চোটের কারণে নেই দলের মূল বোলার কাগিসো রাবাদা। তবু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের স্বস্তিতে থাকতে দিলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফিরেই জোড়া উইকেট নিলেন আনরিখ নরকিয়া। তার সঙ্গে মার্কো ইয়ানসেন ও উইয়ান মুল্ডারের দাপটে একসময় ১২৪ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে ম্যাট রেনশ ও প্যাট কামিন্সের প্রতিরোধে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ডারবানের কিংসমিডে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনের খেলা আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে শেষ হওয়ার সময় ৬৫.২ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৮৭ রান। রেনশ ৪৬ ও অধিনায়ক কামিন্স ৩৩ রানে অপরাজিত আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। অষ্টম ওভারে ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন মুল্ডার। উইকেটকিপার কাইল ভেরেইনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯ রান করেন হেড। এরপর আউট হন নিক ম্যাডিনসন।
দশ বছর পর টেস্ট দলে ফেরা ম্যাডিনসনের প্রত্যাবর্তনটা ছিল হতাশার। ৩৩ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ইয়ানসেনের বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে শেষ হয় তার ইনিংস। মাত্র ২৪ রানে দুই ওপেনারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে ৬০ রান যোগ করেন দুজন। তবে মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগের বলে লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে সেই জুটি ভাঙেন মুল্ডার। ৩৭ রান করেন লাবুশেন।
মধ্যাহ্নবিরতিতে ৩ উইকেটে ৮৪ রান নিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই আরেকটি ধাক্কা খায়। বিরতির পর তৃতীয় বলেই ইয়ানসেনের বলে গালিতে মুল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন স্মিথ। তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান।
এরপর অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন রেনশ। কিন্তু ৪২তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সেই চেষ্টায় বড় ধাক্কা দেন নরকিয়া।
দুর্দান্ত গতির বলে প্রথমে ক্যারিকে ফেরান এই পেসার। দ্বিতীয় স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৪ রান করেন ক্যারি। একই ওভারে নরকিয়ার শিকার হন বো ওয়েবস্টারও। রিভিউ নিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচের সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৪ রান করেন ওয়েবস্টার।
ফলে ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে দলের হাল ধরেন রেনশ ও কামিন্স।
দুই ব্যাটসম্যান শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে রান তোলার চেষ্টা করেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৬৩ রান। ১১৫ বলে তিনটি চারে ৪৬ রান করেছেন রেনশ। কামিন্সের ৭২ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি চার।
চা-বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৪৯ রান। শেষ সেশনে আরও ৩৮ রান যোগ করেন রেনশ ও কামিন্স। তবে আকাশ মেঘলা হয়ে পড়ায় ফ্লাডলাইট জ্বালিয়েও খেলা চালানো সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মুল্ডার, ইয়ানসেন ও নরকিয়া। মুল্ডার ৩১, ইয়ানসেন ৩৫ এবং নরকিয়া দিয়েছেন ৪০ রান।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই দুই দলের নতুন লড়াইয়ের প্রথম দিনেও ব্যাট-বলের দ্বৈরথে এগিয়ে থেকেছেন প্রোটিয়া পেসাররা।