শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার পরবর্তী জবানবন্দি ৬ অক্টোবর গ্রহণ করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য এ দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার এ দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম ও সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে ৩০ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় সেদিন শুনানি মুলতবি করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে।
মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসান কীভাবে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ হয়ে ওঠেন, তার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
র্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, সে বিষয়েও সাক্ষীরা বর্ণনা দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
গত ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার নির্দেশ ও অনুমোদনে র্যাব সদস্যরা এসব অপরাধ সংঘটিত করেন বলেও অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
র্যাবে পদায়ন থেকে মেজর জেনারেল
প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র্যাবে পদায়নের পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
২০২৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে যাননি। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, প্রয়োজনীয় কোর্স, প্রশিক্ষণ, ব্যাটালিয়ন বা ব্রিগেড কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে এমন পদোন্নতি নজিরবিহীন বলেও দাবি করেছে প্রসিকিউশন।