বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সরবরাহকারী বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জাল অথরাইজেশন সার্টিফিকেট প্রদান, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তদন্তে এসব অনিয়মের একাধিক প্রমাণও মিলেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে প্রতিষ্ঠানটিকে সব ধরনের দরপত্রে আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্তও করা হয়। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা করে না প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জালিয়াতি আর অনিয়ম। এ নিয়ে রয়েছে উচ্চ আদালতে একাধিক রিট মামলা। এত কিছুর পরও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস সিন্ডিকেট সরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ করছেই।
সরকার বদলালেও তাদের সিন্ডিকেট ভাঙে না। সর্বশেষ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে প্রায় ৮ কোটি টাকার অটো-ডিসেবল সিরিঞ্জ সরবরাহেও অনিয়মে জড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার পিস বিভিন্ন ধরনের সিরিঞ্জ জোগানের কাজ পেয়েছে। দরপত্রের মূল্যায়ন নিয়ে একাধিক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের আপত্তি, রিট ও আইনি নোটিশের মধ্যেই বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের অনুকূলে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২২০ মার্কিন ডলারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও কয়েক দফা অনিয়ম করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এখানেই শেষ নয়, প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি ৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত তদন্তভিত্তিক প্রতিবেদনে সায়েন্স হাউসের পাওয়া একাধিক চুক্তি, চীনা পণ্যে নকল স্টিকার এবং দরপত্রের বিশেষ শর্ত নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কাজ পাইয়ে দিতে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার প্রমাণও রয়েছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রকাশিত একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রমাণ মিলেছে। সর্বনিম্ন দরদাতা ২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার দর দিয়েছিল। কিন্তু ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি অর্থের গচ্চা দিয়েও সায়েন্স হাউসকে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার দরে কাজটি দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
২০০৬ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন এবং ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী, উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ প্রদানের বিজ্ঞপ্তি (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড বা নোয়া) জারি করা সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূত। কিন্তু সায়েন্স হাউসের ক্ষেত্রে তা-ই করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ (পিপিএ) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০০৮-এ জালিয়াতি, প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জাল কাগজপত্র দাখিলের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। পিপিআরের বিধি ১২৭ অনুযায়ী, কোনো ঠিকাদার বা দরদাতা যদি ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ, জাল লাইসেন্স, ভুয়া আর্থিক সক্ষমতার তথ্য, জাল ব্যাংক গ্যারান্টি বা অন্য কোনো জাল বা প্রতারণামূলক দলিল ব্যবহার করে সরকারি কাজ লাভের চেষ্টা করে এবং যথাযথ তদন্তে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ডিবারমেন্ট বা কালো তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। একটি প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে একাধিক কিংবা সব সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার ক্ষেত্রেও কালো তালিকাভুক্তি কার্যকর করার বিধান রয়েছে।
রিট ও লিগ্যাল নোটিশের পরদিনই ১ কোটি ৩৫ লাখ সিরিঞ্জের কার্যাদেশ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার পিস অটো-ডিসেবল (এডি) সিরিঞ্জ কেনার উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রে (ই-জিপি টেন্ডার আইডি ১২৭৩১৪৪, প্যাকেজ নম্বর ২০২৫-২৬/জিডি-২২) অংশ নেয় আটটি প্রতিষ্ঠান। মূল্যায়নের পর বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস, মেডিলিঙ্ক টেকনো হাট ও আয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের দর ছিল সর্বনিম্ন ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার। তবে প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা ও দরপত্রের শর্তপূরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড হাইকোর্টে রিট (ডব্লিউ.পি নং-১৪০০৩/২০২৬) করে। ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, প্রকল্প পরিচালক, বিপিপিএ ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে আইনি নোটিশ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বা কার্যাদেশ না দেওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু নথি অনুযায়ী, এর পরদিনই ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের অনুকূলে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ২২০ ডলারের কার্যাদেশ জারি করা হয়। এদিকে গত ৪ অক্টোবর ওই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী আয়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মুন্সী আলাউল হোসেন বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনঃদরপত্রের আবেদন জানিয়েছেন। ওখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের এডি সিরিঞ্জের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন দরপত্রের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন বা শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রে অংশগ্রহণ ও কার্যাদেশের যোগ্য কি না, সেটা তদন্ত করে যাচাই করা জরুরি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দরপত্র বাতিল করে বিধি-বিধান অনুযায়ী পুনঃদরপত্র আহ্বানে মন্ত্রীর নির্দেশনার জন্য অনুরোধ করেন।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিটের কেনাকাটা মূলত বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস এবং মেডিলিঙ্ক টেকনো হাটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালে হাইড্রোকলয়েড সার্জিক্যাল ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ও ড্রেসিং ড্রাম সরবরাহের একটি দরপত্রে একই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া নিয়ে ট্র্যান্স ট্রেডার্সের অভিযোগের পর হাইকোর্টে রিট (ডব্লিউ.পি. নং- ৫০০৮/২০২২) দায়ের হয়। ২০২২ সালের ১৭ মে আদালত রুল জারি করেন। ওই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ট্র্যান্স ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী এম. এ. হক অভিযোগ করেন, কতিপয় প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শর্তানুযায়ী প্রাক-দরপত্র মিটিংয়ের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় দুটি পণ্যের নমুনাই জমা দেয়নি এবং আইটিটি ধারা ২৩.১২(সি) লঙ্ঘন করে সিআইএফ মূল্য ও স্থানীয় পরিবহন খরচ পৃথকভাবে প্রদর্শন করেনি। কিন্তু ডিজিএফপি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ বিবেচনা না করেই বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কার্যাদেশ প্রদান করে। পরবর্তীতে সিপিটিইউর রিভিউ প্যানেল-৪ অভিযোগ খারিজ করলে ট্র্যান্স ট্রেডার্স হাইকোর্ট বিভাগে ৫০০৮/২০২২ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করে। ২০২২ সালের ১৭ মে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি এস. এম. মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে প্রদত্ত কার্যাদেশ কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১০ দিনের রুল জারি করেন।
এরপরও ২০২৪ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একাধিক বড় কেনাকাটায় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস ও মেডিলিঙ্ক টেকনো হাটকে কাজ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সার্জিক্যাল ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ও প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ টাকার ১৫০ সেট ওটি টেবিল এবং মেডিলিঙ্ক টেকনো হাট প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সার্জিক্যাল রাবার গ্লাভস ও প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার ১২১ টাকার ওটি লাইট ও স্পট লাইট সরবরাহের কাজ পায়।
একাধিক সরবরাহকারীর অভিযোগ তাদেরকে অন্ধকারে রেখেই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের যোগ্যতা ও অনুপালন নথিপত্র কীভাবে যাচাই করা হয়েছে তারা জানেন না। আদালতে বিচারাধীন বিষয় ও আইনি নোটিশের পরদিনই কেন কার্যাদেশ দেওয়া হলো এটাও বোধগম্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে সমাপ্ত চতুর্থ সেক্টর কর্মসূচির অধীনে অপরিহার্য পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অসমাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন শীর্ষক প্রকল্প পরিচালক এ এফ এম আরাফাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১ কোটি ৩৫ লাখ এডি সিরিঞ্জ কেনাকাটার দরপত্রে সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস কালো তালিকাভুক্ত কি না? এ জন্য কার্যাদেশ প্রদানের আগে অনলাইনেও যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু অনলাইনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একাধিক কেনাকাটায় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালত রুলও জারি করেছিলেন। এ বিষয়ে জানেন কি না? এ ছাড়াও অতীতে অনিয়মের পরেও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস কীভাবে নতুন করে কার্যাদেশ পেয়েছে?
