চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ইউজড কার পার্টস’ ঘোষণার আড়ালে খণ্ডিত গাড়ি আমদানির ঘটনা শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। মঙ্গলবার একটি সন্দেহভাজন চালানের কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। চালানটিতে সাধারণ ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হলেও এর মধ্যে পাওয়া গেছে খণ্ডিত অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার, বিএমডব্লিউ ৭৪০আইয়ের সামনের অংশ এবং পাঁচটি ইসুজু ট্রাক।
গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। সূত্র জানায়, চালানটিতে পাওয়া বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কারটি দুই আসনের এবং সম্পূর্ণ নকডাউন অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’, উৎপাদন বছর ২০০৯ এবং ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি। তবে চেসিস নম্বর, ভিআইএন ও সঠিক মডেলসহ অন্যান্য তথ্য কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া পাওয়া গেছে বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০১৬ সালের মডেল এবং ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। গাড়িটির শুধু সামনের অংশ পাওয়া যাওয়ায় এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। চালানটিতে ঘোষণা-বহির্ভূতভাবে পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাকও পাওয়া যায়। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের ব্যাপক পার্থক্যের কারণে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক-কর ফাঁকি, আমদানি নীতি লঙ্ঘন এবং গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে পুনঃসংযোজনের কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।