রাজধানীতে তিন দিনের ব্যবধানে চার জায়গায় দখলচেষ্টা, অস্ত্রধারীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের আত্মীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এর আগে একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি আটতলা বাড়িতে অস্ত্রধারীদের হামলা ও দখলের চেষ্টা হয়। তার আগের রাতে সংরক্ষিত আসনের এক এমপির প্ররোচনায় মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হৈচৈ পড়ে যায়।
এসব ঘটনার কারণে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন বিএনপির নামে ‘চাঁদাবাজ’ ট্যাগ দিয়ে জামায়াত রাজনৈতিক ফায়দা তোলার মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা দখলচেষ্টা, অস্ত্রধারীদের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ এবং আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে। আইন শৃংখলা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে ফিরে ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই তিনি বলেছেন, ‘সরকারের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে’। অবশ্য সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে রেখে আইন শৃংখলা উন্নতি সম্ভব নয় দাবি করে এনসিপির আহবায়ক জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন। দ্রুত দেশে আইন শৃংখলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে সেটা এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে সম্ভব নয়। সারা দেশে একধরনের নৈরাজ্য, দেশে কোনো আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে ক্ষমতাসীনদের জন্য ‘অশনিসংকেত’ সতর্ক করে আত্মশুদ্ধির পরামর্শ দিয়েছে। টিআইবির এই উদ্বেগ ও পরামর্শ গুরুত্বসহকারে নিয়ে আইন শৃংখলা রক্ষা এবং দলের ভিতরে কিছু নেতার বেপরোয়াভাব ঠেকাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
এর আগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো ‘দলের কিছু খারাপ লোকের খারাপ কাজের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’ মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাস। বিএনপির বিরুদ্ধে দলের ভিতরেই অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনেক ষড়যন্ত্র হবে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই দলের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, আপনার বিরুদ্ধেও অনেক ষড়যন্ত্র হবে। আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন। বহু কর্মী আছে, নেতা আছে, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলে, কিন্তু বাইরে এসে ভালো কথা বলে না’।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আইন শৃংখলা রক্ষা এবং ক্ষমতাসীন দলের অসৎ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় ‘সরকার জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতার পর প্রথম চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। দলীয় নেতাদের লুটপাট, দেশজুড়ে চোরাচালান রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সমাজবিরোধী নেতাকর্মীদের দমন করতে তিনি ১৯৭৪ সালের ২৪ এপ্রিল সেনাবাহিনীকে অভিযানে নামিয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, বিদ্রোহ ঠেকানো ও অভ্যন্তরীণ নাশকতা মোকাবিলায় ১২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি ‘বিশেষায়িত স্পেশাল পুলিশ ফোর্স’ গঠন করে আইন শৃংখলা রক্ষা করেছিলেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালিয়ে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের অধীনে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করা হয়েছিল।
দেশের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ এবং দলের ভিতরে মাঠ পর্যায়ের কিছু নেতাদের চাঁদাবাজি ঠেকাতে সরকারের সে ধরনের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের খাদের কিনারে রেখে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একের পর এক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। তিনি বিদেশ সফরে গেলেই বিনিয়োগকারীদের আনার চেষ্টা করছেন এবং সফলতাও দেখাচ্ছেন। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি থাকলে তার সে সফলতা মøান হয়ে যাবে। তাছাড়া বিএনপিকে গণবিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াত-এনসিপি যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিএনপি চাঁদাবাজ’ প্রচার করছেন সেটা অসার প্রমাণ করতে হলেও আইন শৃংখলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতেই হবে।
ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দেড় যুগ ফ্যাসিস্টদের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। গুম, খুনের শিকার, কারাগারে কাটাতে হয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে। একদিকে ভয়ভীতি-হত্যা-নির্যাতন আর ব্যবসা বাণিজ্য কেড়ে নেয়ার হুমকি; অন্যদিকে টাকা পয়সা-পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দলত্যাগ করাতে পারেনি। তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শে প্রতিষ্ঠিত এবং বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া বিএনপি ছেড়ে যাননি। ২০২৪ সালের রেজিম চেঞ্জ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচনের মাধ্যমে দল ক্ষমতায় আসার পর ৭ মাসের মধ্যেই বিএনপির সেই নেতাকর্মীরা এতো বেপরোয়া? তিন মাস পর শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
প্রথমে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পরবর্তীতে উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনিতেই বৈশ্বিক সংকটের কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি অপর্যাপ্ততা; এর মধ্যে মন্ত্রী-এমপিদের অবহেলা ও আত্মীয়করণে মেতে উঠার প্রতিবাদে নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তাদের দখল, চাঁদাবাজির কারণে দলের নামে ‘দখলবাজ-চাঁদাবাজ’ ট্যাগ দেয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ফিরে আসার রাজনীতিতে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য ও বক্তব্য নেই। ফলে আওয়ামী লীগের যে ডিসেম্বরে ফিরে আসার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল তা হাওয়ায় মিশে যাবে।
