Image description

সারা দেশে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুর আগেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী নবদুর্গাপূজা।

আজ রবিবার উপজেলার ইছামতি চা-বাগানের মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে দেবী দুর্গার প্রথম রূপ শৈলপুত্রীর পূজার মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শুরু হয়। প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসব পাঁচ দিনব্যাপী হলেও মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের আরাধনায় পৃথকভাবে পূজা করা হয় নয় দিন ধরে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে এ পূজার সূচনা হয়। এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে নবদুর্গাপূজার ১৬তম আসর।

রবিবার সকালে শাস্ত্রীয় বিধি মেনে মন্ত্রোচ্চারণ, নৈবেদ্য নিবেদনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী শৈলপুত্রীর পূজা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে দেবীর ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপের পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নবমী তিথি পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। প্রতিদিন দেশের শান্তি, মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনায় দেবীর চরণে অঞ্জলি দেন ভক্তরা।

মঙ্গলচণ্ডী মন্দির ও সেবাশ্রম কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরটি কয়েক শ বছরের পুরোনো বলে পরিচিত। তবে এখানে নবদুর্গাপূজার আয়োজন শুরু হয়েছে ১৬ বছর আগে।

হিন্দুধর্মীয় শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার নয়টি রূপের পৃথক তাৎপর্য রয়েছে। এসব রূপের মাহাত্ম্য ভক্তদের কাছে তুলে ধরতে প্রতিদিন একটি করে রূপের আরাধনা করা হয়।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, দুর্গাপূজায় পাঠ করা চণ্ডীতে দেবীর বিভিন্ন রূপের উল্লেখ রয়েছে। সেই রূপগুলোর মাহাত্ম্য তুলে ধরতে এখানে নয় দিন ধরে নয় রূপে পূজার আয়োজন করা হয়। অনেক ভক্ত দেবীর নয়টি রূপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। এ আয়োজনের মাধ্যমে তারা সেসব রূপ সম্পর্কে জানতে পারেন।

 

 

পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মেলা। খাবারের দোকান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে সেখানে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজা ও মেলা দেখতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন তীর্থযাত্রী, দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা।

 

স্থানীয় ভক্ত মান্না রায় বলেন, আমাদের এই মন্দিরে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের পূজা হয়। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত ঐতিহ্য। প্রতিবছর এ আয়োজনের জন্য অপেক্ষা করি আমরা।

হবিগঞ্জ থেকে আসা পূণ্যার্থী অনন্যা দাশ গুপ্তা বলেন, ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর আগেই এখানে পূজা শুরু হয়। এবার প্রথমবারের মতো নবদুর্গাপূজা দেখতে এসেছি। এখানে এসে অন্য রকম আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এতে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।

নবদুর্গাপূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহসভাপতি স্বাধীন চাষা বলেন, আমি ১৩ বছর ধরে এ পূজার সঙ্গে যুক্ত আছি। প্রতিবছর এখানে নবদুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। প্রথম দিন থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি থাকে। প্রতিদিন দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপের পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন ভট্টাচার্য রাজন বলেন, পূজার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আজ প্রথম পূজা শুরু হয়েছে। আমরা চাই, দেবীর আশীর্বাদে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং মানুষের কল্যাণ বয়ে আসুক।

পরিষদের সহসভাপতি সুরঞ্জিত দাশ বলেন, ২০১০ সাল থেকে এখানে নবদুর্গাপূজার আয়োজন হচ্ছে। এবার ১৬তম আয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর রয়েছে। এবার আরও সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

শ্রীমঙ্গল থেকে আসা দর্শনার্থী সুরশ্রী পুরকায়স্থ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নবদুর্গাপূজার প্রথম দিনেই মন্দিরে আসি। এবার পরিবার নিয়ে এসেছি। দেবীকে প্রণাম করে পরিবারের সঙ্গে পূজার আনন্দ উপভোগ করছি। সারা দেশে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগেই এখানে এসে পূজার আনন্দ পাওয়া যায়।

আয়োজকেরা জানান, নয় দিনব্যাপী পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।