Image description

নেত্রকোনার মদনে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে পৌরসভার একাধিক ডাস্টবিন। সেগুলো থেকে ময়লা উপচে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে পৌরসভায় পর্যাপ্ত কর্মী থাকার পরও প্রতি মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা বিল তোলার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউএনওর বাসভবনের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে ৭টি কমলা রঙের ডাস্টবিন সারিবদ্ধভাবে বসানো। এর মধ্যে কয়েকটি ডাস্টবিন ময়লায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উপচে পড়েছে। কোনোটির ওপর পলিথিনে মোড়ানো বর্জ্যের স্তূপ, আবার কোনোটি উল্টে পড়ে আছে। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শুকনো পাতা, পলিথিন ও পচা আবর্জনা। এলাকাটিতে বর্জ্য ফেলার কোনো কার্যকর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা চোখে পড়েনি।

বিজ্ঞাপন

গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি বাসভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

বর্জ্য অপসারণে দীর্ঘসূত্রতার কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা আক্তার বলেন, পৌরসভার ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ৫ থেকে ৬ দিন, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৭ থেকে ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ডাস্টবিনগুলো খালি করা হয় না। দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ডাস্টবিনগুলো দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তর এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানান তিনিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ দুর্ভোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, পৌরসভায় নিয়মিত ৭-৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার পরও দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে অতিরিক্ত লোক নিয়োগের ভুয়া হিসাব দেখানো হয়। এভাবে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার জাল ভাউচার করে বিল তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হচ্ছে না কিছুই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মদন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, আমার বাসভবনের সামনে দুরবস্থা হয়েছে বলেই যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা নয়। ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বিভিন্ন জায়গা থেকেও অভিযোগ এসেছে।

মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী বিলের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিল সংক্রান্ত এই বিষয়টি সত্য নয়। তবে সামগ্রিক বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।