এবারের স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত। দলটি ‘ইসলামী আদর্শের’লেবাসে রাজনীতি করলেও নিজেদের ‘দলীয় স্বার্থে’ যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে হিন্দুদের ভোটের জন্য হিন্দুদের পূজা ম-পে যেতে তাদের নেতাদের বাঁধেনি; ভোটের জন্য ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ রোজার সঙ্গে হিন্দুদের পূজার তুলনা করতে বাঁধেনি। ফলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের জন্য তারা আরো বেপরোয়াভাবে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে ভোটারদের নিজেদের দিকে টানবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারই শুরু ‘চাঁদাবাজ’ ট্যাগ। অথচ বেশির ভাগ মন্ত্রী-এমপি যেন ‘ক্ষমতা ভোগবিলাসে’ ব্যতিব্যস্ত। নিজেদের পরিবার-আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্যদের তারা চেনেন না। দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছিল তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ফলে দেড় যুগ ধরে বিপন্ন নেতাকর্মীরা আর্থিকভাবে সুবিধা আদায়ের যে যার মতো করে প্রচেষ্টা করে দলের ইমেজ মøান করে দিচ্ছেন।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশ সফরে গেলেই দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দখলচেষ্টা, অস্ত্রধারীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। সে সুযোগ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ক্ষমতাসীন বিএনপির নামের ‘চাঁদাবাজ ট্যাগ’ দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বট বাহিনী নামিয়েছে। রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (রাড্ডা ক্লিনিক) পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের আত্মীয় ও ঢাকার কয়েকটি মদের বারের মালিক নজরুল ইসলামের জামাতা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সালমান মুক্তাদির কন্টেইন ক্রিয়েটের নামে ব্লু ফ্লিম তৈরি করেন। তার পক্ষে জামায়াত ও এনসিপি মাঠে নেমেছে।
এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান গতকালও বিএনপির মন্ত্রীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করা যায় না। একটা সাপ ও একটা জামায়াত যদি আসে, তাহলে আগে জামায়াত সম্পর্কে সাবধান হবেন, তারপরে সাপটিকে মারবেন। সাপের চেয়েও হিংস্র জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দেশের এমন অঘটনগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াত ও এনসিপির ‘বট বাহিনী’ ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ‘বিএনপি সরকারের নামে চাঁদাবাজ’ ট্যাগ দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একটি ঘটনাকে ৩৫ সংক্রান্ত বিরোধ এবং আরেকটি ঘটনার সময় আইন শৃংখলা বাহিনী নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াত ও এনসিপির নির্বাচিত সরকারের ভাবমর্যাদা বিনষ্টের লক্ষ্যে ‘ব্যাপক প্রচারণা’ চালাচ্ছে এটা ঠিক; কিন্তু তিন দিনের ব্যবধানে রাজধানীকে চার জায়গায় দখলচেষ্টা, অস্ত্রধারীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এ তথ্য সঠিক। এসব ঘটনায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন এমপি’র নাম এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন টিআইবি বলেছে ‘এমন পরিস্থিতি বিএনপি সরকারের জন্য অশনি সংকেত’। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন ‘এসব গুরুতর অপরাধ সরকারের জন্য স্পষ্ট ওয়েক-আপ কল। অপরাধী যে দলের হোক না কেন, সরকারকে কঠোর হতে হবে, এখনি’।
জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টিমেন্ডার্স সাফল্য পেয়েছেন। চার দিনের নিউইয়র্কের ৩০ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন করে ‘সম্ভাবনা’র পথ খুলে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশে তখন দুই ডজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেশেই ছিলেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘কথাবার্তা’য় একাই একশ’। আইন শৃংখলা বাহিনী আদেশ-নির্দেশে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
অথচ রাজধানী ঢাকায় একের পর এক এমন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলো তিনি কিছুই করতে পারলেন না? বিএনপির ভাবমর্যাদা নষ্ট করা এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপর; তারা বিএনপির নামের সঙ্গে ‘চাঁদাবাজ-দখলবাজ’ ট্যাগ দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছে; অথচ বিএনপির উপস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই দুর্বল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো নিবিড় করে সে দেশের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বেশি বেশি করে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করছেন। ‘
সবার আগে বাংলাদেশ’ সেøাগানকে কার্যকর করতে করতে দলের যাদের বিরুদ্ধে কুচক্রী, দখলদারী, লুটপাটকারী, চাঁদাবাজি অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে প্রধানমন্ত্রীর কোনো অর্জনই কাজে আসবে না। দলের ভিতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দলের ভিতরে যত বড় এবং প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টকে সহায়তার অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে তাদের চেয়ার থেকে সরিয়ে দিলে দলের তেমন ক্ষতি হবে না; বরং দল রাহুমুক্ত হবে। অতীতে অনেক জাঁদরেল নেতা বিএনপি থেকে চলে গেছেন, তাতে দলের ক্ষতি হয়নি; বরং দল আগাছামুক্ত হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি যদি দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই দখলবাজি ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের আর সুযোগ তারা চাইলেও পাবেন না। এ অবস্থায় সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।