নদীভাঙনের কবলে পড়ে নিজের জন্মস্থান নোয়াখালীর হাতিয়া ছেড়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বস্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন সাইফুল ইসলাম। এক বছর ধরে ছোট একটি কক্ষে পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে কোনোরকম দিন পার করছেন তিনি।
সাইফুল বলেন, ঢাকার এ ঘিঞ্জি বস্তিতে আমাদের প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যু হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে ঘরে পানি পড়ে, আর গরমের দিনে ছোট্ট একটা রুমে সবাইকে নিয়ে বসবাস করতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। গ্রামে ভিটেমাটি হারিয়ে যারা বস্তিতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুধু সাইফুল ইসলাম একা নন, দেশের শহরাঞ্চলে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবাসন নেই। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে এক কোটির বেশি মানুষের আবাসন ঘাটতি দেখা দেবে। জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ ও ভঙ্গুর অবকাঠামোর কারণে বহুদিন ধরেই ঢাকাকে ‘আরবান আইসিইউ’ বা ‘শহুরে আইসিইউ’ উপমা দেওয়া হয়।
একসময় বাগান ও লেকের শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকা এখন প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৩ হাজারের বেশি মানুষের আবাসস্থল। প্রতিদিনই গ্রাম থেকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার সন্ধানে আসা মানুষের ঢল এ সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
আজ সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালন করা হচ্ছে এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশের শহুরে আবাসন সংকটকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। পরিবেশ রক্ষা করে সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার বার্তা নিয়ে এবার দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে নিরাপদ নগর এবং মানসম্মত বাসস্থান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। আর ১৯৮৬ সাল থেকে সারা বিশ্বে অক্টোবরের প্রথম সোমবার এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও বসতি দিবস উদযাপনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মেলার উদ্বোধন করবেন। আবাসন, নির্মাণ খাত এবং ব্যাংকিং সেবা পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের জন্য মেলায় মোট ১৫৭টি স্টল থাকছে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রোববার রাজধানীর জিয়া উদ্যানের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়।
তবে প্রতি বছর ঘটা করে বসতি দিবস উদযাপন করা হলেও সাধারণ মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধন হচ্ছে সামন্যই। উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারলেও নিম্ন আয়ের মানুষ আছেন চরম বিপাকে। গ্রামের দুস্থ মানুষ কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও শহরে বসবাসকারীদের জীবন কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা জীবনযাপনের খরচের হিসাব মেলাতে পারছেন না। ফলে কেউ বস্তির জীবন বেছে নিচ্ছেন, কেউবা হয়ে পড়ছেন ভাসমান। অনেকেই আবার স্থায়ী আশ্রয়ের অভাবে ফুটপাত বা ওভারব্রিজের নিচে পলিথিনের ঘরে দিন-রাত পার করছেন; রোদে পুড়ছেন, বৃষ্টিতে ভিজছেন, শীতে কাঁপছেন।
শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো ধনীদের কবজায় চলে গেছে। ফলে শহরের বস্তি এলাকায় বসতি বাড়ছে। বিভিন্ন বস্তিতে বাস করছেন ১৮ লাখের বেশি মানুষ। আবার গ্রামে দরিদ্রদের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় তা সুফল বয়ে আনেনি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভাসমান মানুষের সংখ্যা ২২ হাজার ১১৯ জন। এ তালিকায় আছে, যাদের বসবাসের ঘর-বাড়ি নেই। যারা রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মাজার, ফুটপাত, সিঁড়ি, ওভারব্রিজের নিচে, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট, মার্কেটের বারান্দায় দিনাতিপাত করেন। আর বস্তিতে বসবাস করছেন ১৮ লাখ ৪৮৬ জন।
বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের তথ্যে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে দেশের নগরায়ণের হার ছিল ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, ১৯৭৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশে; ২০১১ সালে ২৩ দশমিক ৩০ এবং ২০২৩ সালে ৪০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। দেশের নগরায়ণ মূলত অপরিকল্পিত এবং ঢাকাকেন্দ্রিক। এর উদাহরণ বর্তমান দেশের নগরাঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে। এখনো প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ নতুন করে ঢাকায় ঢুকছেন। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এ শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যা আবাসনসহ বহুমুখী সংকট বাড়াচ্ছে।
গ্রামে টিনশেড ও পাকা ঘরবাড়ি বাড়লেও শহরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। শহরে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করছে শুধু ঘরভাড়ার পেছনে। আর নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো গাদাগাদি করে থাকছে অস্বাস্থ্যকর বস্তি ও ঘিঞ্জি এলাকায়, যেখানে পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা প্রায়ই অনির্ভরযোগ্য।