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, আপনি যে সময়ের কথা বললেন (২০২২ ও ২০২৪) ওই সময়ে আমি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কোনো দায়িত্বে ছিলাম না। ফলে এসব বিষয়ে আমার জানা নেই।
সর্বনিম্ন দর উপেক্ষা করে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কার্যাদেশ সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের জিডি-১১ (ই) লটের আওতায় আইসিইউ, এইচডিইউ, সিসিইউ, পোস্ট-সিসিইউ, ক্যাথল্যাব, পোস্ট-ক্যাথ রিকভারি এবং এনআইসিইউর জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে গত বছরের ২৫ মার্চ দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রপাতিরও দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস, ট্রেড ভিশন, তামাম করপোরেশন, জেনেসিস ট্রেডিং করপোরেশন, আনিফকো হেলথকেয়ার এবং মেডিকিট করপোরেশন অংশ নেয়। মূল্যায়ন শেষে কার্যাদেশ পায় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস।
এদিকে, প্রকল্পের জিডি-১২ (ই) লটের আওতায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি), পোস্ট-অপারেটিভ রিকভারি এবং ডেলিভারি ও লেবার রুমের জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে গত বছরের ২৭ মার্চ আরেকটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে নানা ধরনের সরঞ্জাম ক্রয়ের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই দরপত্রে আরপি এন্টারপ্রাইজ, জেনেসিস ট্রেডিং করপোরেশন, আনিফকো হেলথকেয়ার এবং বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস অংশ নেয়। চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল আরপি এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার টাকায় যন্ত্রপাতি সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস একই যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯২৫ টাকা দর প্রস্তাব করে, যা ছিল অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দরদাতা বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়, দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদান প্রক্রিয়া শেষে সায়েন্স হাউস যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করে। এখনও ওইসব সরঞ্জাম বাক্সবন্দি। প্রকল্পের সার্ভে কমিটি ও হাসপাতালের ব্যবহারকারী প্রতিনিধি দল এখনও গ্রহণ করেনি। সরকারি হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যানুফেকচার অথরাইজেশন সার্টিফিকেট চাইলে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস ব্রাজিলের মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টিম্পল মেডিকেলের ভুয়া ম্যানুফেকচারার অথরাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেয়। সরবরাহকারী বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে টিম্পল মেডিকেলের কাছাকাছি মডেলের যন্ত্র চেয়ে যোগাযোগ করেছে। তবে চীনের মেডিকেল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক একাধিক প্রতিষ্ঠান টিম্পলের নামে তাদের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত চীনের বেনামি কোম্পানির যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। ওইসব কথপোকথনের তথ্য-প্রমাণ কালবেলার হাতে এসেছে। সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের দুটি লটের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রভাবও বিস্তার করেন। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বঞ্চিত করে কাজ বাগিয়ে নেয় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস।
জালিয়াতি প্রমাণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত হয় সায়েন্স হাউস জালিয়াতি, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২১ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) আওতায় আইসিটি ট্রেডের বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েও প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত যন্ত্রপাতি এবং অপ্রচলিত ও লাইসেন্সবিহীন অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার সরবরাহ করে। একই ঘটনায় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৮০ কোটি টাকা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তদন্তে সামনে আসে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রকল্পের প্রোগ্রাম পরিচালক ও যুগ্ম প্রোগ্রাম পরিচালকের (অ.দা.) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরে ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ ন ম তরিকুল ইসলাম পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের যৌথ উদ্যোগকে (জেভি) সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন কোনো প্রকল্পে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত পণ্য এবং লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সুপারিশের পর সিপিটিইউ প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর থেকে আগামী ২০৩৪ সালের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি কেনাকাটা কিংবা সরকারি অর্থায়নের যে কোনো কেনাকাটায় কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। কালো তালিকাভুক্ত করলেও সেই তথ্য ওয়েবসাইটে মাত্র কয়েক ঘণ্টা দৃশ্যমান থাকার পর অজ্ঞাত কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের নথিতে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের কালো তালিকাভুক্তির তথ্য বহাল রয়েছে।
