্রেজি ফার্স্ট ডে ইন ঢাকা, বাংলাদেশ (নট হোয়াট উই এক্সপেক্টেড!)’। শিরোনাম থেকেই বোঝা যায়, ঢাকায় তাঁদের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। কিন্তু পরে একই সিরিজে তাঁরা তৈরি করেন ‘ভিলেজ লাইফ ইন বাংলাদেশ। বাংলাদেশি হসপিটালিটি ওয়াজ আনরিয়েল’।

 

গ্রামীণ জীবন নিয়ে তৈরি ভিডিওতে বাংলাদেশের ছবিটা একেবারে বদলে যায়। স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকা, খাবার খাওয়া, গ্রামের রান্নাঘরে সময় কাটানো, জমি থেকে সবজি তোলা, শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা মিলিয়ে সেখানের বাংলাদেশ বন্ধুপরায়ন।

বিদেশি ট্রাভেল ভ্লগারদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ভিডিওতে বাংলাদেশকে দেখানোর পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ের দিকেও লক্ষ রাখেন। আর তা হলো ভিউ।
বিদেশি ট্রাভেল ভ্লগারদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ভিডিওতে বাংলাদেশকে দেখানোর পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ের দিকেও লক্ষ রাখেন। আর তা হলো ভিউ।

 

মার্ক উইন্সের অভিজ্ঞতাও অনেকটা একই জায়গায় এসে মেলে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ফুড ভ্লগার বাংলাদেশে ঘুরেছেন স্থানীয় খাবারের খোঁজে। তার ভিডিওগুলোর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্থানীয় খাবার। যেমন ঢাকার কাচ্চি, ফুচকা, চটপটি থেকে গ্রামবাংলার রান্না। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল গ্রামের এক পরিবারের আতিথেয়তা গ্রহণ। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় একটি পরিবার তাঁকে এত খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেছিল যে তাঁর মনে হয়েছিল, সঙ্গে ক্যামেরা না থাকলেও পরিবারটি তাঁকে একইভাবে খাওয়াত।

 

ডগ বার্নার্ডের চোখেও বাংলাদেশের বড় শক্তি এ দেশের মানুষ। তাঁর ভাষায়, বান্দরবানের প্রকৃতি, বাংলাদেশের খাবার এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর অভিজ্ঞতার বড় অংশ হয়ে উঠেছিল।

 

 

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ ভ্লগার হিউ অ্যাব্রড বাংলাদেশে এসে একেবারে ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে নেপাল থেকে ঢাকায় এসে তাঁর বাংলাদেশ সিরিজ শুরু। প্রথম ভিডিওর নাম ‘মাই ফার্স্ট টাইম ইন বাংলাদেশ...আই ওয়াজ শকড’।

 

এরপর ‘সারভাইভিং বাংলাদেশের ক্রেজিয়েস্ট সিটি’, ‘২৪ আওয়ার্স সারভাইভিং অন বাংলাদেশ স্ট্রিট ফুড’, ‘সারভাইভিং বাংলাদেশের মোস্ট ডেঞ্জারাস ট্রেন’; এসব ভিডিওতে তিনি শহুরে জীবনের ‘বাজে’ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর ‘সারভাইভিং বাংলাদেশের মোস্ট ডেঞ্জারাস ট্রেন’ ভিডিওর বর্ণনায় ঢাকার ট্রেনযাত্রাকে গরম, শব্দপূর্ণ, প্রচণ্ড ঝাঁকুনির অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

আর ‘সারভাইভিং বাংলাদেশের ক্রেজিয়েস্ট সিটি’ নামটিই বলে দেয়, ঢাকা তাঁকে স্বাভাবিক পর্যটন-শহরের অভিজ্ঞতা দেয়নি। যদিও তাঁর এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ভিডিও তৈরির উপাদান বলেও মনে হয়।

 

ট্রাভেল ভ্লগাররা যা দেখান পুরোটাই কি সত্যি?

 

বিদেশি ট্রাভেল ভ্লগারদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ভিডিওতে বাংলাদেশকে দেখানোর পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ের দিকেও লক্ষ রাখেন। আর তা হলো ভিউ। কোনো সাধারণ পর্যটক যে অভিজ্ঞতাকে স্বাভাবিকভাবে নেবেন, একজন ভ্লগার সেটাকেই অনেক সময় কনটেন্টের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারেন। কারণ সাধারণ ভ্রমণের গল্পের চেয়ে অস্বাভাবিক, ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা দর্শকের কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

 

এর একটি উদাহরণ ‘মোস্ট ডেঞ্জারাস ট্রেন জার্নি’ ধরনের ভিডিও। বিশেষ পরিস্থিতি বা চরম বিপদে না পড়লে অধিকাংশ মানুষ হয়তো ট্রেনের ছাদে চড়বেন না। কিন্তু একজন বিদেশি ভ্লগারের ক্যামেরায় সেই অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠতে পারে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক ট্রেনযাত্রা’। এখানে ভ্লগার কি সত্যিই এমন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন, নাকি ভিউয়ের জন্য ইচ্ছা করেই সেই অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে গেছেন?

অনেক বিদেশি ভ্লগারের ভিডিওগুলোর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্থানীয় খাবার। সংগৃহীত ছবি
অনেক বিদেশি ভ্লগারের ভিডিওগুলোর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্থানীয় খাবার। সংগৃহীত ছবি

 

এ ধরনের ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি লিখেছেন, তাঁরা নিজেরা বাংলাদেশি হয়েও কখনো এভাবে ট্রেনে চড়েননি। অনেক ভ্লগার এমন পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে যান, যেগুলো সাধারণ পর্যটক তো বটেই, স্থানীয় অনেক মানুষও স্বাভাবিকভাবে এড়িয়ে চলেন। কারণ তাঁদের ভিডিওর গল্প, থাম্বনেইল ও শিরোনামের আকর্ষণ অনেক সময় ওই ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতাকে ঘিরেই তৈরি হয়।

 

এর আরেকটি উদাহরণ ‘ব্ল্যাকম্যান দ্য ট্রাভেলার’-এর ভিডিও ‘আই স্টেইড ইন দ্য ওয়ার্স্ট হোটেল ইন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের একটি নিম্নমানের হোটেলে থাকার অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘ওয়ার্স্ট হোটেল’ বা সবচেয়ে খারাপ হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইভাবে হিউ অ্যাব্রড বাংলাদেশে এসে ‘সারভাইভিং বাংলাদেশ’স ওয়ার্স্ট ১ ডলার হোটেল’ নামে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন।

 

এই ধরনের শিরোনাম দর্শকের কৌতূহল তৈরি করার কৌশল বলেও মনে করেন অনেকে। কারণ ‘বাংলাদেশের একটি হোটেলে থাকলাম’ যতটা সাধারণ, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ হোটেলে রাত কাটালাম’ তার চেয়ে অনেক বেশি ক্লিকযোগ্য। ফলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং ভিউয়ের জন্য সেই অভিজ্ঞতাকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপনের মধ্যে পার্থক্যও তৈরি হয়।

 

এখানে বিষয়টি এমন নয় যে ভ্লগাররা মিথ্যা বলছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ঢাকার যানজট, বায়ুদূষণ, অপরিচ্ছন্নতা, গণপরিবহনের ভিড় কিংবা পর্যটকদের নানা ধরনের হয়রানির অভিজ্ঞতা বাস্তব। তাই এসব নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে শুধু ভিউ পাওয়ার কৌশল বলে উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক হবে না। তবে ট্রাভেল ভ্লগিংয়ে কখনো কখনো ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর ভিউ পাওয়ার তাগিদের মধ্যকার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়।