মাদক মামলায় বেশির ভাগ সাক্ষী ভুয়া! এদের কেউ একই থানার একাধিক মামলার সাক্ষী। কেউ পথচারী, পুলিশের সোর্স, কেউ আবার অটো, সিএনজি এবং রিকশাচালক। আবার কেউ পুলিশের সদস্য। যাদেরকে যে ঘটনায় সাক্ষী বানানো হয়েছে, সেসব ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা অন্তত ১০টির বেশি মামলার তথ্য অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের কেউই এমন অনিয়মের কথা স্বীকার করেননি। মামলার বাদীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) অনুমতি সাপেক্ষে মামলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া সাক্ষীতে মামলা হলে বিচার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আসামি দোষী হলেও ছাড়া পেয়ে যেতে পারেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তিও হয়রানি শিকার হচ্ছেন। এমন মামলায় আদালতে মামলা জটের পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ, পুলিশের শ্রম সবই বৃথা যাচ্ছে। এদিকে সাক্ষীর অভাবে মাদকের মামলার জট দিনদিন বেড়েই চলছে। আদালত সূত্র জানায়, মোট বিচারাধীন মাদক মামলার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৮টি।
তথ্যানুসন্ধানে যেসব জানা গেছে : ২০২১ সালের ২৯ জুন রাজধানীর ডেমরা থানায় হেরোইনের ৫১০ পুড়িয়া জব্দের ঘটনায় একটি মামলা হয়। মামলা নম্বর- ৪৭/৩০১। আসামি করা হয় কামাল হোসেন নামে একজনকে। মামলার বাদী ও জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী ছিলেন এসআই নাজনীন আক্তার। সাক্ষী করা হয় রাকিব হোসেন নামে এক সিএনজি চালক এবং রনি নামে এক অটোচালককে। এ ছাড়া ছানোয়ার হোসেন নামে আরেকজনকে সাক্ষী করা হয়। তিনি নিজেকে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। রাকিবের ঠিকানা দেওয়া হয় ডেমরার গলাকাটা ব্রিজের ঢাল এবং রনির ঠিকানা সারুলিয়া ওয়াসা রোড। এসব ঠিকানায় ওই দুই নামে কাউকে পাওয়া লোকজনের হাতে আরাফাত খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।