নির্ধারিত সময় ছিল মাত্র আড়াই বছর। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরে পাঁচবার সময় বাড়িয়েও শেষ করা যায়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় তিতাস নদীর ওপর নির্মাণাধীন ২০৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চরম উদাসীনতা আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কচ্ছপগতির কারণে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এ মেগা প্রকল্প এখন সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আড়াই বছরের কাজ ছয় বছরে গড়ালেও এখনো প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এতে সেতুর দুই তীরের লাখো মানুষের স্বপ্ন এখন তিতাস নদীর বুকেই ঝুলে আছে। তবে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেতু ছাড়া এলাকার মানুষকে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও পড়েন সমস্যায়।
সরেজমিন গিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া সেতুর মাঝখানে ৪৪ মিটার দীর্ঘ মূল স্প্যানের নির্মাণকাজ এখনো বাকি। নির্মাণ হয়নি দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক। সেতুর রেলিং, ডেক স্ল্যাবসহ বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। গত এক বছর সেতুটির কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খায়রুল হাসান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাড়পত্র এবং ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সেতুর নির্মাণকাজে দেরি হয়েছে। জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণকাজ আবার শুরু করা হবে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান জানান, ঠিকাদারের গাফিলতিতেই সেতু নির্মাণকাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছে। যদি কাজ না করেন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।