আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন ছাত্রদল থাকতে পারত না, সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক এবং সাংবাদিক সমিতিগুলো ছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একমাত্র সহায়। কিন্তু ৫ আগস্টের পর এটা ভুলে গেছে। আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সমকালের প্রতিনিধি রাজুসহ চারজনকে মেরেছে। এর মধ্যে ডেইলি স্টারের ছেলেটাকে বেশি মেরেছে। একজন সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত শুনে হতভম্ভ হয়ে গেছি। ঘটনা হল, ছাত্রদল সহসভাপতি আহসান হাবিব ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস আম্মারকে খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, মববাজ, নিয়োগ বাণিজ্যকারী, অর্থ আত্মসাৎকারী কুলাঙ্গার আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেন।
এতে কমেন্ট করে রাকসুর সহসম্পাদক ও শিবির নেতা রাকিবুল লেখেন, ‘কার খুনের আসামি করলি? ক্লিয়ার কর। এগুলো ছাত্রলীগের বয়ান’।
এরপর শিবিরের রাকিবকে ম্যাসেজ পাঠান ছাত্রদলের নেতা আহসান হাবিব। তাতে লেখেন, (গালি) ছাল তুলে ফেলবো (গালি) আমারে চিনস? সৎ সাহস থাকলে লোকেশন বল তোর দেখা যাবে কে কার ...ছিঁড়ে ফেলে। ছাত্রলীগ, শিবির, বাম সব মিলেও এক আহসান হাবিবের (গালি) সামলাতে পারবি না, টোটাল ছাত্রদলের কথা বাদই দিলাম।’’
এর জবাবে রাকিবুল লেখেন, ‘‘ক্যাম্পাসেই থাকি। আজকে সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিবহন মার্কেটে আছি। একাই থাকব। যদি পারে কেউ রাকিবের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক।’’
এরপর শিবিরের রাকিবুল আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন। তিনি চলে চাওয়ার ছাত্রদলের আহসান হাবিব কিছু নেতাকর্মীসহ হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাটসহ আসেন। তা জানিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন।
এরপর শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস শিবিরের নেতা আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’
সেটা দেখে আহসান হাবিব এবং তার সঙ্গে নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়া হলের সামনে যায় জিএস আরিফুলকে মারতে। অস্ত্র দেখতে পেয়ে সমকাল ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে হামলা শুরু হয়। সমকালের রাজুকে লাঠি দিয়ে পেটায় আহসান হাবিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নেয়। বিডিনিউজের আরফিকে পেটায়।
তো এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছু করেনি? করেছে, প্রক্টর এসে সাংবাদিকদের এক রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে নিরাপত্তা দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবরে ডেইলি স্টারের মৃদুল ও আগামীর সময়ের জাহিদুল এলে তাদেরও মারা হয়। ভিডিওতে দেখলাম, ওদেরকে বেশি মারা হয়েছে। মৃদুলকে দেয়ালের সঙ্গে গলা পিটে ধরে পেটানো হয়। জাহিদের মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। চার সাংবাদিক এখন হাসপাতালে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, ‘বিষয়টি আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রক্টর মাহবুবুর রহমান দারুন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’
এই যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সহসভাপতি আহসান হাবিবের অস্ত্র নিয়ে ঘোরা, সাংবাদিকদের মারার এত সাহস হয়ে গেলো, এই হেডমটা ছিল কই ৫ আগস্টের আগে?২০১৮ সালে সিটি নির্বাচনে রাজশাহী ছিলাম দিন দশেক। ক্যাম্পাসে একজন ছাত্রদল নেতা খুঁজে পাইনি। সেবার নৌকার নির্বাচনী প্রচারে নিপীড়নক ছাত্রলীগ নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে আমার একটি নিউজ ছাপা হয়েছিল। এতে ছাত্রলীগের হুমকি ধামকি শুরু হয়েছিল। সেই ছাত্রলীগ নেতারা এখন বোধহয় দেশেও নাই। সাংবাদিকরা ছিল আছে থাকবে।