মেয়েকে কামড় দিয়েছে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার। তবে ভয় পেয়ে সাপটিকে মেরে ফেলা বা ফেলে পালিয়ে না গিয়ে, উল্টো সেটিকে প্লাস্টিকের বোতলে বন্দি করে হাসপাতালে ছুটলেন বাবা। এক কোলে বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিশু, অন্য হাতে বোতলবন্দি রাসেলস ভাইপার। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখে চমকে গেছেন উপস্থিত সবাই।
সন্তানের বাবার দাবি, সাপটি সঙ্গে আনলে চিকিৎসকদের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া সহজ হবে, কোন সাপে দংশন করেছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যাবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে দেখা যায় এই ঘটনা। রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আক্রান্ত শিশুর নাম মরিয়ম। সে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেনের ছোট মেয়ে।
শিশু মরিয়মের বাবা ও স্বজনরা জানান, বাড়ির সামনে খেলাধুলা শেষে ঘরে ফেরার সময় হঠাৎ মরিয়মের পায়ে কামড় দেয় রাসেলস ভাইপারের একটি বাচ্চা। সাপের কামড়ে চিৎকার করে ওঠে শিশুটি। মুহূর্তেই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
কামড়ের পর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে শিশুর বাবা মনির হোসেন রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে সাপটিকে খুঁজে বের করেন। সাহসিকতার সঙ্গে সেটি ধরে একটি প্লাস্টিকের বোতলে বন্দি করেন। এক হাতে কোলের সন্তান, অন্য হাতে বিষধর সাপ নিয়ে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে দ্রুত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই চিকিৎসকরা মরিয়মের চিকিৎসা শুরু করেন এবং তাকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা যায়।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক বলেন, রাসেলস ভাইপারের কামড় দেওয়ায় এখনই শিশুটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। তাকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সাপে কাটলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসাই সঠিক সিদ্ধান্ত।