Image description

রাজধানীর পল্লবীতে একটি ফার্মেসিতে হামলা চালিয়ে দোকানদারকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পল্লবীর ২২ তলা গার্মেন্টের পেছনে একটি ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার সেটি সামাজিক যোগাযোমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পুলিশ বলছে, মিরপুরের দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী ফোর স্টার গ্রুপের সদস্য মশিউর রহমান মশুর লোক। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি কেউ। মহড়ার ছবি বিশ্লেষণ করে হামলাকারী দলের তিনজনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার তিনজন হলেন-জনি, পারভেজ ও হারুন। তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দোকানি আফজাল মোল্লা শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মৃত ইউসুফ মোল্লার ছেলে।

হামলা ও কোপানোর ঘটনার প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা তিন যুবক এক ব্যক্তির টি-শার্টের কলার ধরে মারধর করছেন। একজন রামদা দিয়ে কোপাচ্ছেন এবং আরেকজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। অপর যুবক দোকান থেকে ব্যাগে করে কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আরেকটি ভিডিওতে একটি তরবারি দেখা যায়। তবে সেটি কার হাতে ছিল, দেখা যায়নি। পরে আরও এক যুবক দোকান থেকে কিছু একটা নিয়ে চলে যান। এ সময় হামলার শিকার ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়-‘আমি কিছু করব না, আমি কিছু করব না বাবা।’ ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত হাত চেপে ধরে থাকতে দেখা যায়।

প্রশাসনকে জানালে মেরে ফেলা হবে, এমন হুমকি, ভয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হননি। তবে হুমকিদাতাদের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রিয়াজ, ইব্রাহীম, হারুন, সুজন, সজিব, জুবায়ের, রাহুলসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে।

জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির বলেন, ঘটনাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের। আমরা মঙ্গলবার জানতে পেরেছি। ওই দোকানদারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তবে তিনি আসেননি, অভিযোগও করেননি। ওসি আরও বলেন, মিরপুরের সন্ত্রাসী মশিউর গ্রুপের লোকজন ওই দোকানদারের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়েছে, এমন তথ্য পেয়েছি। দোকানদার আশিক গ্রুপকে সহযোগিতা করে এবং তথ্য দেয়, এমন অভিযোগে হামলা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, পল্লবীর পলাশ নগর এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে সাতজনের একটি দল অস্ত্র দেখিয়ে মহড়া দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাতে বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রিমান্ডে মহড়া ও অস্ত্রের উৎসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন-মশিউরের পরিচয় ব্যবহার করে একটি গ্রুপ জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। মূলত শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন-মশিউর গ্রুপের নাম ব্যবহার করে কাশেম নামের এক ব্যক্তি এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করছে। এ চক্রের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে বলে ডিবি তথ্য পেয়েছে।