২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সারা দেশে ৩০টি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, নোয়াখালী, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, শরীয়তপুর, নড়াইল, খুলনা, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব প্রকল্পে ৬ হাজার ৪৩২টি পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ২৭টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৪টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে ৫ হাজার ৯৩০টি পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তা ছাড়া শেরপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, হবিগঞ্জ, সিলেট, ঝিনাইদহ, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে ১৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৯৩৫টি পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় রাজউক পূর্বাচল, ঝিলমিল এবং উত্তরা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় আবাসন প্রকল্পে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলো উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের লোকদেরও নাগালের বাইরে। পূর্বাচল, ঝিলমিল ও উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। এর বাইরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উচ্চমূল্য থাকায় দেশের বেশিরভাগ মানুষের এসব প্রকল্পের ফ্ল্যাট কেনার মতো সামর্থ্য নেই। প্রকল্পগুলোর সুবিধা পাচ্ছে শহরে বসবাসরত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সম্পদশালী ব্যক্তিরা। যাদের অনেক ফ্ল্যাট আছে, তারা আরও ফ্ল্যাট কিনছেন। কিন্তু বাস্তুহারা, দরিদ্র, নিম্নবিত্তরা সরকারি এসব আবাসন সুবিধার নাগাল পাচ্ছেন না। অল্প দামে জমি অধিগ্রহণ করে সরকার আবাসন প্রকল্প তৈরি করে যাদের নামে বরাদ্দ দিচ্ছেন, তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরের আয়তন দেশের মূল ভূখণ্ডের মাত্র এক শতাংশ। ১৯৭১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ১৮ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র দুই শতাংশ। ২০০০ সালে এ শহরের লোকসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখে। একটি বাসযোগ্য শহরের প্রতি একরে ৬০ জন বসবাস করতে পারে। সর্বোচ্চ মানদণ্ডেও এ সংখ্যা ১২০ জনের মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা শহরে গড়ে প্রতি একরে এখন ৮০০ মানুষ গাদাগাদি করে বাস করছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ১৩ গুণ বেশি। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবেও এ শহরে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭৫ লাখ পর্যন্ত মানুষ বসবাস করতে পারে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩০ হাজার ৪৭৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৯ হাজার ৩৫৩ জন মানুষ বাস করে। অর্থাৎ দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন ও জনসংখ্যা একসঙ্গে ধরলে ঢাকার গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০। সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লালবাগ, বংশাল, গেন্ডারিয়া ও সবুজবাগ এলাকায় প্রতি একরে ৭০০ থেকে ৮০০ জন মানুষ বাস করে। ঢাকার কিছু বস্তিতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বস্তিবাসীদের বড় অংশ গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের উপকূল এলাকার। আগে আসা আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন এবং মধ্যস্বত্বভোগী—এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষ ঢাকায় এসে বস্তিতে আশ্রয় নেয়। ঘরের ব্যবস্থা করে দেব, কাজের সুযোগ আছে, গার্মেন্টসে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব—এমন আশ্বাস পেয়ে অনেকেই ঢাকায় পা রাখেন। এতে বস্তিগুলোর একেকটি পাশ একেকটি অঞ্চলের ‘মিনি গ্রাম’ হিসেবে গড়ে উঠেছে। কোথাও রংপুরের আধিপত্য, কোথাও ভোলা-বরিশাল, কোথাও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ, আবার কোথাও কুমিল্লা-নোয়াখালী।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে আবাসনের বিষয়টি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়ন বা ঋণ সুবিধাও বেশ জটিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশে আবাসনের বিষয়টি সরকারের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। সব মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দায় থাকে।
তিনি বলেন, সরকার সব মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার কথা বললেও বৃহত্তর আবাসন নীতিমালায় শুধু দুস্থ, বিধবাসহ কয়েক শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে। সুন্দরভাবে বসবাস নিশ্চিত করতে সব মানুষের আবাসন নিয়ে ভাবতে হবে।
নগর বিশেষজ্ঞ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, দেশের আবাসন নীতি অংশগ্রহণমূলক নয়। এ কারণে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের সমাধান মিলছে না, দিন দিন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ দিনদিন বস্তিবাসী বা ভাসমান হয়ে পড়ছে। আর গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারছেন।
তিনি বলেন, সরকার শহর এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বলে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, এগুলোর কোনোটি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য হয়নি। বিপরীতে ধনীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ধনীদের জন্য নেওয়া প্রকল্পে একজনকে একটি ফ্ল্যাট দিয়েই আবাসন সমস্যার সমাধান করা যেত, সেখানে তাকে প্লট দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে অনেককে একাধিক প্লটও দেওয়া হয়েছে। আর গ্রামে দরিদ্রদের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় সেগুলো বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ যেন অপরিকল্পিতভাবে না হয়, সেজন্য মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আবাসন, সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।