প্রাণিসম্পদের কেনাকাটায় করেছে অথরাইজেশন জালিয়াতি, বিখ্যাত ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ করে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ, চীনে তৈরি পণ্যে ইউরোপীয় দেশের নকল কান্ট্রি অব অরিজিন স্টিকার ব্যবহার, দরপত্রে কারসাজি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) আওতায় উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের জন্য ২ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্লাস্টিক, গ্লাসওয়্যার, কেমিক্যাল, রি-এজেন্ট ও মিডিয়া ক্রয়ের জি-৩৮ প্যাকেজের দরপত্রে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা সায়েন্টিফিক সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়। দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ম্যানুফ্যাকচারার অথরাইজেশন সার্টিফিকেট যাচাই করতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লাসকো ল্যাবকে ই-মেইল পাঠায়। ফিরতি মেইলে তারা জানায়, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস বা আল-আরাফা সায়েন্টিফিককে তারা কোনো অথরাইজেশন দেয়নি। একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগেও এলডিডিপি প্রকল্পে মিল্ক ক্রিম সেপারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিম্নমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের চীনা যন্ত্রপাতিতে ইউরোপীয় স্টিকার লাগিয়ে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে নেয়।
এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ (প্রথম সংশোধিত) শীর্ষক ৭৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্পে যন্ত্রপাতি সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর যুগ্ম সচিব শাহিনা ফেরদৌসীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ১১টি অভিযোগের মধ্যে ৯টির প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তদন্তে বলা হয়, দরপত্রে আয়কর রিটার্নে বার্ষিক টার্নওভারের বিশেষ শর্ত আরোপ করে দরপত্রের প্রতিযোগিতা সীমিত করা হয়েছিল। এতে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস বারবার কার্যাদেশ পায়। আরও উল্লেখ করা হয়, দরপত্রে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা জাপানের পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকলেও চীন থেকে যন্ত্রপাতি এনে তাতে ইউরোপীয় স্টিকার লাগানো হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এদিকে মালামাল গ্রহণের জন্য গঠিত কমিটি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই মালামাল গ্রহণ করে।
সরবরাহ করা মালামাল প্যাকেট খুলে পরীক্ষা করেও দেখেনি মূল্যায়ন কমিটি। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি পরিদর্শনে গিয়ে অনেক যন্ত্রে নকল স্টিকার দেখতে পায়। প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রধান ছিলেন ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অনুবিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন সর্বশেষ প্রকল্প পরিচালক মকবুল হোসেন ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শামীম হোসেন। মালামাল গ্রহণ কমিটিতেও মোফাজ্জল হোসেন ও মকবুল হোসেন ছিলেন। মালামাল গ্রহণ কমিটির অন্য সদস্য হলেন প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে এই চার কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রকল্প পরিচালক আজিজুল ইসলামের নাম উঠে আসে তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক অভিযোগের প্রমাণের কথা উল্লেখ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ১০৫ কোটি টাকা ও ৭৬ কোটি টাকার দরপত্রেও বেনামি যন্ত্রে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের স্টিকার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায়ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস। প্রায় ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটার ৯টি প্যাকেজের কার্যাদেশ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের ও বেনামি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। এরপর ওইসব যন্ত্রে ইউরোপ ও আমেরিকার নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, কেনাকাটার পুরো বিল অনেক আগেই পরিশোধ করা হলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সব যন্ত্রপাতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়নি।
একই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত বছরের ২৭ অক্টোবর প্রায় ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটার জন্য আরও একটি দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রেও কাজ বাগিয়ে নেয় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস। দরপত্রে অস্ত্রোপচার যন্ত্রপাতি, অ্যানেসথেশিয়া সরঞ্জাম, এক্স-রে ইউনিটের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে ঘড়ি, টেলিভিশন এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন পণ্যসহ মোট ৭০৩টি আইটেম একই লটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানেই থেমে থাকেনি সায়েন্স হাউস। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে যন্ত্রপাতির এমন কিছু টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করেছিল। ফলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে কয়েকটি যন্ত্রের নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেলের নাম উল্লেখ করা হয়। যা পিপিআর-এর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া পাঁচ বছরের পরিবর্তে দুই বছরের ওয়ারেন্টি নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পরিবর্তে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করার মতো শর্ত রাখা হয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর শেষ পর্যন্ত ওই দরপত্রটি বাতিল করা হয়। তবে দরপত্র বাতিল হলেও আগের কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হয়নি। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের। একাধিক প্রকল্পে তদন্ত কমিটি অনিয়ম, জালিয়াতি ও দরপত্রে কারসাজির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরেও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রয়েছে বহাল তবিয়তে। এতে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সাড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘যদি যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কাজ দেওয়া হয়, তাহলে পুরো সিস্টেম ব্যর্থ হবে। আর রাষ্ট্রের কোনো ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হলে এর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ। তাই সরকারি কেনাকাটায় যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া জরুরি। এতে দেশের নাগরিকরাই উপকৃত হবেন। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।